Monday, September 03, 2012

জিতেছি যতটা হেরেছিও ততটাই...

পৃথিবীটা যেমন গোল, সবই কিছুই বোধ হয় এমনই গোল, যেখান থেকেই শুরু করো না কেন, ঘুরে ফিরে পৌঁছুবে আবার সেই একই জায়গায়। আমিও আবার সেই একই জায়গায়, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার করে চলতে শুরু করেছিলাম। ঠিক কবে থমকে দাঁড়ালাম, কবে বৃত্তের সেই জায়গায় পৌঁছুলাম- যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেই দিন-তারিখ এবার ঠিকঠিক মনে আছে যদিও বেশির ভাগ জিনিসই ভুলে যাই, কিন্তু কারণ যাই হোক, মনে আছে। সেসব উল্লেখ করা নিষ্প্রয়োজন। ঘটনা এই, যে আমি আবার সেই একই জায়গায়...


রাত জেগে বসে বসে বাইরের অন্ধকার, না, ঠিক অন্ধকার নয়, কিছু আলো তো আছেই, কোনো এক বাতিওয়ালা একটা বোতাম টিপে সন্ধ্যে হলেই নিয়ম করে রাস্তার, ওই দ্বিতীয় হুগলী সেতু আর তার ছড়ানো বাহুগুলোতে আলো জ্বালিয়ে দেয়, সেই আলোয়  সব পরিস্কার নয়, আঁধার কোথাও কোথাও আরো বেশি ঘন, আমি বসে বসে সেই আধো আলো আর ঘন আঁধার দেখি, পুরনো সেই দিনের মত...

ওয়ান ট্র্যাক মাইন্ড বলে একটা কথা আছে না? আমি একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারি না। যখন যা করি সেটা সম্পূর্ণ মনোযোগ আর একাগ্রতা দিয়ে করি। রবিশংকরজী যেমন বলেন, একশ শতাংশ দাও, আমি ঠিক তেমনি  একশ শতাংশ দিই, বরাবরই। ওই পথটুকুও ভীষণ মন দিয়ে হেঁটেছি, অন্য কোনো কাজ নয়, শুধুমাত্র চলা, চলতে থাকা আর চলতে থাকা। হঠাৎ যখন থামলাম, পথ চলার ক্লান্তি গ্রাস করল, একা, নিঃসীম শূন্যতা আর এক আবছা আলো যাতে অন্ধকার আরও বেশি গাঢ়। ফলতঃ অবসাদ...


বৃত্তের যেখান থেকে শুরু চলা করেছিলাম, আমি আবার সেখানে... মনে আছে সেই সিনেমাটা? দায়রাহ- দ্য সার্কেল? ঠিক সেই রকম...

মাথার ভিতর একটা চিঠি লিখে চলেছি।  ঠিকানাবিহীন, বা বলে চলেছি এক অনন্ত কথা, যাকে লিখছি,বলছি তার অস্তিত্বই হয়ত নেই, হয়ত আছে, জানি না ঠিক, বিশ্বাস করতে চাই- অস্তিত্ব আছে, কিন্তু বিশ্বাস!  সে শুধুই আমার বিশ্বাস, তার বাইরে কিছু নয়, কিস্‌সু নয়!

সুমন বলেন -
উত্তর আসবে না তুমি আসবেই আমি জানি!

কিন্তু গান, কবিতা বোধ হয় জীবন নয়, আবার জীবনের বাইরেরও কিছু নয়, জীবন থেকেই নেয়া, ক্ষণকালের অনুভব মাত্র। কিছুটা দেখা কিছুটা কল্পনার রঙ মিশে লেখা হয় সেসব,  যেই অনুভূতিটুকু প্রকাশ করা হয় কথায়, সুরে। আমাদের মন যখন যেমন থাকে, ভাল মন, খারাপ মন, উদাস মন, অভিমানি মন, প্রেমিক মন, মনভাঙা মন। আমরা শুনি সেই রকম সব গান, পড়ি কবিতা, সেই গান-কবিতা তখন নিজের হয়ে যায়, নিজের কথা হয়ে যায়, সেটাই তখনকার সত্যি হয়ে যায়।এই যেমন এই গানটা- একটা সময় জাতীয় সঙ্গীতের মত হয়ে উঠেছিল...


সুমন আরও বলেন- 
জিতেছি যতটা হেরেছিও ততটাই...

কি যে হার আর কি যে জিত কে জানে...
দু'দিন ধরে বড় মৌসুমী ভৌমিক মনে পড়ছে - 
ডাক আসে
তোমার না লেখা চিঠি আসেনি
আসে না
আসবে না জানি তবু আমি বসে থাকি...


এরকম আরও অনেক অনেক গান। কোন গানের অন্তরা তো কোন গানের মুখড়া...


মনে পড়ছে মিতালী মুখার্জী। সে আমার ছেলেবেলার কথা। মিতালী ভারতবর্ষের কোন একটা জায়গা থেকে গানের ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে গিয়ে গাইলেন সেই গান- 
এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই
মানুষ নামের মানুষ আছে দুনিয়া বোঝাই
এই মানুষের ভীড়ে আমার সেই সেই মানুষ নাই...

কিছু ভুলতে হলে নাকি পিছন ফিরে তাকাতে নেই, যা কিছু স্মৃতি, তাকে খাঁচায় পুরে তালাচাবি দিয়ে কোন এক অন্ধ কুঠুরিতে ফেলে দিতে হয় বা রেখে আসতে হয় সাত নদী আর তিন সাগর দূরের সেই পদ্মপুকুরের তলাকার লোহার সিন্দুকে, যেখানে বাস করে রূপকথার রাক্ষসের প্রাণভোমরা।  সেই পথে হাঁটতে নেই, যে পথে ছিল নিত্য চলাচল...  কিন্তু আমার যে স্মৃতিতেই বসত ... আমি রক্তাক্ত হই, গোলাপী রঙের রক্ত ঝরে, ঝরতেই থাকে... থামে না...


ঋতু বদলের সাথে সাথে মেঘেরাও চলে গেছে দূরে কোথাও,  হয়তবা কোন পাহাড়ে বা দূরের কোনো গাঁয়, যেখানে ঘোমটা পরা এক কাজল বধু সন্ধে দেয় তুলসীতলায়... এখানে এখন খর রোদ্দুর, এতটুকুও ছায়া নেই কোথাও, কাক-পক্ষীও ওড়ে না এই খরায়..

রয়ে যায় শুধু গানেরা-
পঙ্খী রইয়া যাও রে...


১৮-০৮-১২

No comments:

Post a Comment