Saturday, April 07, 2018

আনন্দবাজার পত্রিকায় পুবালি পিঞ্জিরা-র পুস্তক সমালোচনা

তাঁরাই বোনেন সমাজকাপড়ের টানাপড়েন
যশোধরা রায়চৌধুরী

কাউয়া কো কো, আমাগো বাড়িতে আজ শুভ নবান্ন।’ জীবনের একেবারে শুরুর দিকে কলকাতা শহরের কাঠখোট্টা বাতাবরণেই ছাতে উঠে নবান্নর চাল-ফলমাখা খাওয়াতে শিখিয়েছিলেন কাকেদের ডেকে, আমার দিদা। সেই সব দিদা, সেই সব মা-মাসিমারা, যাঁরা নিজেদের জীবনের একটা বড় অংশ কাটিয়েছিলেন পূর্ববঙ্গে, একেবারে প্রকৃতির বুকে, একটি ভরভরন্ত সমাজে। গ্রাম-শহরের দুর্লঙ্ঘ্য দূরত্ব তৈরি হয়নি তখনও। নিজেদের গ্রামীণ, কৃষি-কৃষ্টির শিকড় তখনও জলজ্যান্ত। কোথাও কোনও বিচ্ছেদ নেই, আম্বিলিকাল কর্ড কাটা মাতৃ-ছিন্নতার বোধ নেই।

তারপর আসে তাঁদের জীবনের ঝড়বিধ্বস্ত সময়গুলি। আসে দেশভাগ। মনের ভেতর শুধু থেকে যায় প্রাচীন সেই যুগবাহিত কৃষি ঐতিহ্য, জলজ ঐতিহ্য।

স্মৃতি মানুষের সংস্কৃতি। আত্মবিস্মৃত মানুষ পাষাণের মতো। আর এই স্মৃতিকথনের মধ্যে দিয়েই তাই রচিত হয় ইতিহাস। রাজারাজড়ার ইতিহাস নয়, ব্যক্তি-মানুষের, বিন্দু বিন্দু বেঁচে থাকার ইতিহাস। বহু আগে পড়েছিলাম আইকন হয়ে যাওয়া বই কল্যাণী দত্তর থোড়-বড়ি-খাড়া। কিছু দিন আগেই পড়েছি সুনন্দা শিকদারের দয়াময়ীর কথা। পড়েছি শান্তা সেনের পিতামহী।

মেমোয়ার নামের একটি খাঁচায় ঠিক আটকে রাখা যায় না এই গ্রন্থদের। মূল সুর অবশ্যই অতীতযাপন। কোন অতীত? সেই যে, সুস্বাদ কথ্যতার যে আবহমানতা আমাদের ছোটবেলায় ছিল, নারীপ্রজন্মগুলিতে, যাদের আজকের কেউ কেউ ‘পূর্বপুরুষ’-এর আদলে ‘পূর্বনারী’ও বলে থাকেন। ইতিহাসের বড় বড় অক্ষরে তাঁদের কথা লেখা হয় না। অথচ তাঁরাই বয়ন করেন সমাজকাপড়ের টানাপড়েন। তাঁরাই সুতো হয়ে ধরে থাকেন।

ইতিহাস এখন ধরা থাকে গোষ্পদে। রাজারাজড়াদের ইতিহাস বিগত এখন। সাধারণ মানুষের ইতিহাসের অঞ্চলটিতে আলো পড়ছে। যে ভাবে ছোট ছোট মানুষের অঞ্চলে, সে ভাবেই মানুষীদের অঞ্চলেও জমে থাকা জলগুলিতে মুখের ছায়া দেখে নিজেদের খুঁজে পাওয়ার সময় এখন। এমনই দুই প্রান্ত থেকে দু’টি বই এসে বেঁধে দিল গিঁট। সাধারণ মানুষের জীবনের ছোট ছোট কথার ভেতর দিয়ে একটা গোটা সময় উঠে আসছে। দুই বইতেই। দু’ভাবে।

