Saturday, September 01, 2012

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম...

আমরা শুধু শুধুই সাত-আট ঘন্টা করে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করি। দু-তিন ঘন্টা করে ঘুমিয়েও দিব্যি বেঁচে থাকা যায়! এবং কত কাজ করা যায়! লেখা, সিনেমা দেখা বা গান শোনা বা কিছু একটা পড়া। আমি যদিও কিছুই করি না। বলা ভাল করে উঠতে পারি না। আমার জেগে থেকে কাজ বলতে শুধুমাত্রই একই জিনিস বারবার করে ভেবে যাওয়া এবং ঝিমুনো...

অন্যদিন মাঝরাত বা ভোরের দিকে ঘুম আসে ঘন্টা দু-তিনের জন্যে। ওষুধের ঘোর। কোন স্বপ্ন আসে না। ঘুম ভাঙার পরেও মনেও হয় যেন জেগেই ছিলাম, ঘুমাইনি এক ফোঁটাও! আজ মাঝরাতে উঠব বলে তারাতাড়ি ঘুমানোর জন্যে ডোজ বাড়ে ওষুধের, ঘুম নাকি ঘোর আসে মাঝরাতেরও ঘন্টাখানেক পরে। মোবাইলে ঘন্টি বাজে -উঠে পড়ো, বাচ্চাটা যাবে! 


বহুকাল পরে আবার ভোরের রাস্তা। অন্ধকার। আলো ফোটেনি তখনও। রাস্তার ধারে কোথাও কোন একটা মসজিদে আজান হয়। ঘড়ি বলে সোয়া চারটে বাজে।  রাত বড় হচ্ছে, সকাল হচ্ছে দেরীতে। আলো না ফোটা ভোরের রাস্তা ফাঁকা, শুনশান। মাঝে সাঝে একটা দুটো গাড়ি হুঁশ হাঁশ ছুটে যায়। এয়ারপোর্ট অবধি টানা আলোজ্বলা রাস্তা। রাস্তার ধার ধরে সব তেপায়া শাদা আলো। রাস্তার মাঝে ডিভাইডারে সেই পুরনো পোস্টে পুরনো হলদে আলো। দুজনে  চুপচাপ বসে থাকি গাড়িতে। হাতে হাত।

ঈদ আর জন্মদিন একসঙ্গে পড়েছে বলে দেড় মাস আগে ঘুরে যাওয়া সত্বেও পাঁচ দিনের ঝোড়ো সফরে মেয়ে বাড়ি এসেছিল, ফিরে যাচ্ছে আবার। অফিসের পোষাকে তৈরি হয়েই বেরিয়েছে, এয়ারপোর্ট থেকে সোজা অফিসে চলে যাবে। বাড়ি থেকে ফিরে যাওয়ার সময় যেমনটা হয়ে থাকে সকলেরই, মন ভার, কথা কম আর চুপচাপ থাকা বেশি। যেহেতু সারাদিনই বকবক করে, তাই চুপ করে গেলে সেটা বড় বাজে...

এক সময় আলো ফোটে। এয়ারপোর্টের কাছাকাছি পৌঁছুতে বেড়ে যায় ছুটন্ত গাড়িদের সংখ্যা। এয়ারপোর্টের সামনে গাড়িদের লাইন। ঘুমচোখ মানুষদের ট্রলি ঠেলে নিয়ে যাওয়া, এন্ট্রির লাইনে একটু আগে পৌঁছুনোর জন্যে রিতিমত দৌড়-ঝাঁপ।  মিষ্টির ছোট্ট ট্রলিব্যাগখানি ঠেলে কোনমতে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে আমি আবার ফিরতি পথে। একা...


ফেরার পথ ধোঁয়া ধোঁয়া কুয়াশার চাদরে ঢাকা। নাকি আকাশের মেঘেরা মাটির কাছাকাছি নেমে এসে কুয়াশার মত চাদর বিছিয়েছে কে জানে... বর্ষা। এই বর্ষায় ভিজছে মাটি, ফসলের মাঠ, গ্রামের ছোট্ট খড়ের কুড়েখানি আর মন। নদীতে বাড়ছে জল। অত জল, যাতে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে পার্বতীর সমস্ত কলঙ্ক।  হেডফোন দিয়ে মস্তিস্কের কোষ বেয়ে শিরা-উপশিরায় বয়ে যায় -তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম...



 -----
 ২১-০৮-১২ 

No comments:

Post a Comment