একদিন একরাত টানা ঘুমিয়ে আর তারপর গত দিনটিও আধো ঘুম আর জাগরণের মধ্যে কাটিয়ে গতরাতটি কাটল প্রায় নির্ঘুম। বহু বহুদিন নাকি বহু বহু কাল, কতদিন, কতকাল পর এমন বেভুল ঘুম সে আমার মনেও নেই আর তারপর এই চেনা জেগে থাকা। এই জেগে থাকাটাই নিত্যকার রুটিন কাজেই এ নিয়ে চিন্তা নেই। আমি বরং ব্লগ লিখি..
দীপান্বিতার রাত, কালো রাত আলোয় আলোয় ঝকমক ঝকমক। নানারকমের বাজি ফাটছে মুহুর্মুহু, বাড়িগুলো সেজে আছে আলোর মালায়, জানালায় জানালায় টুনিবাল্বের ঝোলানো-প্যাচানো মালাগুলো জ্বলছে নিভছে, জ্বলছে নিভছে ঝিকমিক ঝিকমিক। ছাদভর্তি ফাটানো বাজির খোলা, আধফাটা না ফাটা ছোটোখাটো বাজিগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে গোটা ছাদময়। নিচের খালি গ্যারাজঘর সদ্য আবারও খালি হয়েছে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর, সেখানেই লাল প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে ফ্ল্যাটবাড়ির লোকজন সব, মহিলামহল একজায়গায়, পুরুষেরা এদিক-ওদিক, কেউ সিগারেট, কেউ বা রাতের পানের ব্যবস্থায় ব্যস্ত, কেউ বা খুঁজছে আগের রাতে ছাদে ফেলে আসা আইসট্রেটি, সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায় না যদিও। মাঝের একতলা লালবাড়িটির বারান্দা জুড়ে বালতি আর গামলায় রাখা খাবার সব, এখুনি খাওয়া শুরু হলো বলে, বাচ্চাগুলো এদিক ওদিক, মায়েরা ব্যস্ত পড়শি বউটির কেন লালরং অত পছন্দ তা আবিষ্কারে। এরই মধ্যে ইলেক্ট্রিশিয়ান হাজির বাড়ির সামনেটায় যা আলো লাগানো হয়েছে সেগুলো খুলে নিতে, তাকে অনেক বলেও বোঝানো যায় না, যে আরেকটু থাক, মা চলে গেছেন তো কী হয়েছে, ভক্তদের খাওয়া-দাওয়াটা অন্তত হোক!
ফ্ল্যাটবাড়ির বাসিন্দারা, এমনিতে যারা চুড়ান্ত ভদ্রলোক, বাড়ির পুজোর নামে চাঁদা তোলায় তারাই খড়গহস্ত। মোটা অংকের চাঁদা বাধ্যতামূলক দিতে কারই বা ভালো লাগবে, আমার অন্তত লাগেনি, কে কত দিয়েছেন সে সমস্ত শোনা হয়ে যায় আমার বেশ কয়েকবার করে। রাতের বিসর্জন পরবর্তী গেটটুগেদারে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রন বা নিমন্ত্রন কতটা আন্তরিক সে বিচারে আমি আর যাই না। ইতিমধ্যে বারকতক আমার শোনা হয়ে যায়, গতবার যেমন পালিয়ে গিয়েছিলাম, এবার যেন আর তেমনটি না হয়। আমি বুঝে যাই, পালাবার পথ নেই, ভাটন আর খ্যাটনে হাজির থাকতেই হবে, চাঁদার মতই এও বাধ্যতামূলক!
চ্যানেলে চ্যানেলে রিয়্যালিটি শো, কোথাও চান্স পে ডান্স তো কোথাও দাদাগিরি, একফাঁকে বালিকা বধু আর ফাঁকে ফাঁকেই ডান্স বাংলা ডান্সের প্রোমো। আজও দুমদাম ফাটছে শব্দবাজি, আকাশ চিরে দিয়ে উড়ে যায় রকেট আর আতস, খানিকটা আলোকিত থাকে বাজির আলোয় আবার সেই ল্যাম্পপোষ্টের মরা আলো। মশারা সব আজ বাড়ির ভেতরে, এমনিতেই জঙ্গল সাফাই আর বোজানো পুকুরের উপর দাঁড়িয়ে থাকা চারতলা সব বাড়ির উৎপাতে ওরা ঘর-বাড়িহীন তার উপর বাইরের অত আলো আর শব্দে ওরাও বেভুল, বাজির শব্দের সাথে সাথে শোনা যায় মশা তাড়ানোর শব্দও।
আজ ভাইফোঁটা ছিল। সকাল সকাল এক ভুলে যাওয়া নাকি হারিয়ে যাওয়া নম্বর থেকে ক্ষুদ্র বার্তা আসে, ফোঁটা নিয়ে নিলাম, আর আশীর্বাদও চেয়ে নিলাম, দিদি আমার শতায়ু হোক! নম্বর দেখে মনে করতে পারি না, কে হতে পারে? তবে ঠাউর হয়, কে হতে পারে, প্রতিবারেই আমি ভুলে যাই বলে ঠিক একইভাবে সে আমার কাছ থেকে ফোঁটা নিজে নিজেই নিয়ে নেয়.. মনে পড়ে গেল, একজনকে বলেছিলাম ফোঁটা দেব, মন থেকেই বলেছিলাম দেব কিন্তু গতবার কলকাতা থেকেই পালিয়ে গেছিলাম আর ফোঁটার কথা বেমালুম ভুলে গেছিলাম বলে আমাকে 'ব্লাডি ফাকিং মুসলিম' উপাধি পেতে হয়েছিল.. এখনও মাঝে মাঝেই প্রায় একই ভাষায় চিঠি-মন্তব্য চলে আসে আমার বিভিন্ন ঠিকানায়..যার মধ্যে যোগ হয়েছে আরো হাজার খানেক অভিযোগ, বিশেষণ!! আমার অবশ্য কোনো অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে..সত্যিই নেই..
মাঝরাতে চকোলেটের ক্ষিদে মেটাতে ফ্রীজের ভেতরটা আতিপাতি খুঁজেও পাওয়া যায় না চকোলেট, অগত্যা রমজানের লেফটওভার খেজুর। খুঁজে পাওয়া যায় না ফিলিপিন্সের ড্রাই ম্যাঙ্গোর প্যাকেটটিও। মেজাজ চরম খারাপ। আমার ভালুকজ্বর আবার বাড়ছে বেশ বুঝতে পারি..
.jpg)


1 comments:
jhorokha mein diye jwalte hain aj
tum bin dhal gayee ye sham
itni chiraag jwali, fir bhi diwali nahin aiyee
bekar ho gayee meri diwali ki saaj
jhorokhai diya jwolechhilo aj
sathiharar gobhir hoi andhar
katoi tho deep jwolechhilo, tobu deepabali elo na tho
byartho holo amar ei deeabalir saaj
Post a Comment