Friday, May 17, 2019

"জীবন গিয়াছে চলি কুড়ি কুড়ি বছরের পার"

জীবন গিয়াছে চলি কুড়ি কুড়ি বছরের পার। কিছুদিন ধরে একটা টিভি সিরিয়াল দেখছি। ইন্টারনেট টিভিতে ১৮বছর আগেকার সিরিয়াল। তখন সদ্য তালাক, তখন জীবন সংগ্রাম, তখন, পুরনো অভ্যস্ত, নিরাপদ (?)জীবন  ছেড়ে নতুন জীবন নিয়ে প্রতিদিন লড়ে যাওয়া আর রাত্তিরবেলা টিভি দেখা। কেবল টিভিতে সিরিয়াল দেখা। স্মৃতি সততই সুখের নয় তবে সবটুকু দুঃখেরও নয়। রোমন্থনে ১৮বছরের পুরনো সিরিয়াল আবার করে ফিরে দেখা বোকা বোকা বটে কিন্তু মাঝে সাঝে এরকম বোকা বোকা কিছু করাই যায়। অন্তত আমি করি আর কি।

গত পরশুদিন একটা গ্লাস ভেঙে গেল আমার হাত থেকে। মানে ভাঙেনি ঠিক, ফেটে গেল। মায়ের দেওয়া গ্লাস। আমি যখনই বাড়ি যাই, মানে যেতাম আর কি, আম্মা আমাকে কিছু একটা দিত। কখনও একটা চায়ের মগ তো কখনও দুটো কোয়ার্টার প্লেট বা একটা গ্লাস। এমনি এমনি দিত না, আমি হয়তো বললাম, এই গ্লাসটা তো বড় সুন্দর আম্মা বা এই কোয়ার্টার প্লেটগুলো তো চমতকার! তখন আম্মা নিজেই সেই জিনিসটা কাপড় টাপড়ে জড়িয়ে আমার স্যুটকেসে রেখে দিত। সেবার দিয়েছিল এই গ্লাসটা। একটা গোল মতন মোটা কাচের গ্লাস। পরশু সন্ধেবেলায় বাড়ি ফিরে জল খেয়ে গ্লাসটা টেবিলে রাখতে গিয়ে হাত থেকে গড়িয়ে গেল টেবিলেরই উপর। আমি আবার সেটাকে তুলে সোজা করে রাখলাম। তখন বুঝতে পারিনি যে গ্লাসটাই গেল।

খানিক বাদে সুমেরু বলল, তোমার মায়ের গোল গ্লাসটা কে ফাটালো। ভীষণ কষ্ট হল ফাটা গ্লাসটা দেখে কারণ আমার মা আর হয়তো কখনও কোনওদিন আমাকে এরকম একটা গ্লাস বা একটা চায়ের মগ বা দুটো কোয়ার্টার প্লেট কাপড় মাপড়ে জড়িয়ে আমার স্যুটকেসে রাখবে না। ডিমেনশিয়ায় সব ভুলে যাওয়া মায়ের আমার পার্কিনসনস ডিজিজও হয়েছে যে। কেউ তুলে দিলে হুইল চেয়ারে বসে, কেউ ঠেলে দিলে বারান্দায় যায়...আমি আজ দু'দিন ধরে একটা ফেটে যাওয়া গ্লাসের জন্যে কাতর।

আরও কি কি সব লিখব ভেবেছিলাম, এখন আর মনে পড়ছে না। ডাক্তার অবশ্য বলেছেন ডিমেনশিয়া হওয়ার বয়স আমার হয়নি কিন্তু কত কি যে ভুলে যাই... শুধু হাসপাতালের বিছানায় ভেজিটেবলের মতো আম্মার পড়ে থাকাটা কিছুতেই ভুলতে পারি না...।

১৩.০৪.১৯

No comments:

Post a Comment