Monday, February 27, 2012

আমার আর গান শোনা হয় না

পার্বতী বাউল আর ফরিদা পারভীন। প্রিন্সেপ ঘাট। শুনেছিলাম সেখানে গান হবে। গান হবে - এই কথাটা শোনারও প্রয়োজন ছিল না। ফরিদা পারভীন, পার্বতী বাউল আর প্রিন্সেপ ঘাট। গান যে হবেই এমনটা ধরেই নেওয়া যায়। গান শুনতে যাওয়ার আমন্ত্রন ছিল, যাব না জানতাম। আমার তো বাড়ি যাওয়ার কথা। আমি তাই আরশীনগরে যাওয়ার কথা ভাবি না।  কিছুই হয় না। বাড়ি যাওয়া হয় না। গান শোনা হয় না। সামনে বসে শোনা হয় না ফরিদা পারভীন। লালন। পার্বতী বাউল। সঙ্গী মন খারাপ। যন্ত্রনা আর চওড়া বেল্ট।   সম্বল বলতে আইপড। বা সেলফোনে ধরে রাখা কিছু সময়। অন্ধকার স্ক্রীন আর জাতিস্মর।  সাত্যকী আর আষাঢ়ের ভিজা পথ। বিক্রম সিং। কিছুই তো  হলো না, সেই সব, সেই সব.. অপার হয়ে বসেই থাকেন ফরিদা পারভীন।

উড়ালপুলের ল্যাম্পপোস্টের মরা হলদেটে আলো, সরু এই একচিলতে বারান্দা, প্লাস্টিকের চেয়ার আর বসন্ত বাতাসে অল্প অল্প নড়া একগাছ তালের পাতা। ঠিক যেন কেউ চামর দোলাচ্ছে সিংহাসনের পাশে দাঁড়িয়ে.. গ্রীলের বাইরে রাত গাঢ় হয়। স্টিলের গ্লাসে মিশ্রিত জলে দু কুচি বরফ। একসময় দুঃখেরা এসে জমাট বাঁধে স্টিলের গ্লাসে। গঙ্গার ধারে কোনো এক প্রিন্সেপ ঘাটে গান গেয়েই যান ফরিদা পারভীন। পার্বতী বাউল। গঙ্গা পেরিয়ে এপারে ভেসে আসে না কোনো সুর..


ল্যাম্পপোস্টের আলোয় মরে যাওয়া  আধখানা চাঁদ। সামনে নাকি দোল। দোল বলতেই মনে পড়ে কল্যাণী আর কলি। এক বাড়ি ভর্তি ফুলগাছ আর গাছভর্তি সব ফুল। মালু আর বাদশাহ। নিঃঝুম দুপুর আর সাঁই সাঁই মোটর বাইক। রঙে রঙে রঙীন সব মেলাযাত্রী। যেহেতু দোল তাই আকাশে একটা পূর্ণ চাঁদ থাকবেই। বাড়ির সবকটা আলো তাই নেভানো। পেছনের বাগানে বার্বিকিউ, পোড়া পোড়া মুর্গি, আলু, আর টম্যাটো। অফুরন্ত স্টক থেকে একের পর এক শুধু খাবারেরই গল্প বলে যাওয়া মালু। বুঁদ হয়ে থাকা শুভজিত। টাল খাওয়া বাদশাহ।   দড়ির দোলনায় নিরন্তর দোলে জো। আশ্রমের প্রার্থনা সঙ্গীতকে  ছাপিয়ে দিয়ে কলি গায়, আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে..

No comments:

Post a Comment