Monday, March 30, 2015

আজকালএ অতঃপর অন্তঃপুরের রিভিউ

http://www.aajkaal.net/07-06-2014/news/222269/

‘মাঝারি আকারের ট্রের মধ্যে একরাশ ইলিশ তাও সব গোটা গোটা৷‌ সেই ট্রে থেকে চ্যাপ্টা হাতার সাহায্যে আস্তে করে থালায় ঢেলে দিল গোটা একটা ইলিশ! আকারে বেশি বড় নয়, কিন্তু তাও তো গোটা! জালে ধরা পড়ার সময়েই তারা ছিল ছয় থেকে সাতশো গ্রাম ওজনের৷‌ ....৷‌ প্রত্যেকের থালার পাশে রাখা ছুরির দিকে ইশারা করে হাসিমুখ শ্যালিকাটি বললেন, ছুরি দিয়ে কাটি কাটি খান৷‌ অবাক দৃষ্টিতে তাকালাম৷‌ ছুরি দিয়ে কেটে খাবে ইলিশ মাছ! পরিবেশনকারিণী তখন ইলিশ রান্নার বিবরণ দিলেন৷‌ এ আমাদের রেঙ্গুনের রান্না৷‌ এই মাছ খাইতে আপনাদের কাঁটা বাছি খাইতে হবে না, চাবাই চাবাই খাই ফ্যালেন৷‌ কাঁটা লাগব না৷‌ ভয়ে ভয়ে খানিকটা মাছ ভেঙে মুখে দিতেই জিভে যেন আপনা থেকেই সব গলে গেল! হালকা টক স্বাদ পেলাম৷‌ শুনলাম রাতভর সিরকায় জারিয়ে রাখার পর ঘণ্টা কয়েক সময় লেগেছে এক একটা ইলিশ রান্না করতে! মশলা বলতে আদা-রশুনের রস আর খানিকটা টম্যাটো বাটা৷‌ তরিবত আর এমনি মেহনত করে রান্না করা যে তাতে কোনও কাঁটাই আর অবশিষ্ট নেই৷‌’ পাঠকের হাতে এভাবেই ইলিশ হাজির করেছেন সামরান হুদা৷‌ এর পর ‘অতঃপর অম্তঃপুরে’ বইটির পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টে যেতে যেভাবে উঠে এসেছে তাঁর স্মৃতি, তা এইরকম: ১৷‌ শীতকাল মানেই তো ময়মনসিংহ জেলার অষ্টগ্রামের পনির৷‌ ২৷‌ বিরল ভাতের সঙ্গে মাঝে মধ্যেই খাওয়া হত বকের মাংস৷‌ ছোট কানি বগা, বড় আর ধবল টগবগা, বিশালাকারের ধনেশও কখনও-সখনও আমাদের সকালের নাস্তায় যোগ হত৷‌ ৩৷‌ শরবত আলি যে শুধু সাইবেরিয়ান ডাক বা পরিযায়ী পাখি দিয়ে যেত তা নয়৷‌ দেশি হাঁস-মুরগিও সে দিয়ে যেত৷‌ ৪৷‌ আব্বার ভীষণ পছন্দ শুঁটকি মাছ৷‌ সে যে কোনও মাছেরই শুঁটকি হোক না কেন...৷‌ লাক্কা লাক্কা মাছের শুঁটকি প্রথম যেদিন এল, সে দেখে ভয়েই অস্হির আমরা৷‌ অত বড় একটা শুকনো মাছ, মরা শুকনো চোখ মেলে তাকিয়ে আছে আর শুকনো দাঁত সর্বক্ষণ খিঁচিয়েই আছে যেন! গোটা একটা লাক্কা মাছের শুঁটকি দেখে আম্মা প্রথমেই এক প্রস্ত চেঁচিয়ে নেয় আব্বার পরে, কেন অত বড় একটা মোটা শুঁটকি মাছ কেনা হল৷‌ আব্বা ততক্ষণে লেগে পড়েছে কুড়ুল দিয়ে সেই শুঁটকি মাছ কাটায়৷‌ কুপিয়ে কয়েক ভাগ করে আব্বা বলে, ‘একলা খামু নিহি, হগ্গলেরে দেওন লাগত না?’ তাই সামরান হুদা-র পেছনে ফেলে আসা জীবনের স্মৃতির দিনগুলি, রাতগুলি এমনই রা কেড়ে নেওয়া৷‌ জন্ম তাঁর সিলেটের ঝর্নার পাড়ে৷‌ বড় হওয়া সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের সুর্মা নদী আর তার আশপাশে ছড়ানো পাহাড়ি টিলায়৷‌ প্রতিটি ছুটির দিনে দেশের বাড়ি তিতাস-পাড়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাওয়া৷‌ ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে আসা সেই সামরান হুদা-র বইয়ের পাতায় বাংলাদেশের জীবনচরিত মানস ছবির মতো উঠে এসেছে সামরানের এই বইয়ের পাতায় পাতায়৷‌ ‘অতঃপর অম্তঃপুরে’ বইটি এক দিকে যেমন হারানো বাংলাদেশকে চোখের সামনে বিল-সহ শাপলা ফুলের মতো জীবম্ত করেছে, তেমনই সিলেটের আখ্যান-এর খুশবুও যেন সারা বই জুড়ে৷‌ উৎসর্গের পাতায় সামরান লিখেছেন, ‘প্রিয় পাঠক, তোমায় দিলেম৷‌’ হ্যাঁ, সামরান আপনার লেখা আমরাও মনের মণিকোঠায় নিলেম৷‌

-07-06-2014

No comments:

Post a Comment