Monday, April 14, 2014

আনন্দবাজার পত্রিকায় অতঃপর অন্তঃপুরে'র পুস্তক সমালোচনায় পবিত্র সরকার...


''প্রাতরাশ থেকে দিবা ও নৈশভোজন, প্রতিদিনকার খাবার থেকে বিবাহ ইত্যাদি উৎসবের আনুপূর্বিক খাদ্য, তৃপ্তিদায়ক খাদ্যগ্রহণের পর পান সেজে বাড়িয়ে দেওয়ার কথাও লেখিকা ভোলেননি। সেই সঙ্গে কেকের উপর আইসিং-এর মতো আছে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য, ছড়া, মেয়েলি গান থেকে নানা বিচিত্র খাদ্যের পদ্যবিবৃতি, যা সাহিত্য ও জীবনকে গভীর বন্ধনে জড়িয়ে নিয়েছে। আজকাল যাকে ‘সংস্কৃতি পাঠ’ বলে, এ বই যেন তারই এক রমণীয় নমুনা।


না, বইটি কোনও পাক-প্রণালী নয়, রেসিপি-তালিকাও নয়। বরং নিজেদের প্রিয় ও পছন্দসই, সময়োপযোগী ও উপলক্ষ-অনুযায়ী যাবতীয় খাদ্য প্রস্তুতের সমস্ত সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার বর্ণনা। '' 











Wednesday, April 02, 2014

মনও দে যৈবন দে, দুইট্টো ডানা লাগাই দে...

প্রায় প্রতিদিনই সকালে ঘুম ভাঙ্গে এক একটা গানের লাইন নিয়ে। কোনও গানের পরের লাইন মনে নেই। কোনও গানের সুর মনে আসে না শুধু কথাটুকুই মাথার ভিতর ঘুরপাক খায়। আজ যেমন এই লাইনটা। 'মনও দে যৈবন দে দুইট্টো ডানা লাগাই দে...' এই কথাটুকুই রয়েছে সুরসহ। তার পরে আর কিহু মনে বা মাথায় নেই।

একটু ভুল বললাম। এই লাইনটা, না ঠিক লাইনটা নয় আর আজ সকাল থেকেও নয়, কাল রাত থেকেই এই সুর আর এক নারীর মগ্ন হয়ে গাওয়া এই গান আর তার সঙ্গে স্বতস্ফুর্ত এক নাচের ছবিও দেখতে পাচ্ছিলাম। সেই ছবিতে আরও ছিল নাচের ছন্দে আর গানের সুরে উন্মাতাল কিছু মানুষের মুখ। কিছু মুখ চেনা, কিছু অচেনা। ছিল কিছু বন্ধুর মুখও।

বইমেলার মাঝামাঝি নাকি শেষের দিক। দিনশেষে বিকিকিনির হাট মিটলে যখন ঘরে ফেরার পালা তখন শুদ্ধ বলল, চল গান শুনতে যাই। পোলাপাইনেরা গান গাইবে। বাড়ি ফেরার তাড়া, ফেরার বাস না পাওয়ার চিন্তা সব সঙ্গে নিয়ে গেলাম শুদ্ধর পিহু পিছু। গুটি কয় ছেলে-মেয়ে সেখানে বাজনা-বাদ্যি সহ গান গাইছে। রয়েছে পার্থ ও আরও কয়েকজন। দেখলাম বাপ্পা বাজাচ্ছে। শমীকের বন্ধু বাপ্পা। বাপ্পার গান আর বাজনার গল্প অনেকবার শুনেছি, আমার তখনও শোনা বাকি। কি যেন বলে বাজনাটাকে, চৌকো মতন এক বাক্সো, তার উপরে বসে মগ্ন হয়ে বাজাচ্ছে বাপ্পা। অল্প কয়েকটি চেনা মুখও দেখতে পেলাম যদিও বেশিরভাগই অচেনা। একটা কোণ খুঁজে নিয়ে বসে পড়ি।

গান গাইছিল তিতাস। ওর গান আগে শুনিনি। নাম শুনেছি। অনেক কটা গান গেয়েছিল তিতাস। ভাল লাগছিল। এক কাপ কফি হাত বদল হচ্ছিল। ছোট্ট ভিড়টি থেকে একজন বললেন, 'মমও দে যৈবন দে হোক'।

কপালে বড় টিপ পরা এক নারী গানে ডুবে ছিলেন। অল্প অল্প দুলছিলেন গানের সঙ্গে সঙ্গে। কয়েকজন ঘুরে ঘুরে ততক্ষণে নাচতে শুরু করেছে। উনি গান ধরলেন। 'মনও দে যৈবন দে দুট্টো ডানা লাগাই দে।' প্রথমে বসে শুরু করলেন তারপর উঠে দাঁড়াইয়ে এবং তারপর নাচতে শুরু করলেন। প্রথমে একটু সচেতনভাবে তারপর এক সময় সব ভুলে গিয়ে নাচ্চলেন। গাইলেন। উপস্থিত সবাই তখন মন চাইছে, যৈবন আইছে আর দুইট্টো ডানা চাইছে। তিতাস আর তার সঙ্গের কয়েকজন মাঝের জায়গাটুকু ফাঁকা করে নিয়ে নাচছে, গলা মেলাচ্ছে 'আকাশে উড়িবা বিটি পিরিত বাকি হব, তুকে সঙ্গে করে লিব/ ওরে কানার বাঁশী লুইট্টে লিয়ে বেন্দাবনে যাব রে বিটি...'