পুবালি পিঞ্জিরা-র মধ্যে পাই বহুস্তরীয় একটি কথন। এক দিকে খুঁটিনাটিতে ক্লোজ-আপ দেখি মুসলিম অন্তঃপুরের এক জটিল সূক্ষ্ম ছবি। পরনের কাপড়, ব্যবহার্য আসবাব এবং অনেক তৈজসপত্রের বিবরণের পাশাপাশি পাই, মুরগির ডিম রক্ষা করে, মুরগিকে তা দিতে প্ররোচিত করে ফুটিয়ে বাচ্চা করানোর অথবা পোষা মেনি জরিনা বিবির ইতিবৃত্ত। একটা পরিবারে মানুষের সঙ্গে গাছপালার, মানুষের সঙ্গে পশুপাখির জড়াজড়ি করে থাকার নিখুঁত ছোট ছোট আঁচড়।

দ্বিতীয় এক তলে, মিড শটে ইতিহাস-কথা-গল্প-কিংবদন্তির তিতাসপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কথা, চট্টগ্রামের কথা। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ধর্মভীরু মুসলমানের অত্যন্ত ধীর, নিরুচ্চার, মানবিক, যাপিত জীবন। তার অন্তঃপুরের কথা এক অদ্ভুত ছলাচ্ছল জলের মতো গদ্যবাংলায়।

তৃতীয় তলে, এক লোক সংস্কৃতির যাত্রাপালার পাশাপাশি, অন্ত্যজ গানে-গল্পে বুনে তোলা বিয়ে-শাদি-সন্তানজন্ম-প্রেম-ধর্মাচরণ-রান্নাবান্নায় গাঁথা সমাজের বয়ান, হেঁশেলনামা, পাখিশিকার, মাছধরা, মেয়েলি পাঠের বই ছাড়াও এ এক বিপুল বিচ্ছেদ-বেদনার বইও। ওয়াইড অ্যাঙ্গেলে যেন ধরা রইল, যে সমাজ আর ফিরে আসে না, আশির দশকের পরবর্তী পাল্টে পাল্টে যাওয়া বাংলাদেশি সমাজের প্রেক্ষিত থেকে পিছনে তাকানো এক সবুজ, নরম, অতি করুণ, আপাতস্বাধীন, সচ্ছল অতীতকথন। যা হারায়, তা কেবলই হারায়। আর পাশাপাশি চিরমানবিক সে সব বেদনাগাথাও লিখে রাখে। সন্তান হারানো মায়ের কান্না অথবা শ্বশুরঘরে মেয়েকে ছেড়ে আসা পাগলিনী মায়ের কষ্ট।

‘‘সমাজ অন্তঃপুরবাসিনীর সামনে যত বড় আয়নাই আঁকতে পছন্দ করুক তার পটে এখনো খেলা করে জিন-পরীদের আসর, অন্তরমহলের কানাকানি, পাগল পড়শি, মাজারে নেশাড়ুদের গানবাজনা, যাত্রাদলে পালানো যুবক, নিজের শরীর চেনা, শিশুমৃত্যু, দাই...ওঝা...ধর্মান্ধতা...’’ (প্রথম ভেতর-প্রচ্ছদের একাংশ)। আর সেই কথাই পুরনো ছাপাই ছবি আর নতুন লিনোকাটের সাজে সাজে মুখর করে উপহার দেওয়া হয়েছে ২৭৯ পাতার বইতে। ছাপাই ছবিগুলোর পাশাপাশি গম্ভীরা গান, তালুকদারের গীত, সিরাজগঞ্জের মেয়েলি গীত, ময়মনসিংহের পালাগান। এই সব মণিমুক্তো তুলে আনার পাশাপাশি ঘরোয়া আসবাব, তৈজসপত্রের বিবরণ মুহূর্তে টেনে নেয় অতীতের বসবাসে। দূরের বসবাসেও।

