Saturday, April 07, 2018

জানালার ওপাশ থেকে কান্নার শব্দ ছাড়া আর কোনও শব্দ শোনা যায় না

অতীত-বর্তমান যখন সব ঘেঁটে যায় তখন শিশুটি স্কুলে গিয়ে আর ফিরে আসে না। ব্যাকুল দৃষ্টি পথে বিছিয়ে মা বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। দিনের পর দিন মাসের পর মাস গিয়ে বছর গড়িয়ে যায়, অপেক্ষা শেষ হয় না, নিরবধি কান্নায় চোখের কোলে ঘা। আহাজারিতে বাতাস ভারী।
পুকুরের ওপারের মাদ্রাসা থেকে কচিকন্ঠের সমবেত নামতা পাঠ ভেসে আসে-পাঁচ আটা চল্লিশ ছয় আটা আটচল্লিশ সাত আটা ছাপ্পান্ন আট আটা চৌষট্টি।

সময়-কাল গুলিয়ে গিয়ে বছর পঁচিশ আগে মরে যাওয়া দাদার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে আম্মা। মৃতের জন্যে প্রার্থনা করে আর চোখের জল ফ্যালে, যেন দুই যুগ আগে নয়, সদ্য মারা গেছেন দাদা।
বছর ছ-সাত বয়েসে প্রথমে বাবা পরে মা-কে হারিয়ে মামার বাড়িতে মানুষ হওয়া মা আমার সদ্য পিতা-মাতৃহীন হওয়া শিশুটির মতো কেঁদে চলে সারাদিন সারারাত।

জীবন গিয়াছে চলি ম্যালা ম্যালা বছরের পার। আম্মা চলে যায় কখনও কুড়ি তো কখনও তিরিশ তো কখনও তারও অনেক অনেক আগেকার কোনও সময়ে। কখনও কেঁদে ভাসায় তো কখনও কলকল করে বলে বাবা-মায়ের কথা। ভুলে যায় রক্তে অত্যধিক চিনির কথা। রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে নিজেই গুড় দিয়ে রস করে জ্বাল দেয় শুকনো বরই আর বাটি করে খায় সেই বরইয়ের সিরা। হাত থেকে কেড়ে নিলে পরে লুকিয়ে লুকিয়ে স্বাদ নেয় সেই কোনকালে পিছনে ফেলে আসা ছোটবেলার। পরদিন মাথা খারাপ হয়ে যায় চিনি মাপার যন্ত্রের। আম্মা নির্বিকার চিত্তে বেলুচিকে বলে খেত থেকে টমেটো এনে গুড় দিয়ে খাটা রাঁধতে।

No comments:

Post a Comment