গতকাল রাতে কাবলিদার বাড়িতে গিয়েই চোখে পড়ল বাপ্পার আফ্রিকান বাজনা 'জেম্বে'র পরে। মেলাশেষের আড্ডায় সেই যে বাপ্পা বাজনা নিয়ে এসেছিল, ওটা আর ফিরিয়ে নিয়ে যায়নি। মনে পড়ল, বাপ্পার ছেলে অসুস্থ। খোঁজ নেবার জন্যে ফোন করে একথা সেকথা। নানান কথা। আমার চোখে তখন ভাসছে হলদেটে আলোয় একদল ছেলে-মেয়ের নাচ, মগ্ন হয়ে গান গাইছেন এক নারী, কপালে তাঁর বড় টিপ। মনও দে যৈবন দে, দুইট্টো ডানা লাগাই দে...

Saturday, November 16, 2013

আমার সোনার ময়না পাখী, কোন দ্যাশেতে উইড়া গেলা রে, দিয়া মোরে ফাঁকি...

নভেম্বর মাস জুড়ে মৃত্যুর ছায়া। মৃত্যুর গন্ধ।

দিকে দিকে জগদ্ধাত্রীর আহবান। প্যান্ডেল। চন্দননগরের আলোশিল্পিদের সবটুকু উজাড় করে সাজিয়ে দেওয়া আলো। মাইকে হিন্দি সিনেমার আইটেম সঙ। কোথাও বা আগমনী। আসি আসি শীত। কুঁড়ি না মেলা ফুলকপি আর ল্যাজায় ফুল সমেত থোকা থোকা শিম।

এতসবকিছুর সঙ্গে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসে মৃত্যু। নিঃশ্বাসে বাতাস কম। সেরিব্রাল। কমজোরী হৃদপিণ্ড। পড়ে পাওয়া ভাঙ্গা হাত। নার্সিং হোম। ভেন্টিলেটার। যুদ্ধ চলে মৃত্যুর সঙ্গে।

সময়ের ভারে নুয়ে পড়া অশক্ত একটি মানুষ নেতাজীর মুর্তির পেছনের বাড়িটিতে বসে আজীবনের সঙ্গী মানুষটির অক্সিজেনের যোগান দেওয়ার চেষ্টা করে যায় আপ্রাণ। নিজের নিঃশ্বাসের বাতাসটুকুও দিতে পারলে সেটা দিতেও কার্পণ্য নেই। মৃত্যু বলে, আমি একটু ওদিক ঘুরে আসি, তুই আরেকটু বাতাস নিয়ে নে...

খুলে যায় ভেন্টিলেটর। হাসপাতালের শীতল মেঝেয় এক পা, দুই পা হাঁটা-হাঁটি। আশা জাগে মনে। এযাত্রায় বোধ হয় যেতে হল না...!

উৎসব উৎসব। নার্সিং হোমে ছুটির মেজাজ। ছুটিতে ডাক্তার। ছুটিতে নার্স। ছুটিতে আয়া। মরনাপন্ন রোগীকে অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন ডাক্তারের দল। পেশেন্ট পার্টি ভাবে, বুঝি বা মানুষটি সেরেই উঠলেন! নাকে নল, বোতলবন্দী বাতাস আর সার্বক্ষণিক অ্যাটেনডেন্ট। মাপা জল, মাপা সেদ্ধ ডাল-ভাত।

সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী। বিজয়া।  উৎসবে মত্ত মানুষ। রাস্তা-ঘাট বন্ধ। রাত্রি জুড়ে মানুষের ঢল। অক্লান্ত ঢাক আর মাইক। এই সমস্ত শব্দজট ছাপিয়ে সজোরে কড়া নাড়ে মৃত্যু।  চার দিন, চার রাত্তির সঙ্গী আগলে বসে থাকা অশক্ত মানুষটিকে পিছু হটিয়ে ক্রমশ হেরে যেতে থাকা মানুষটির দখল নেয় সে। এবং সঙ্গে নিয়ে যায়। 

অক্সিজেন সিলিন্ডারে তখনও বুড়বুড়ি কেটেই চলেছে বাতাস...

Tuesday, September 10, 2013

শূন্য থেকে শুরু হয়ে শূন্যেতেই যায় ফিরে

দিন বদলের পালা নাকি পালা বদলের দিন?
সে যাই হোক না কেন বৃত্ত যেন একটাই
ঘুরছে ফিরছে আবার ঘুরছে আবার ফিরছে
সময়ের যাঁতায় পিষছে হৃদযন্ত্র।
হৃদয় তো নয় যেন থার্মোমিটারের পারদ
সহস্র কুচিতে ছড়িয়ে পড়ছে
অদৃশ্য যাদুকাঠির পরশে জুড়ছে
আবার ভাঙছে। অবিরাম। অবিরত।

Sunday, September 08, 2013

ব্লগের ভাষা। ব্লগের মতন কথা...!!