এই বই থেকেই জানি, হিন্দু ঘরে মা-ষষ্ঠীর ব্রতপালনের জন্য পোষা বেড়ালের প্রতি মায়া-মমতার মতোই মুসলিম ঘরেও সন্তানবতী নারীর পশু সংরক্ষণের ঐতিহ্য। প্রচলিত স্টিরিওটাইপের বাইরে দেখতে শিখি কত না যত্নময় শাশুড়িকে, বউমার প্রতি স্নেহবশ। (মূল লেখার অংশ)

পুবালি পিঞ্জিরা। সামরান হুদা। গাঙচিল, ৪৫০.০০
শনিবার, ৯ জুলাই, ২০১৬ । আনন্দবাজার পত্রিকা

আনন্দবাজার পত্রিকায় স্বাদ সঞ্চয়িতা-র পুস্তক সমালোচনা

http://www.anandabazar.com/supplementary/pustokporichoi/book-review-of-an-important-book-about-cooking-1.633296?ref=pustokporichoi-ft-stry

বাঙালির রান্নার স্বাদ-গন্ধ
শান্তা সেন

বাঙালি জাতির বেঁচে থাকার ধরনে অঞ্চলবিশেষে গড়ে ওঠে রান্না-খাওয়ার কত বৈচিত্র। মূলত কুমিল্লা ও চট্টগ্রামকে ঘিরে তার গ্রাম ও শহুরে জনপদের দৈনন্দিন রান্নাঘরের বিস্তারিত এক বিবরণ উপস্থিত করেছেন সামরান হুদা তাঁর স্বাদ-সঞ্চয়িতা বইটিতে। সেই আঞ্চলিক রান্না-খাওয়ার কথার মধ্যেই আবার ফুটে ওঠে সমগ্র বাঙালি জাতিরই খাদ্যাভ্যাসের মূল চরিত্র— এই নদীমাতৃক ভূমিতে শস্য শাক সবজি ফল ও মাছের সমন্বয়েই তো তৈরি হয়ে ওঠে তার প্রতিদিনের মুখে তোলার কত পদ। সাধারণ গ্রামীণ মানুষ, মধ্যবিত্ত গৃহস্থ এবং সম্পন্ন পরিবারেও কত ভাবে কী রান্না করা ও খাওয়া হয়— তার খুঁটিনাটি পরিচয় এই বইটিতে উপস্থিত করেছেন লেখক। তবে কোনও ভাবেই রন্ধনশৈলী বা রেসিপি উপস্থিত করার লক্ষ্যে তা লেখা হয়নি। সমগ্র বইটি জুড়ে আছে এক পরিভ্রমণের আনন্দ— কৌতূহলী ও অনুসন্ধিৎসু এক রসনারসিকের হাত ধরে পাঠক বাঙালির চিরাচরিত রান্না-খাওয়ার আঙিনায় ঘুরে বেড়াতে থাকবেন তার একান্ত নিজস্ব স্বাদ-গন্ধ নিতে নিতে।

