Monday, October 01, 2012

'হে রাম এ যে কুচো চিংড়ি গো!'


Photo: প্রাতঃভ্রমণের সঙ্গী শিখাদি এন্ড মি, প্রায় প্রত্যহ বোটানিকাল গার্ডেন একনম্বর লঞ্চঘাটের বাঁধানো সোপানে বসিয়া  চা পান করি। শিখাদি মাছের নৌকা দেখিলেই উচাটন হয়, প্রায় রোজই। সুবর্ণরেখাকে মনে করে, সেই নদীর মৎসকূলকে স্মরণ করিয়া দুঃখী হয়। আজ এক পাইকার ঘাটে দাড়াইয়া ওদূরে নোঙর ফেলিয়া দাঁড়াইয়া থাকা একখানি ছোট্ট  জেলে নৌকার সমুখে দাঁড়ানো শাট-পেন্টুলুন পরিহিত এক সজ্জনের সহিত মোবাইল করিতেছিলেন। শিখাদি সেই মোবাইল-কথার মর্ম উদ্ধার করিল, অই নৌকায় বড় বড় গলদা আছে। এবং তাহা গঙ্গার জলের চাইতেও সস্তায় নৌকামালিক বিক্রি করিতেছে। শিখাদি এবং মৎস্য পাইকার খানিক বার্তালাপ করিল, পাইকার ভরসা দিল, এখনি নৌকা তীরে আসিবে এবং পাইকার আমাদিগকে গলদা ক্রয় করিয়া দিবে। ইহাতে কোন গলদ নাই। আমি এন্ড শিখাদি দুইজনাই প্রাতঃভ্রমণের ছোট্ট ছোট্ট বটুয়াগুলি খুলিয়ে পয়সা গুনিয়া লইলাম। পাইকার যা মূল্য শুনাইয়াছে তাহাতে শিখাদি এক সের পরিমান এবং আমি আধাসের পরিমান ক্রয় করিয়াই ফেলিব! চায়ের মূল্য আগামীকল্য মিটাইলেই হইবে এমন ভরসা চা-দিদি দিলেন।

ইতিমধ্যে নৌকার সমুখে দাঁড়িয়ে থাকা সজ্জন ঘাটে য়াসিলেন এবং আমাদিগকে হস্ত-পদ-শুঁড় সঞ্চালনকারী গলদার দর্শন করাইয়া ঘাটে  অবস্থানকারী  পাইকার মহাশয়ের কর্ণে কোন এক মন্ত্র দিলেন এবং দুইজনাই একখানি দ্বিচক্রযানে চড়িয়া নিমেষেই অন্তর্হিত হইলেন। 

শিখাদি প্রবল ব্যস্ত হইয়া পাইকার মহাশয়ের খোঁজ করিতে লাগিল কিন্তু তাঁহার টিকির দর্শনও আর পাওয়া গেল না। এতক্ষণ ধরিয়া পাইকার মহাশয় আমাদিগকে যে আশ্বাসবাণী শুনাইতেছিল  নির্দ্বিধায় সেই বাণীতে বিশ্বাস করিয়া শিখাদি তাহার পাদুকা এবং আমি আমার গাম্বুটজোড়া খুলিয়া তীরে রাখিয়া প্রায় হাঁটুসমপরিমান কর্দমায় পদযুগল রাখিলাম। মনে আশা অন্য কোন সজ্জন পৌঁছাইয়া ঐ গলদা ঝোলাগত করিবার পূর্বেই আমরা ক্রয় করিয়া ফেলিব। তীর হইতে বিহারি চা-দিদিমণি চেঁচাইতে লাগিলেন, ও দিদি, পড়ে গেলে যে হাত-পা ভাবগিয়া যাইবে যে গো! সেদিকে কর্নপাতমাত্র না করিয়া আমরা নৌকার সন্নিকটে পৌঁছাইবার চেষ্টা করিতে লাগিলাম এবং এক সময় পৌঁছাইয়াও গেলাম! এমন সময় বেশ ছোট্টমতন একখানা হড়কা বান আসিল এবং জলের অল্প দূরে অবস্থানকারী আমরা এই বান দেখিয়া বেশ পুলকিত বোধ করিলাম। শিখাদি প্রায় দিনই আসসোস করিয়া থাকে, একদিনের তরেও জোয়ার দেখিতে পায় না বলিয়া। আজ জোয়ার না হউক, বান দেখিয়া সে যারপরনাই প্রীত হই্ল। 

