Thursday, September 06, 2012

মেঘের পরে মেঘ জমেছে...

হয়ত জানতাম। চেতনে নয়, অবচেতনে। জানতাম। তাই এই অসময়েও একবার ডাকবাক্স খুললাম, এসেছে কি সেই দস্যির কোনো  চিঠি?  দেখলাম, এসেছে। চেতনে, অবচেতনে। আজ গত তিন দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি ধারার মত...

 
বিচালি ঘাট, রাম কৃষ্ণপুর ঘাট এখন ধোঁয়া ধোঁয়া হয়ে আছে। ষ্টিমার ঘাটে একটা লঞ্চ দাঁড়িয়ে। ছাড়ব ছাড়ব করেও ছাড়ছে না। ভরা বর্ষার মাদকতায় নেচে ওঠা গঙ্গার ছন্দে ছন্দ মিলিয়েছে সে। এখন দ্বিতীয় সেতু থেকে অবনী মলের বাড়িটা দেখা যাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু হারিয়ে আছে হাওড়া ব্রিজ। ধোঁয়াশায় ঢাকা ওই বিচলি ঘাট, রামকৃষ্ণপুর ঘাট..

 
আজ গঙ্গায় মেলা বসেছে। নানা রঙের, নানা আকারের ছোট, মাঝারি সব লঞ্চ নোঙর ফেলে ঠায় দাঁড়িয়ে এখানে ওখানে। যদ্দূর দেখা যায়, গোটা গঙ্গাময় শুধু লঞ্চ। কে জানে, হয়ত বা ওগুলো দূরপাল্লার লঞ্চ, রোজ নদী পারাপার করা ফেরীবোট নয়। এই  অঝোর বর্ষণের ফলে গঙ্গায় জোয়ারের টান বেশি, তাই হয়ত ভাটার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে... নাকি ওই সব যান্ত্রিক নৌকোগুলোও সারা রাত্র নৌকা বেয়ে রাত পোহালে দেখতে পায় যেখানের নাও সেখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছে?  


এক ছুট্টে নদী পেরিয়ে যাওয়ার বাসনায় দৌড়ুতে থাকা  বাসে জানলার ধারের সিটে বসে চোখ পেতে চেয়ে থাকি নদীর দিকে, জলভরা মেঘেরা সব জলের টানে নেমে এসেছে নদীর বুকে, এমনভাবে  বিছিয়ে আছে যেন কোন এক  মেঘবরনী কন্যার আলু থালু মেঘলা বসন...ওই ছোট, বড়, মাঝারি জলযানগুলোর দিকে, ভর ভরন্ত নদীর ঘোলা জলের দিকে...বিষম নদীর পানি, ঢেউয়ে করে কানাকানি, মাঝে নদী বহে সাঁই সাঁই...


রাতের দুঃস্বপ্নের ঘোর কাটে না কিছুতেই, রেশ থেকে যায় সারা দিনমান। কাজ-কর্ম পণ্ড হয়, বেলা বয়ে যায়, দিন ঢলে আসে পশ্চিম আকাশে, অকারণ খিটিমিটি, না পাওয়া সব কড়ির হিসেবে মন ভার হয় প্রকৃতিরও, পূরণ না হওয়া সব চাওয়াগুলো  ভাসিয়ে দিই আকাশে, ঝরুক, ঝরুক ওরা বৃষ্টি হয়ে, ডুবে যাক চরাচর, মন খারাপের ভূমিকম্পে উথালি পাথালি ঢেউ উঠুক নদীতে...ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা যান্ত্রিক নৌকোগুলো সব নোঙর ছিঁড়ে ভেসে যাক দিগন্তের দিকে...

 
জানলার ধারে বসে তালের পাতায় টুপটাপ বৃষ্টির রুনু ঝুনু শব্দ ভেদ করে বহুদূর মনের ওপার থেকে গান ভেসে আসে, তুমি হয়ত  বারান্দায় দাঁড়িয়ে গাইছ বা আমি ভাবছি গাইছ বলে- মেঘের পরে মেঘ জমেছে...

No comments:

Post a Comment