Saturday, November 16, 2013

আমার সোনার ময়না পাখী, কোন দ্যাশেতে উইড়া গেলা রে, দিয়া মোরে ফাঁকি...

নভেম্বর মাস জুড়ে মৃত্যুর ছায়া। মৃত্যুর গন্ধ।

দিকে দিকে জগদ্ধাত্রীর আহবান। প্যান্ডেল। চন্দননগরের আলোশিল্পিদের সবটুকু উজাড় করে সাজিয়ে দেওয়া আলো। মাইকে হিন্দি সিনেমার আইটেম সঙ। কোথাও বা আগমনী। আসি আসি শীত। কুঁড়ি না মেলা ফুলকপি আর ল্যাজায় ফুল সমেত থোকা থোকা শিম।

এতসবকিছুর সঙ্গে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসে মৃত্যু। নিঃশ্বাসে বাতাস কম। সেরিব্রাল। কমজোরী হৃদপিণ্ড। পড়ে পাওয়া ভাঙ্গা হাত। নার্সিং হোম। ভেন্টিলেটার। যুদ্ধ চলে মৃত্যুর সঙ্গে।

সময়ের ভারে নুয়ে পড়া অশক্ত একটি মানুষ নেতাজীর মুর্তির পেছনের বাড়িটিতে বসে আজীবনের সঙ্গী মানুষটির অক্সিজেনের যোগান দেওয়ার চেষ্টা করে যায় আপ্রাণ। নিজের নিঃশ্বাসের বাতাসটুকুও দিতে পারলে সেটা দিতেও কার্পণ্য নেই। মৃত্যু বলে, আমি একটু ওদিক ঘুরে আসি, তুই আরেকটু বাতাস নিয়ে নে...

খুলে যায় ভেন্টিলেটর। হাসপাতালের শীতল মেঝেয় এক পা, দুই পা হাঁটা-হাঁটি। আশা জাগে মনে। এযাত্রায় বোধ হয় যেতে হল না...!

উৎসব উৎসব। নার্সিং হোমে ছুটির মেজাজ। ছুটিতে ডাক্তার। ছুটিতে নার্স। ছুটিতে আয়া। মরনাপন্ন রোগীকে অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন ডাক্তারের দল। পেশেন্ট পার্টি ভাবে, বুঝি বা মানুষটি সেরেই উঠলেন! নাকে নল, বোতলবন্দী বাতাস আর সার্বক্ষণিক অ্যাটেনডেন্ট। মাপা জল, মাপা সেদ্ধ ডাল-ভাত।

সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী। বিজয়া।  উৎসবে মত্ত মানুষ। রাস্তা-ঘাট বন্ধ। রাত্রি জুড়ে মানুষের ঢল। অক্লান্ত ঢাক আর মাইক। এই সমস্ত শব্দজট ছাপিয়ে সজোরে কড়া নাড়ে মৃত্যু।  চার দিন, চার রাত্তির সঙ্গী আগলে বসে থাকা অশক্ত মানুষটিকে পিছু হটিয়ে ক্রমশ হেরে যেতে থাকা মানুষটির দখল নেয় সে। এবং সঙ্গে নিয়ে যায়। 

অক্সিজেন সিলিন্ডারে তখনও বুড়বুড়ি কেটেই চলেছে বাতাস...