Sunday, February 07, 2010

কাগুজে গুরুর বইমেলা অভিযান

প্রথম ও দ্বিতীয় দিন
------------------

এদিকে গুরুগণ বইমেলা- বইপত্তর নিয়ে নানারকম প্ল্যান প্রোগ্রাম, সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে চরম ব্যস্ত। আমার বাড়িতেও তুমুল ব্যস্ততা। রাত-দিন ফোনাফুনি, মেলা-মেলি, টাইপা-টাইপি। ওফফ্ফ
... গুরু পাঁচ নামি নামি করছে, প্রেসে যাবে কে? আমার ভদ্রলোকটি দৌড়ুলেন বইয়ের খোঁজে, হাতে নিয়ে এক্কেবারে মেলায় যাবেন! ততক্ষণ হাতে যা আছে সম্বল তাই নিয়ে আমি গুটি গুটি পায়ে মেলার পথে। সেখানে আবার এক ডাগদারবাবু আসিবেন বলিয়া জানাইয়াছিলেন। আসবে স্যান বালিকা, টিম্ভাই। মেলার গেটে দাঁড়িয়ে বইয়ের ব্যাগ হাতে বাবাই।

প্রেসিডেন্সি আর নন্দন দু জায়গাতেই বেশ সহজেই কা গু জাঁকিয়ে বসেছিল প্রথম দিন থেকেই। চেনা জানা সব লোকজন এসেছেন, পত্রিকা নিয়ে গেছেন, চন্ডালেরা এসেছেন, জোর আড্ডা হয়েছে ক'দিন। কেডি দশ হাতে সব সামলেছেন। রং বেরঙা জামা পরে মেলা ঘুরে, বুকের পরে কাগুজে গুরুর পোস্টার সাঁটিয়ে লোক পর্যন্ত ডেকে এনে বই বিক্রি করেছেন। এতসব কান্ড করতে গিয়ে খানিকটা কাবু হয়ে পড়েছেন শরীরের হাতে। প্রেসিডেন্সি-নন্দনের মেলা শেষ হতে না হতেই আবার অসুস্থ শরীর নিয়ে জুটে গেছেন নিখিল বিশ্ব বঙ্গ ভাট সম্মেলনের আয়োজনে। সেটাকেও সম্পন্ন করেছেন সফলভাবে। কিন্তু শরীর বলে, বাবাজী। মেলা হয়েছে, এবার একটু আরাম দাও আমাকে। ব্যস। কাবলিবাবু কাবু! ফলে যা হল, কলকাতা বইমেলায় গুরুচন্ডা৯ যাত্রা শুরু করল কাবু কাবলি মুখার্জীকে ছাড়াই।

কোথায় মমার্ত কোথায় কী। মেলায় শুধু ধুলো আর ধুলো। দু মাস লাল রঙের চোখ রাঙানি সহ্য করে সদ্য সেরে ওঠা চোখে আমার তুমুল জ্বালা ধুলোর ঝাপটা খাওয়ামাত্রই। উবুদশ খুঁজে পাবো না আমি জেনেও ডান-বাঁ কিছুই না বুঝে শুধু ঘুরে বেড়াই বেদিশার মতো। সাথে ঘোরে বেচারা বাবাই, যে কিনা আমার থেকেও বড় বেদিশা
: -( না পাওয়া যায় মমার্ত, না উবুদশ। সামনে দিয়ে কে বেরিয়ে যায়? সেও কি যেন খুঁজছে। মমার্ত কি? ঠিক! স্যানও মমার্ত খুঁজে বেড়াচ্ছে। সেখানেই ডাগদার্বাবু আমাদের সঙ্গীতাকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন যে! এগলি ওগলি সেগলি কোথাও নেই কাঙ্খিত মমার্ত। অগত্যা ডাগদারবাবুই এগিয়ে আসেন মেক্সিকোর পতপত করে উড়তে থাকা রঙীন কাপড়ের বিশাল ঘেরের প্যাভিলিয়ন পেরিয়ে।

বহুদিন বাদে দেখা সঙ্গীতার সাথে। ছোট্ট করে খানিক আড্ডা। আবার খোঁজ। উবুদশ। ভর্সা আছে মনে, পেয়েই যাব। তবে আমার ভাগ্য খুব ভাল কিনা তাই তখনও মেলায় পৌঁছননি অসিতদা। একমাত্র ভর্সা যাঁর পরে, মেলায় খানিকটা জায়গা তাঁর হাত ধরেই করে নেবে গুরুচন্ডা৯। ভাটুরেগণ ঢুকে যায় বইয়ের দেশে, বইয়ের ব্যাগ নিয়ে আমি উবুদশে, অসিতদা কখন আসবেন। আমার বেজার মুখ দেখেই হয়ত উবুদশের জাঁদরেল সম্পাদকের খানিকটা মায়া হয়, তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যান লিটল ম্যাগ কর্নারে, যেখানে পরবর্তী ১২দিন অধিষ্ঠান করবে কাগুজে গুরু। অসিতদার ব্যবস্থামত গুরুচন্ডা০ খানিকটা জায়গা পেয়ে যায় কণিকার টেবিলে। সহদৃয় অরিজিত বলেন, আপনি বসুন এই টেবিলেই, যতক্ষণ-যদ্দিন আপনাদের টেবিলের ব্যবস্থা না হয়। মনে প্রচন্ড ভয় তখন, যদি আদৌ টেবিল না পাওয়া যায়? অরিজিত বলেন, না পেলে এখানেই বসবেন আর কি। খানিক নিশ্চিন্ত হয়ে আবার সন্ধান, এবার ডাগদারবাবুগো। তাদের যদিবা পাওয়া যায় পাওয়া যায় না চায়ের কোনো দোকান। আবার খোঁজ। এদিক সেদিক। আসলে কোনো দিকেই নয়। প্রায় একই জায়গায় ঘুরপাক। অগত্যা চায়ের আশা বাদ। আমি ৬৭নম্বর টেবিলে এবং জনতা আবার বইয়ের দেশে।


2 comments:

  1. কলকাতা বইমেলা দেখা খুব ইচ্ছে। সামনের ফেব্রুয়ারিতে দেশে যাবার ইচ্ছে। সেই ফাঁকে ক'দিনের জন্য কলকাতা ঘুরে আসা যায় অবশ্য।

    ReplyDelete
  2. একটা মন্তব্য দিলাম। কই যেনো হারিয়ে গেলো :(

    ReplyDelete