Monday, April 27, 2020

সবাই ভাল থাকুন

চার বছর পর আজ দু দিন খবরের কাগজ পড়ছি করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত খবরের জন্যে। টিভিতেও খবর দেখছি।

 পুরুলিয়া গেছিলাম নন্দিতার বাড়িতে, ছুটি কাটাতে। নন্দিতা এখন কাটোয়া থেকে পুরুলিয়ায়। সিধো কানহো ইউনিতে। দোলের ছুটিতে আমরা গেছিলাম সেখানে। অযোধ্যা পাহাড় আর হাস (আবার ভুলে গেছি চন্দ্রবিন্দু কি করে দেয়) আমার কাছে সমার্থক। যদিও মাঝপথে একটি দিশি মুরগি ছিল। কিন্তু একটি লেডিস টয়লেট খুজে  (আবার চন্দ্রবিন্দু) না পাওয়ার ফলে সে দিশি মুরগা বড়ই বিস্বাদ ঠেকেছিল। তো ফেরার পথে এক হাট।যদিও দু'দিন ধরে আমার চোখের সমুখে আর মাথায় নাচছিল চার কিলোর  আড়াই হাজারি  দিশি ষাড়া (আবার চন্দ্রবিন্দু)। কিন্তু রেস্ত না থাকায় সে শুধু গল্পেই থেকে গেল। মান রাখল সেই হাট। একটা হাস (চন্দ্রবিন্দু সহ পড়ুন), যা কিনা চিমসে আর আদ্ধেক পালক সমেত।

একবার ভাবলাম কিলো দুয়েক (ড্রেসড) কিনে নিয়ে ফ্রোজেন করে কলকাতায় নিয়ে আসি। (৪০০ পার কিলো)।  আবার ভাবলাম,থাক, যেখানকার যা। তো সবদিক বিবেচনা করে এক কিলো ব্যগস্থ হল(পরদিন ফেরার ট্রেন)। রাতে আর রান্না করতে ইচ্ছে করল না। কাঈফের দোকানের চিকেন বাটার মসালা, যা কিনা আদতে শুধুই মসালা, সেই দিয়েই আমার রাতের ক্ষুণ্ণিবৃত্তি। বাকিদের জন্যে অবশ্য অন্য ব্যবস্থা ছিল। সে যাই হোক।

পরদিন সেই হাস (আবার চন্দ্রবিন্দু) রান্না করতে গিয়ে আমার যাকে(উইথ চব্দ্রবিন্দু) মনে পড়ছিল, তিনি শরবত আলি (অতঃপর অন্তঃপুরে দ্রষ্টব্য)। আমি একটু নুন চাখতে গিয়েই বুঝতে পারলাম, এ যে সে হাস(হায় চন্দ্রবিন্দু) নয়, এ তো সেই শরবত আলির হাস (উইথ চন্দ্রবিন্দু)!

অনিবার্য কারণবশত বোকাকে ফিরে আসতে হয়েছিল ট্যুরের শুরুতেই, ফলে তার জন্যে কৌটোবন্দি হয়ে কলকাতা এল সেই হাস ( হায় চন্দ্রবিন্দু)। প্যাকেটবন্দি জিঞ্জার গার্লিক পেস্ট আর নো গরম মশলা দিয়ে রান্না। আমি অন্তত দু যুগ পর খেলাম এই স্বাদু হাস। স্যরি টু হরিণঘাটা

একদিন পর বাড়ি থেকে বেরোলাম। কলেজ স্ট্রিট। দিব্য লোকজন রয়েছে। দে'জে যথারীতি ভীড়। এবং ভীড় আমার যোগা ক্লাসেও। করোনা আতঙ্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে সবাই ব্যায়াম করছেন। যোগা ক্লাস থেকে ফেরার পথে আমি সাধারণত একবার তালতলা বাজারে যাই। সবজি কিনি, মুরগি কিনি।  আজ গেলাম না। ইচ্ছে করল না।

ছেলেটা ব্যঙ্গালোরে প্রায় গৃহবন্দি। ইউনিভার্সিটি বন্ধ অনির্দিষ্ট কালের জন্যে। খানিকটা স্বস্তি যে মেয়ে পুণেতে আছে, তার এই সপ্তাহটা ওয়ার্ক ফ্রম হোম (অফিস বম্বেতে)।      আমি বহুকাল বাদে খবর পড়ছি, টেলিভিশনেও দেখছি।

 দুপুরে পুইশাক (আবার চন্দ্রবিব্দু!) করেছি চিংড়ি আর মিষ্টি কুমড়ো দিয়ে। যদিও ফ্রিজে অনেক কিছু আছে কিন্তু একা বলে খেতে ইচ্ছে করল না।

 হটস্টারে তানাজি। ভাল লাগছে না। বিকেল থেকে পরপর হাচি ( আবার চন্দ্রবিব্দু!)।

সবাই ভাল থাকুন...





16.03.2020

No comments:

Post a Comment