নৌকা হইতে মৎসশিকারী আমাদিগকে যে চিংড়ির দর্শন করাইল, তাহাকে গলদা বলিবার মত গলদ কর্ম এমনকি শিখাদিও করিয়া উঠিতে পারিল না, আকুলকন্ঠে অস্ফুটে কহিতে পারিল শুধু, 'হে রাম এ যে কুচো চিংড়ি গো!'

এই প্রকার সেই প্রকার কোন প্রকারে আমরা কাদা ঠেলিয়া একটিও আছাড় না খাইয়া ঘাটে ফিরিয়া আসিলাম এবং গঙ্গাস্নানে নিমগ্ন পিতা-পুত্রের যৎপ্রোনাস্তি বিরক্তির উদ্রেক করিলাম বাঁধানো সোপানে পদযুগল হইতে কাদা ধুইবার অভিলাষ প্রকাশ করায়। অই স্থানে তাহাদের দ্রব্যাদি রহিয়াছে, জল-কাদায় যাহা নোংরা হইবার প্রব সম্ভাবনা!  চা দিদির আগাইয়া দেওয়া বালতির জলে যতটুকু সম্ভব কাদা পরিস্কার হইল। সহৃদয় বৃদ্ধের আগাইয়া দেওয়া গামছাখানিতে পা মুছিয়া গাম্বুট পরিয়া যৎপরোনাস্তি আমোদ প্রাপ্তি করিয়া অদ্যকার প্রাতঃভ্রমণ সম্পন্ন হইল!প্রাতঃভ্রমণের সঙ্গী শিখাদি এন্ড মি, প্রায় প্রত্যহ বোটানিকাল গার্ডেন একনম্বর লঞ্চঘাটের বাঁধানো সোপানে বসিয়া চা পান করি। শিখাদি মাছের নৌকা দেখিলেই উচাটন হয়, প্রায় রোজই। সুবর্ণরেখাকে মনে করিয়া, সেই নদীর মৎসকূলকে স্মরণ করিয়া দুঃখী হয়। আজ এক পাইকার ঘাটে দাড়াইয়া  অদূরে নোঙর ফেলিয়া দাঁড়াইয়া থাকা একখানি ছোট্ট জেলে নৌকার সমুখে দাঁড়াইয়া থাকা  শাট-পেন্টুলুন পরিহিত এক সজ্জনের সহিত মোবাইল করিতেছিলেন। শিখাদি সেই মোবাইল-কথার মর্ম উদ্ধার করিল, অই নৌকায় বড় বড় গলদা আছে। এবং তাহা গঙ্গার জলের চাইতেও সস্তায় নৌকামালিক বিক্রি করিতেছে। শিখাদি এবং মৎস্য পাইকার খানিক বার্তালাপ করিল, পাইকার ভরসা দিল, এখনি নৌকা তীরে আসিবে এবং পাইকার আমাদিগকে গলদা ক্রয় করিয়া দিবে, ইহাতে কোন গলদ নাই। আমি এন্ড শিখাদি দুইজনাই প্রাতঃভ্রমণের ছোট্ট ছোট্ট বটুয়াগুলি খুলিয়া পয়সা গুনিয়া লইলাম। পাইকার যা মূল্য শুনাইয়াছে তাহাতে শিখাদি এক সের পরিমান এবং আমি আধাসের পরিমান ক্রয় করিয়াই ফেলিব! চায়ের মূল্য আগামীকল্য মিটাইলেই হইবে এমন ভরসা চা-দিদি দিলেন।

