Wednesday, April 02, 2014

মনও দে যৈবন দে, দুইট্টো ডানা লাগাই দে...

প্রায় প্রতিদিনই সকালে ঘুম ভাঙ্গে এক একটা গানের লাইন নিয়ে। কোনও গানের পরের লাইন মনে নেই। কোনও গানের সুর মনে আসে না শুধু কথাটুকুই মাথার ভিতর ঘুরপাক খায়। আজ যেমন এই লাইনটা। 'মনও দে যৈবন দে দুইট্টো ডানা লাগাই দে...' এই কথাটুকুই রয়েছে সুরসহ। তার পরে আর কিহু মনে বা মাথায় নেই।

একটু ভুল বললাম। এই লাইনটা, না ঠিক লাইনটা নয় আর আজ সকাল থেকেও নয়, কাল রাত থেকেই এই সুর আর এক নারীর মগ্ন হয়ে গাওয়া এই গান আর তার সঙ্গে স্বতস্ফুর্ত এক নাচের ছবিও দেখতে পাচ্ছিলাম। সেই ছবিতে আরও ছিল নাচের ছন্দে আর গানের সুরে উন্মাতাল কিছু মানুষের মুখ। কিছু মুখ চেনা, কিছু অচেনা। ছিল কিছু বন্ধুর মুখও।

বইমেলার মাঝামাঝি নাকি শেষের দিক। দিনশেষে বিকিকিনির হাট মিটলে যখন ঘরে ফেরার পালা তখন শুদ্ধ বলল, চল গান শুনতে যাই। পোলাপাইনেরা গান গাইবে। বাড়ি ফেরার তাড়া, ফেরার বাস না পাওয়ার চিন্তা সব সঙ্গে নিয়ে গেলাম শুদ্ধর পিহু পিছু। গুটি কয় ছেলে-মেয়ে সেখানে বাজনা-বাদ্যি সহ গান গাইছে। রয়েছে পার্থ ও আরও কয়েকজন। দেখলাম বাপ্পা বাজাচ্ছে। শমীকের বন্ধু বাপ্পা। বাপ্পার গান আর বাজনার গল্প অনেকবার শুনেছি, আমার তখনও শোনা বাকি। কি যেন বলে বাজনাটাকে, চৌকো মতন এক বাক্সো, তার উপরে বসে মগ্ন হয়ে বাজাচ্ছে বাপ্পা। অল্প কয়েকটি চেনা মুখও দেখতে পেলাম যদিও বেশিরভাগই অচেনা। একটা কোণ খুঁজে নিয়ে বসে পড়ি।

গান গাইছিল তিতাস। ওর গান আগে শুনিনি। নাম শুনেছি। অনেক কটা গান গেয়েছিল তিতাস। ভাল লাগছিল। এক কাপ কফি হাত বদল হচ্ছিল। ছোট্ট ভিড়টি থেকে একজন বললেন, 'মমও দে যৈবন দে হোক'।

কপালে বড় টিপ পরা এক নারী গানে ডুবে ছিলেন। অল্প অল্প দুলছিলেন গানের সঙ্গে সঙ্গে। কয়েকজন ঘুরে ঘুরে ততক্ষণে নাচতে শুরু করেছে। উনি গান ধরলেন। 'মনও দে যৈবন দে দুট্টো ডানা লাগাই দে।' প্রথমে বসে শুরু করলেন তারপর উঠে দাঁড়াইয়ে এবং তারপর নাচতে শুরু করলেন। প্রথমে একটু সচেতনভাবে তারপর এক সময় সব ভুলে গিয়ে নাচ্চলেন। গাইলেন। উপস্থিত সবাই তখন মন চাইছে, যৈবন আইছে আর দুইট্টো ডানা চাইছে। তিতাস আর তার সঙ্গের কয়েকজন মাঝের জায়গাটুকু ফাঁকা করে নিয়ে নাচছে, গলা মেলাচ্ছে 'আকাশে উড়িবা বিটি পিরিত বাকি হব, তুকে সঙ্গে করে লিব/ ওরে কানার বাঁশী লুইট্টে লিয়ে বেন্দাবনে যাব রে বিটি...'

গতকাল রাতে কাবলিদার বাড়িতে গিয়েই চোখে পড়ল বাপ্পার আফ্রিকান বাজনা 'জেম্বে'র পরে। মেলাশেষের আড্ডায় সেই যে বাপ্পা বাজনা নিয়ে এসেছিল, ওটা আর ফিরিয়ে নিয়ে যায়নি। মনে পড়ল, বাপ্পার ছেলে অসুস্থ। খোঁজ নেবার জন্যে ফোন করে একথা সেকথা। নানান কথা। আমার চোখে তখন ভাসছে হলদেটে আলোয় একদল ছেলে-মেয়ের নাচ, মগ্ন হয়ে গান গাইছেন এক নারী, কপালে তাঁর বড় টিপ। মনও দে যৈবন দে, দুইট্টো ডানা লাগাই দে...

3 comments:

  1. It is a very good post. Thanks for sharing a good post.
    By
    S Mukherjee

    ReplyDelete
  2. ভাই তো ভালোই লিখেছেন এত করে লিখলে না পড়ে কি চলে যাওয়া যায়?

    ReplyDelete