‘সূচিকরণ’ নাম দিয়ে লেখক তাঁর বিষয়কে সাজিয়েছেন খাদ্যবস্তুর স্বাদকে অনুসরণ করে। রসনা-স্বাদে যে ছয়টি রসের কথা বলা হয় প্রায় সে ভাবেই তিনি তেতো নুন ঝাল টক ইত্যাদির সবিস্তার আলোচনা করেছেন, বলেছেন শাকের কথা। প্রথমেই তেতো খাওয়া বাঙালির রীতি, তাই তাঁর বিষয়ের সূচনা করলার নানা স্বাদের রান্না নিয়ে, নিমপাতা আর রকমারি সুক্তোর কথায়। এর পরেই অবশ্য তাঁর মন্তব্য, ‘যত সুস্বাদু খাবারই হোক না কেন, নুন না দিলে সব মাটি।’ নুনের কথা বলতে তাঁর লেখায় এসে যায় মুখ্যত নোনা ইলিশ, শুঁটকি মাছ, নানা রকম ভাত আর পান্তা ভাতের কথা। কত রকমেই যে পান্তা খাওয়া হয়— পেঁয়াজ-শুকনো লঙ্কা পোড়া আর নুন, সঙ্গে শুঁটকির ঝাল ঝাল ভর্তা, বৈষ্ণবদের ভোগ পান্তার সঙ্গে দই চিনি ও শাকের তরকারি দিয়ে, গ্রামের মানুষ গরমকালে পান্তা খান পাকা আম আর দশ-বারোটা কাঁঠালের কোয়া দিয়ে। জানা হয় মাদারিপুর জেলার ‘কাজির ভাত’-এর কথা— সাত দিন ধরে জলে ভেজানো টক গন্ধ ছড়ানো চাল দিয়ে যা রান্না হয়, আবার বগুড়া অঞ্চলের বিশিষ্ট ধরনে তৈরি পান্তা ‘বকনি’ খেতে গরমকালে মেয়েরা বাপের বাড়ি যায়। গ্রামের মানুষের কাজকর্মের জীবনে পান্তা কী ভাবে জড়িয়ে থাকে তা শহুরে বাঙালির নিতান্ত অজানা। সামরান এ ভাবে ব্যাপক লোকায়ত জীবনের একটি খাদ্যাভ্যাসের কথা পাঠকের গোচরে আনেন।

‘জলের ভেতর লেখাজোখা’ অধ্যায়টি শুরু একটি পুকুর আর গাছগাছালিতে ভরা গ্রামের বর্ণনা দিয়ে। এই জলময় ভূমি থেকে পাওয়া যায় কত রকমের শাক, হেলেঞ্চা আর কলমি তো বটেই, শুনি ডেঙ্গার ডাঁটা আর শাকের কথা, সাচি (যার ভাল নাম নাকি ‘শালিঞ্চ’), পাটপাতা, মুলোশাক, উষনি, লাফা, টেপেরাই, ঠুনিমানকুনি, সুষনি— আরও অনেক নাম। যে মানুষেরা এই শাক খান, যে ভাবে রান্না হয়, তাকে খেত থেকে তোলা হয়, আর গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই কাজে মন দেন— তার বিবরণে গ্রামের জীবন জীবন্ত হয়ে ধরা দেয়। পাতার পর পাতা জুড়ে যে সব শাকের কথা তার সব কিছুতেই আবার শুঁটকি, সিদল শুঁটকি, কোথাও টাকি মাছের ভর্তা যুক্ত হয়।

ঝালের প্রসঙ্গে এসে সামরান যেন এই স্বাদটির বিশেষ মহিমার কথাই বলেন কিছু গল্পকথার মধ্য দিয়ে। লঙ্কা খাওয়ার কথা তো আছেই, আছে লঙ্কা গাছেরও অসাধারণ বর্ণনা কয়েকটি বাক্য জুড়ে। পরিশিষ্টে আসে অম্লমধুর মোরব্বা আর আচারের কথা। পরিবারের কর্মরত নারীদের শ্রমে ও সযত্ন মনোযোগে তৈরি মোরব্বার কথায় গৃহজীবনের একটি ছবি ভেসে ওঠে যা এখন লুপ্তপ্রায়। বিপুল তথ্য ও নিপুণ পর্যবেক্ষণ নিয়ে লেখা এই বইয়ের কয়টি অধ্যায়, এসেছে ইতিহাসের সূত্রও, যুক্ত হয়েছে অজস্র মেয়েলি ছড়া, সারিগান ও নানা লোকগীতি, বিজয়গুপ্ত, মুকুন্দরাম, বৃন্দাবনদাস, কৃষ্ণদাস প্রমুখের রচনার উদ্ধৃতি। সব কিছু নিয়ে এটি একটি গবেষণাগ্রন্থই হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও এতে নেই গবেষণার নৈর্ব্যক্তিকতা, নেই বিষয়ের গুরুভার। নানা প্রসঙ্গে এসেছে টুকরো গল্পকথা, ছড়িয়ে আছে চারপাশ থেকে তুলে আনা সাধারণ ও সামান্য মানুষের চরিত্র, যা অন্তরঙ্গ ও হৃদয়গ্রাহী। ব্যক্তিগত অসংখ্য অভিজ্ঞতা এক সরস মন নিয়ে লেখার ফলে আদ্যন্ত সজীব এই বিবরণ। এ বই পড়ার শেষে পিৎজা বার্গার চাইনিজ তাইফুড মন থেকে সরে গিয়ে জলকাদাময় এই ভূখণ্ডে শস্যখেত, সাধারণ মানুষ আর প্রকৃতির দানে ভরে ওঠা খাদ্যসম্ভারের কথায় প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠে বাংলা নামের চিরকালের এক দেশ। তাই মলাটে চিনেমাটির ডিশের উপর সাজানো কাঁটার সারি একটু বেমানান নয় কি? এ ছাড়া আছে মাহবুবুর রহমান চিত্রিত অজস্র স্কেচ, তাতে চর্চিত সারল্য ও কাল্পনিকতার যে কৌতুকময় প্রকাশ তা হয়তো অনেকেই উপভোগ করবেন।

