Wednesday, June 17, 2020

এইসব সেরে গেলে আমি বাড়ি যাব


এই সব সেরে গেলে আমি বাড়ি যাব। আম্মার কাছে। অসুস্থ, বিছানায় শুয়ে থাকা মাকে আমি এক বচ্ছর দেখিনি। আমাকে দেখে আম্মা হাচড়-পাচড় করে ওঠার চেষ্টা করবে আর উঠতে না পেরে পান্নাকে ডেকে বলবে, শরবত বানাইয়া দ্যাও গ। আমাকে ডাকতে হলে আম্মা  তার তিন মেয়ের নাম আগে নেবে আর তারপর আমার নাম নেবে।

আগে আগে, আম্মা যখন সুস্থ ছিল, আমি অভিমান করতাম এই আমাকে ডাকতে গিয়ে আম্মা তার অন্য মেয়েদের নাম নেয় বলে। এখন আর অভিমান করি না। এখন আম্মা নিজেই অভিমান করে আর সারাদিন মেয়েদেরকে ডাকে। অ মণি। অ বাবলি। অই নান্নি। আমার নাম অবধি আসতে আসতে আম্মা ভুলে যায়, কাকে ডাকছিল, কেন ডাকছিল। আবার অন্য কিছুর জন্যে অন্য কাউকে ডাকে। কাউকেই না পেয়ে অভিমানে পাশ ফিরে শোয়।

এই সব সেরে গেলে আমি যখন বাড়ি যাব, আব্বা গাছ থেকে বাতাবী লেবু পাড়িয়ে আনাবে আর পান্নাকে বলবে ভর্তা বানিয়ে দিতে। টক খেতে পারি না বলে আমি খেতে না চাইলে আব্বা বলবে, খাও খাও,জাম্বুরা খুব উপকারি ফল, আর ভিটামিন সি খাইলে করোনা হইত না। আব্বা আর আমি বারান্দায় টুলের উপর বসে পোড়া লাল মরিচ গুঁড়ো করে বানানো জাম্বুরার ভর্তা খাব।

এই সব সেরে গেলে আমি যখন বাড়ি যাব, তখন আব্বা আমাকে বলবে, তুমার লাগি কুরবানির গরুর গোশত রাখসি ফ্রিজে, একদিন সরিষার তেল দিয়া  ভুনা কইরা খাওয়াইও। বাড়ি গেলে আব্বার বায়না থাকে একবেলা রেঁধে খাওয়ানোর এবং সেই একবেলাটা একবেলাই। তার পরে আর আমার রান্নাঘরে যাওয়ার অনুমতি থাকে না। আমি আব্বার জন্যে সর্ষের তেল দিয়ে মেখে-জুখে ঝাল ঝাল করে সেই কবে থেকে তুলে রাখা মাংস রান্না করব। আর খেতে বসে আব্বা বলবে, খুবই মজা হইসে। সরিষার তেল দিয়া গোশতো রানলে তার মজাই আলাদা।

এইসব সেরে গেলে আমি যখন বাড়ি যাব, তখন বাবলির সঙ্গে একদিন টুকটুকে করে গ্রামের ভেতর ঘুরতে যাব। ডাকবাংলোর সামনে নদীর ধারে গিয়ে চানাচুর আর চিপস কিনে খাব। নৌকা করে আম্মার বাপের বাড়ি যাব। গ্রামের কোনও চায়ের দোকানে বসে সিঙাড়া আর চা খাব। কোনও এক ফসলের মাঠের ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখব। রাতে বাবলি আমার জন্য বাইম মাছের ভুনা আর রাজহাঁসের মাংস রাঁধবে।

এই সব সেরে গেলে আমি বাড়ি যাব...

No comments:

Post a Comment