Tuesday, September 14, 2010

পায়ে পায়ে ঈদের পথে-০২

রোজার শুরু থেকেই দাঁতে একটা যন্ত্রণা শুরু হলো। বছর তিনেক আগে যখন শেষবার দাঁতের ডাক্তারের কাছে গেছিলাম, তখনই ডাক্তার বলে দিয়েছিলেন যে এটাকে তুলে ফেলতে হবে। বছর তিনেক আর ওপথ মাড়াইনি যদি দাঁত তুলে ফ্যালে সেই ভয়ে। কিন্তু এবার আর পারা গেল না, যেতেই হলো। রোজা তখন সবে তেরোটা পেরিয়েছে। ডাক্তার ফর্দ ধরিয়ে দিলেন ওষুধের আর পাঁচ দিন পরে যেতে বললেন। বললাম, আজকেই তুলে ফেলুন না কারণ পাঁচদিন পরে আমি নিজেকে এখানে আবার নিয়ে আসতে পারব বলে ভরসা হয় না। আমার রোজা রাখা সেদিন থেকেই শেষ। মন দিয়ে ওষুধ খাই আর ভাবি, ব্যথাটা ঠিক হয়ে গেলেই তো হলো, দাঁতটা আল্টিমেটলি তুলতে হবে না। কিন্তু তুলতে হলো। সে আমার দু:খের কথা, সেদিকে না যাই।

বলছিলাম রোজার কথা। দু:খের দিন একলা আসে না। যেই না ভাবতে শুরু করলাম রোজা রাখা শুরু করব আবার অমনি দুম করে রক্তচাপ নেমে গেল। তুলে ফেলে দেওয়া দাঁতের যন্ত্রণা শেষ হয়নি তখনও। ইলেকট্রোবিয়ন চলল কিছুদিন। এদিকে রোজা শেষ হয় হয়। সাধারণত কুড়িটা রোজা পেরিয়ে গেলেই ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় সব ঘরে ঘরে। মানে ঘর- দোর সাফ-সুতরো করা, জানালা দরজার পর্দা কাঁচা বা নতুন লাগানো। যাঁরা বছরে একবার বাড়ি রং করেন, কুড়ি রোজার মধ্যেই শেষ করিয়ে ফ্যালেন বাড়ি রং করার কাজও। আন্যান্য সব বছরে আমারও তাই হয়। মানে বাড়ি রং করানো নয়, এই ঘর-দোর সাফ-সুতরো করার কথা বলছি। এবারে আর হলো না। আমার ঘর-দোরে মাকড়সারা বাস করে নিশ্চিন্তে। পুরু ধুলোর আস্তরণ সমস্ত আসবাবে, বইয়ের তাকে, টেলিভিশনের পর্দায় দেওয়ালের বড় আয়নাটায়। দিন গুনি শুধু, ঈদের আর ক
দিন বাকি যেন? তার আগে ঠিক করে ফেলব আর তারপরেই নিউ মার্কেটে গিয়ে একদিনে সব কেনাকাটা করে ফেলব। কিন্তু হয় না। একটা একটা করে রোজা যায়।

আজকাল রোজা আসার আগে প্রায় সকলেই ঈদের বাজার করে ফেলেন। রোজা শুরু হওয়া মাত্রই মুসলমান পাড়াগুলোর দর্জিরা অর্ডার ক্লোজড-এর নোটিশ ঝুলিয়ে বলে রোজার আগেই কাপড় কিনে দিয়ে দিতে হয়। নইলে রেডিমেড দিয়ে কাজ চালাতে হবে। ইদানিং কয়েক বছর রোজা আর পুজো প্রায় পাশাপাশি পড়ছে বলে দর্জিপাড়ায় এমনিতেই চাপ। শুধু ঈদের বাজার বলে নয়, রোজারও ত একটা স্পেশাল বাজার হয়, সেটাও রোজা আসার আগেই করে ফ্যালেন অনেকেই। ভালো কোয়ালিটির খেজুর, নানা রকমের ডাল, ছোলা, মটর, চিনি, তেল, হালিমের ডাল ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং শুধু বাজার করা নয়, ফোন করে আত্মীয়-স্বজনেরা একে অন্যের খবরও নেন, রোজার বাজার হয়ে গেছে তো? সেই ফোন কলগুলো অনেক সময়ে আইএসডিও হয়। এমন তো নয় যে রোজার সময় দোকান-পাট বন্ধ থাকবে বা যাঁরা রোজা রাখবেন তাঁরা কেউ বাজারে যাবেন না কিন্তু তবু এই জিনিসগুলোকে একসাথে সামর্থ অনুযায়ী কিনে রাখা। গোটা একটা মাস ধরে সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি এভাবেই শুরু হয়।

খেজুর। অনেক রকম ব্যপার স্যাপার আছে তার। রকমারী চেহারা, কত দেশ থেকে আসে তারা। এক এক দেশ থেকে আসা খেজুরের চেহারা এক এক রকম। বড় বড় দানার কালচে লাল আর লম্বাটে একটা খেজুর আসে, যার নাম মরিয়ম খেজুর। মাতা মেরির নামে খেজুরের নাম। নিউ মার্কেটের বড় ড্রাই ফ্রুট ব্যবসায়ী ছাড়া এই মরিয়ম খেজুর পাওয়া যায় স্পেন্সার বা বিগ বাজারে বা বড় বাজারে। ছোট ছোট বক্সে করে অসম্ভব চড়া দামে সেই খেজুর বিক্রি হয়। নিম্ন মধ্যবিত্তদেরও দেখেছি বাজারের অন্য জিনিসে কাট-ছাট করে মরিয়ম খেজুর না হলেও মোটামুটি বড় আর গোটা দানার বিদেশী খেজুর কিনে নিয়ে যেতে, আরবের খেজুর বলে যেগুলো বিক্রী হয়। আরব বলতে সাধারণত লোকে সৌদি আরবকেই বা আরেকটু স্পেসিফিক করে বলতে গেলে মক্কা বা মদীনাকেই বোঝে যদিও বাজারে যা খেজুর পাওয়া যায় তার বেশির ভাগই আসে মালয়শিয়া, ইরাক, ইরান বা আমিরাত থেকে। ঐ আরবী খেজুরে রোজা খুললে তাতে পুণ্য বেশি হয় বলে তাঁদের বিশ্বাস। বড় গোল থালায় সাজানো নানা রকম ফল, ভাজা-ভুজির সাথে রাখা সেই খেজুর দুটো বা তিনটে করে তুলে নিয়ে সারাদিনের উপবাস ভঙ্গ করেন তাঁরা।



[আরেকটু লিখব]

2 comments:

  1. choTpoT... waitin....

    ReplyDelete
  2. ধুশশ
    দাঁড়াচ্ছে নাঃ-(

    ReplyDelete