Saturday, September 11, 2010

পায়ে পায়ে ঈদের পথে

গোটা মাস একদিনের জন্যেও কেনাকাটায় না গিয়ে শেষ মুহুর্তে সারাদিন বাজার কলকাতায়। কলিন লেনের শামীম ভাইয়ের দোকানের মাংস, নিউ মার্কেটের কাশ্মীরি হোসেন ভাইয়ের দোকানের জাফরান আর আরো আনুষাঙ্গিক টুকটাক এটা সেটা। প্রচন্ড ভীড়ে ঠেলে এই দোকান ওই দোকান ঘুরে ঘুরে বাজার। সন্ধেবেলায় বাড়ি ফেরার পথে একে তাকে ফোন, চাঁদ উঠল কী! এপাতায় ওপাতায় খোঁজ। জানা গেল, মসজিদে তারাবীর নামাজ চলছে। তার মানে একটা দিন সময় পাওয়া গেল পথ ভুলে যাওয়া সেলুনে গিয়ে নিজেকে খানিক সেবা দেওয়ার। এক ফাঁকে বন্ধুর সাথে বসে বারিস্তার ডবল এসপ্রেসো। মাথা ধরা তাতেও কমে না যদিও..

শেষ সন্ধেয় ঈন্ডিয়ান আর্ট কলেজের গেস্ট হাউসে মাহমুদুল হক স্যারের সাথে বসে কথামালা। এশার নামাজ আর তসবীহ পরা শেষ করে এসে যোগ দেন হক ভাবী। তিনি আবার ব্ল্যাক লেবেল ছাড়া খান না। ইতিমধ্যে উঠে গিয়ে নামাজ সেরে আসেন স্যারও। বিশাল টেবিল ভর্তি নানা রকমের চিপস ভুজিয়া লবনাক্ত কাজু আর ব্ল্যাক লেবেল। আরাফাতের বিরিয়ানি আর চাপ। হক স্যারের চাঁদ রাতের সেলিব্রেশন। এসেছে লিপি আর মাহবুবও। গ্যালারি আকার প্রকারে মঙ্গলবার থেকে ওদের প্রদর্শনী।

রাত দশটায় আড্ডা শেষ হয়ে যাবে এটা জাস্ট হতে পারে না। চাঁদরাতের কলকাতা ঘোরার ইচ্ছে চাপা পড়ে ট্যাক্সিওয়ালা ভাইয়ের অনিচ্ছায়। ঠিকানা হিন্দুস্তান পার্ক, লিপি-মাহবুবের অস্থায়ী ডেরায়। সেখানে অপেক্ষায় রাশান ভদকা। শুভ আর আলোকচিত্রী বন্ধু দেব নায়েক তখন নিয়মমাফিক সান্ধ্য আড্ডায় কালো কুকুরের সাথে। রাশান ভদকার টানে শুভ আর দেবও চলে আসে লিপি মাহবুবের ডেরায়। গেস্ট হাউসের রিসেপশনের তাড়ায় আমরা আবার পথে..
শুনসান রবীন্দ্র সদন। পথশিশু নিশ্চিন্তে ঘুমায় ফুটপাথে। সারাদিনের বিক্রি বাটা সেরে দোকানি তার দোকান, যা কিনা খোলা আকাশের নিচে একখানা টেবিল সেই টেবিলের উপর পলিথিনে পসরা ঢেলে ঘুমে অচেতন পলিথিনে ঢাকা পসরার উপর। দুই পাশে বাপ মাকে নিয়ে বছর খানেকের শিশুটিও হারিয়ে আছে ঘুমের দেশে। হাতটা শুধু মুঠো করে ধরে আছে মায়ের কাপড়ের একটা অংশ। ক্যামেরায় ছবি ওঠে ক্লিক ক্লিক। আমি মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে সদ্য ইন্সটল করা বাংলা ফন্টে দেখি সচলায়তন, ফেসবুক, আর জিমেলের বাজ..

রাস্তায় খানিক পরে পরেই বাইকে করে হুল্লোড় করে ছেলের দল উদযাপন করে চাঁদরাত। নিঝুম রাতে সাঁই সাঁই ছুটে যায় তাদের মোটর বাইক তিন-চারজন করে সওয়ারি নিয়ে। ফুটপাথে বসে আমি অপেক্ষা করি একটা ট্যাক্সির নিদেনপক্ষে একটা শেয়ারের গাড়ির। লরিগুলো গজগামিনী স্টাইলে এগোয় বিদ্যাসাগর সেতুর দিকে। আমাদেরকে টোল অব্দি পৌঁছে দেওয়ার তাদের কোনো ইচ্ছে নেই। খালি ট্যাক্সিগুলো কথা শোনে না। ওরা এগিয়ে যায় যে যার ইচ্ছে মতো। ফুটপাথের আসন ছেড়ে এগোই ট্যাক্সি ধরার আশায়। কী ভেবে যেন একজন রাজিও হয়ে যায়। আমি তুলে নেই অপেক্ষারত আরো দুজন মানুষকে। ওরাও বাড়ি যাবে। সকাল হলেই ঈদ..


সকল বন্ধুকে ঈদের শুভেচ্ছা, ভালবাসা।
ভালো থাকুন সবাই..

1 comment:

  1. Anonymous11:13 PM

    Apnar lekha bhalo laglo... Bhalo thakben...
    -NILANJAN
    (www.nilanjansengupta.blogspot.com)

    ReplyDelete