জানালার ওপাশ থেকে কান্নার শব্দ ছাড়া আর কোনও শব্দ শোনা যায় না

অতীত-বর্তমান যখন সব ঘেঁটে যায় তখন শিশুটি স্কুলে গিয়ে আর ফিরে আসে না। ব্যাকুল দৃষ্টি পথে বিছিয়ে মা বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। দিনের পর দিন মাসের পর মাস গিয়ে বছর গড়িয়ে যায়, অপেক্ষা শেষ হয় না, নিরবধি কান্নায় চোখের কোলে ঘা। আহাজারিতে বাতাস ভারী।
পুকুরের ওপারের মাদ্রাসা থেকে কচিকন্ঠের সমবেত নামতা পাঠ ভেসে আসে-পাঁচ আটা চল্লিশ ছয় আটা আটচল্লিশ সাত আটা ছাপ্পান্ন আট আটা চৌষট্টি।

সময়-কাল গুলিয়ে গিয়ে বছর পঁচিশ আগে মরে যাওয়া দাদার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে আম্মা। মৃতের জন্যে প্রার্থনা করে আর চোখের জল ফ্যালে, যেন দুই যুগ আগে নয়, সদ্য মারা গেছেন দাদা।
বছর ছ-সাত বয়েসে প্রথমে বাবা পরে মা-কে হারিয়ে মামার বাড়িতে মানুষ হওয়া মা আমার সদ্য পিতা-মাতৃহীন হওয়া শিশুটির মতো কেঁদে চলে সারাদিন সারারাত।

জীবন গিয়াছে চলি ম্যালা ম্যালা বছরের পার। আম্মা চলে যায় কখনও কুড়ি তো কখনও তিরিশ তো কখনও তারও অনেক অনেক আগেকার কোনও সময়ে। কখনও কেঁদে ভাসায় তো কখনও কলকল করে বলে বাবা-মায়ের কথা। ভুলে যায় রক্তে অত্যধিক চিনির কথা। রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে নিজেই গুড় দিয়ে রস করে জ্বাল দেয় শুকনো বরই আর বাটি করে খায় সেই বরইয়ের সিরা। হাত থেকে কেড়ে নিলে পরে লুকিয়ে লুকিয়ে স্বাদ নেয় সেই কোনকালে পিছনে ফেলে আসা ছোটবেলার। পরদিন মাথা খারাপ হয়ে যায় চিনি মাপার যন্ত্রের। আম্মা নির্বিকার চিত্তে বেলুচিকে বলে খেত থেকে টমেটো এনে গুড় দিয়ে খাটা রাঁধতে।