Saturday, September 22, 2012

অকালবৈশাখী



                       ১০

কলের জলের মতো আসে প্রেম কলের জলের মতো যায়
বিকেল চারটেয় ঠিক হুড়মুড় ঝঞ্ঝাটধ্বনি পরে এসে কে আগে দাঁড়ায়।
গোটাদশ বালতি তিনটে কেরোসিন টিন দুটো মাজাঘষা কলসি মেজোসেজো
সারা পাড়া জড়ো হয় টুংটাং ঝমঝম শব্দে, জল ছাড়া সক্কলে অকেজো
তোমার বয়েস কম, আদুরে গলায় বললে – ‘আমি একটু আগে নিয়ে নিই?’
যাকে অনুরোধ করলে, বুঝতে পারলে না? ওই গায়ে-পড়া বালতি তো আমিই!







                        ১১

অন্ধ করে দিয়ে গেছ, আমি আর ছন্দ কী শেখাব
বরং তোমাকে নিংড়ে হাতের তালুর মধ্যে চটকে পিষে খাব
মেশাব ভাতের সঙ্গে, কোঁৎ করে গিলব এক দলা
তোমার দু’ হাত–দু’ পা আলতো করে ছুঁয়ে দেখবে, হ্যাঁ, আমার গলা
ভাসতে–ভাসতে পেটে নামবে ধারণা, নরম টুকরো, ঝলসানো হাসির একফালি
দু’খানা কানের দুল পোকা হয়ে কুঁড়ে খাবে বিপাকপ্রণালী
কেবল কবিতাখাতা পড়ে থাকবে বাইরে আমি খেয়েদেয়ে উঠে দেখব তাতে
আমারই শেখার কথা, ছন্দ নিজে এসেছিল আমাকে শেখাতে
সম্মোহন সশরীরে সামনে এসে বসে যদি, যাদুকর এক্কেরে বেকাবু
অন্ধ করে দিয়ে গেছ, আমি আর ছন্দ কী শেখাব।







                           ২৭

আজ মেঘ করে এলে শিকারকাহিনি পড়ব খুব
ওল্টাতে ওল্টাতে পাতা ঝিঁঝিডাকা জঙ্গলে দে ডুব –
নামেই অভয়ারণ। কত লোক নিয়ে গেছে বাঘে ...
পাঠকের ভয় করে। লেখকের হাতে তৈরী চাঁদ একা জাগে।
জোছনায় গামবুট কাঁপে। গাইড সারেঞ মিয়াঁ। একটু দূরে গিয়ে
সে বলল ‘দাঁড়ান। শ্‌-শ্‌-শ্‌, আওয়াজ করবেন না। বাঘ হেঁটে গেছে এই পথ দিয়ে!’
‘কীভাবে বুঝলেন মিয়াঁ?’ ... ‘দ্যাখেন, গাছের গায়ে দুটো-একটা লোম লেগে আছে
আর কিছু ঘাসের ডগা ভেঙে বিখরে পড়ে আছে আনাচে কানাচে,
বাঘ এখানে ছিল কি না, বোঝা যায় এইসমস্ত ছোটখাটো দাগে’ ...
যেমন আমাকে দেখলে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে তুমি হেঁটে গেছ একটু আগে!







                         ২৩

আমার ভেতরে তুমি ছটফট করাচ্ছ একটা পাখি
তাকে যে কীভাবে শান্ত রাখি!
বলি – ‘ভাই, ছোলা খাও। কিন্তু চেঁচিও না।
লোক জানাজানি হলে পালাবার পথ খুঁজে পাব না।’
কে কার কথা শোনে, সে দিনরাত শোনায় নাম ডেকে
কী যে সব হাওয়াপত্র পাঠায় পাশের পাড়া থেকে –
আমার ঘরময় ওড়ে লেখার কাগজ আমি তাদের পিছনে ছুটতে থাকি
এমন করে না আর। খাঁচা খুলে উড়ে যেও, দূরে যেও অকালবৈশাখী ...






[শ্রীজাত-র “অকালবৈশাখী” থেকে ]

No comments:

Post a Comment