আজ রবিবার। আমি রবিবারকে চিনতে পারি মাংস রান্নার গন্ধ দিয়ে। জানালা দিয়ে নানান রকম মাংসের গন্ধ উড়ে এসে জানান দেয়, আজ রবিবার। আজ ব্যতিক্রম। জানালা দিয়ে ভুরভুর করে ইলিশের গন্ধ আসছে। প্রথমে মাছ ভাজার গন্ধ তারপর ঝোলের গন্ধ। পাগলা, মনটারে তুই বাঁধ...!!

সপ্তার প্রতিদিনই আমার রবিবার। ছুটি। ছেলের জন্যে সকালবেলায় তাড়া করে মাঝে-মধ্যে একটু নাশতা কখনও সখনও বানিয়ে দিই। বেশির ভাগ দিনই সে নিজে নিজেই কিছু-মিছু একটা খেয়ে বা না খেয়ে বেরিয়ে যায়। রবিবার শান্তি। ভুল করেও কোনো তাড়া নেই।

বিরস দিন বিরল কাজ। এর মধ্যে কোনো সমারোহ তো দূর, চুপি চুপিও প্রেম আসে না। নিতান্তই অপ্রেমে দিন কাটে। রাত। রাত আসে ঘুমের বড়ি নিয়ে। স্বপ্ন আর দুঃস্বপ্নের তুমিময় রাত। ওষুধের ঘোর। সেই যে, সেই যে গো, ব্রেকডাউন হলো! তারপর আর
নেই কোনো ওভারহল।

গান-টানেরাও আজকাল চলে গেছে অনেক দূরে। কদাচিৎ ইউটিউব। দু-চারটে গান। ব্যস! একতারাটায় বোধ হয় ধুলো জমেছে... নাকি সে আর নেই কোথাও?? আসলেই কি ছিল কখনও স্বপ্ন ছাড়া অন্য কোথাও!...   গীতবিতান? থাক নাহয় সে বন্ধ...  তার উপর জমুক নাহয় কিছু সময়...

ইকড়ি মিকড়ি মোজাইকের দাগকাটা এক ঘর। মেঝেতে মাদুর পাতা। ঘরে বাতি জ্বলে না কোনো। চাঁদের আলোয় বিছানা ভেসে যায়। এ আমার গানঘর। এই ঘরে গান ফুরোয় না কখনও। আধখানা গান। সিকিখানা গান আর অনেক ক'টা গোটা গান। রয়েছে এমনকি এক লাইনের গানও। গান যেন না থামে কখনও! আমার এই গানঘরে গান থামে না। সুরে বা বে-সুরে খেলনা একতারাটা শুধু আমিই বাজাবো।


"ও গানওয়ালা, আরেকটা গান গাও, আমার আর কোথাও যাওয়ার নেই, কিচ্ছু করার নেই..."


মাঝে মধ্যে কিছু চিঠি লিখে রাখা। যেসব চিঠিরা কোনো ঠিকানায় যায় না। কোনো ঠিকানা আসলে নেইও কোথাও। চিঠিরা তাই বন্দী থাকে ড্রাফটের খাঁচায়। কেন লিখি? জানি না তো... 

অনেক কথা, অ- নে- ক কথা বলবার থাকে যে... সেই কথাগুলো না বললে যদি হারিয়ে যায়? এমন কিছু মূল্যবানও নয় সেই সব কথা, যা হারিয়ে গেলে কারো কোনো ক্ষতি হবে। কিন্তু এতকিছু, এত কিছু হারিয়েছে যে এখন টুকরো সব ভাবনাও অমূল্য মনে হয়। নাই থাকুক কোনো ঠিকানা, অন্তত লিখে তো রাখি...সব পাখি ঘরে ফেরে না, সব নদী যায় না মোহনায়, আমার চিঠিও যায় না কোনো ঠিকানায়।

আমার কোনো কবিতা নেই। নেই কোনো অমৌলিক ভাবনাজট। আমার গদ্যেরা সহসা আমার কাছে আসে না। ধরা দেয় না। থেকে যায় তোমারই মতন, অধরা। এতে কোনো মাধূর্য নেই। ক্ষিদের পেটে পৃথিবী গদ্যময়। 

এ ভরা বাদর, মাহ ভাদর। থেকে থেকে মেঘ জমে আকাশে। দ্রিমি দ্রিমি শব্দে মাদল বাজায় বাদল। বৃষ্টি। অঝোর ধারায় বৃষ্টিও হয়। আবার রাত পোহালেই রোদ। ঠা ঠা রোদ্দুর। বাতাসে ঘাম। তৃষ্ণায় বুক ফেটে যায়। একফোটা জলও নেই কোথাও।


টুকরো টুকরো ভাবনাগুলোকে জুড়ে দিলেই দিব্যি একটা ব্লগ হয়ে যায়। তাই না? ব্লগের ভাষা। ব্লগের মতন কথা...!!