Monday, April 27, 2020

করোনার কালে

গত পরশু সুমেরু দুধ কিনতে গিয়ে ফিরে এসেছে, এমনি দোকানে দুধ তো নেইই, মাদার ডেয়ারির বুথেও নেই। মাদার ডেয়ারি থেকে অবশ্য বলে দিল, দুধ চাইলে বিকেল ৫টায় আসবেন, তখন দুধের গাড়ি আসে, তবে দেরি হলে আর পাবেন না, ফুরিয়ে যাবে। তো বিকেল পাঁচটায় আর যাওয়া হয়নি, আমি কালো চা-ই খেতে লাগলাম।

আজকে দুধের কথা সুমেরুকে বলতে সে আর নীচে নেমে দোকানে যেতে রাজি হল না, তবে ওই মাদার ডেয়ারির দোকানে ফোন করল, এবং জানা গেল,  সব দুধ ফুরিয়ে গেছে! দোকানি ভদ্রলোক বলে দিলেন, বেলা একটায় গাড়ি আসবে, এসে নিয়ে যাবেন। সেই মতো আমি সোয়া একটা নাগাদ দোকানে গেলাম। পাড়ার দুটো দোকানের একটা বন্ধ, আর একটায় দুধ নেই বলে জানালেন দোকানি। রাস্তায় খুব একটা লোকজন নেই।

দোকানে গিয়ে দেখা গেল, দুধের গাড়ি এখনো আসেনি। যে ভদ্রমহিলা দোকান সামলান, তিনি বললেন, একটায় আসার  কথা, কিন্তু দুটোর আগে একদিনও আসে না। আমি সেখানেই অপেক্ষা করে দুধ নিয়েই আসব বলে ছায়া দেখে দাঁড়িয়ে পড়লাম। ইতোমধ্যে দোকানে এক ভদ্রলোক এলেন, তিনি ফ্রোজেন চিকেনের জন্যে আগে থেকে বলে রেখেছিলেন, নিতে এসেছেন। দেড় কিলো চিকেন (ওটুকুই ছিল দোকানে) নিলেন আর ডিম নিলেন দেড় ক্রেট। হ্যাঁ, দেড় ক্রেট মানে ৪৫টা ডিম। দু ক্রেট ডিমই ছিল দোকানে, বাকি পনেরোটা থেকে ১২টা আমি নিলাম, দোকানে রইল বাকি ৩টে।

দুধের গাড়ি যখন এল, তখন সঙ্গে সঙ্গে কোথা থেকে যেন কয়েকটা মোটর বাইক এসে হাজির হল, সবাই দুধ নেবে। মনে হল, দুধের গাড়ির জন্যে সবাই যেন অপেক্ষা করছিল এদিক সেদিক, গাড়ি আসতে দেখে সকলেই এসে হাজির হয়েছে একযোগে।  ৮ক্রেট দুধের জায়গায় দুধ এল ২ক্রেট এবং সঙ্গে সঙ্গে খালিও হয়ে গেল।

বাবুলালের দোকান থেকে এক প্যাকেট  গুঁড়ো দুধ কিনে বাড়ি ফিরলাম।

এই হল গিয়ে অবস্থা।।

No comments:

Post a Comment