ইতিমধ্যে নৌকার সমুখে অবস্থানকারী  সজ্জন ঘাটে  আসিলেন এবং পরম হর্ষে আমাদিগকে হস্ত-পদ-শুঁড় সঞ্চালনকারী গলদার দর্শন করাইয়া ঘাটে অবস্থানকারী পাইকার মহাশয়ের কর্ণে কোন এক মন্ত্র দিলেন এবং দুইজনাই একখানি দ্বিচক্রযানে চড়িয়া নিমেষেই অন্তর্হিত হইলেন।

শিখাদি প্রবল ব্যস্ত হইয়া পাইকার মহাশয়ের খোঁজ করিতে লাগিল কিন্তু তাঁহার টিকির দর্শনও আর পাওয়া গেল না। এতক্ষণ ধরিয়া পাইকার মহাশয় আমাদিগকে যে আশ্বাসবাণী শুনাইতেছিলেন নির্দ্বিধায় সেই বাণীতে বিশ্বাস করিয়া শিখাদি তাহার পাদুকা এবং আমি আমার গাম্বুটজোড়া খুলিয়া তীরে রাখিয়া প্রায় হাঁটুসমপরিমান কর্দমায় পদযুগল রাখিলাম। মনে আশা অন্য কোন সজ্জন পৌঁছাইয়া ঐ গলদা ঝোলাগত করিবার পূর্বেই আমরা ক্রয় করিয়া ফেলিব। তীর হইতে বিহারি চা-দিদিমণি চেঁচাইতে লাগিলেন, ও দিদি, পড়ে গেলে যে হাত-পা ভাঙ্গিয়া যাইবে যে গো! সেদিকে কর্নপাতমাত্র না করিয়া আমরা নৌকার সন্নিকটে পৌঁছাইবার চেষ্টা করিতে লাগিলাম এবং এক সময় পৌঁছাইয়াও গেলাম! 

এমন সময় বেশ ছোট্টমতন একখানা হড়কা বান আসিল এবং জল হইতে অল্প দূরত্বে অবস্থানকারী আমরা এই বান দেখিয়া বেশ পুলকিত বোধ করিলাম। শিখাদি প্রায় দিনই আসসোস করিয়া থাকে, একদিনের তরেও জোয়ার দেখিতে পায় না বলিয়া। আজ জোয়ার না হউক, বান দেখিয়া সে যারপরনাই প্রীত হই্ল।

নৌকা হইতে মৎসশিকারী আমাদিগকে যে চিংড়ির দর্শন করাইল, তাহাকে গলদা বলিবার মত গলদ কর্ম এমনকি শিখাদিও করিয়া উঠিতে পারিল না, আকুলকন্ঠে অস্ফুটে কহিতে পারিল শুধু, 'হে রাম এ যে কুচো চিংড়ি গো!'

এই প্রকার সেই প্রকার কোন প্রকারে আমরা কাদা ঠেলিয়া একটিও আছাড় না খাইয়া ঘাটে ফিরিয়া আসিলাম এবং গঙ্গাস্নানে নিমগ্ন পিতা-পুত্রের যৎপরোনাস্তি বিরক্তির উদ্রেক করিলাম বাঁধানো সোপানে পদযুগল হইতে কাদা ধুইবার অভিলাষ প্রকাশ করায়। অই স্থানে তাহাদের পরিধেয় দ্রব্যাদি রহিয়াছে, জল-কাদায় যাহা নোংরা হইবার প্রবল সম্ভাবনা! চা দিদির আগাইয়া দেওয়া বালতির জলে যতটুকু সম্ভব কাদা পরিস্কার হইল। সহৃদয় বৃদ্ধের আগাইয়া দেওয়া গামছাখানিতে পা মুছিয়া গাম্বুট পরিয়া যারপরনাই আমোদ প্রাপ্তি করিয়া অদ্যকার প্রাতঃভ্রমণ সম্পন্ন হইল!