Tuesday, September 22, 2009

অদ্ভুত আঁধার এক..

গতকাল একটা অদ্ভুত দিন গেল..

মাথাটা কী রকম ফাঁকা, কী রকমও নয়, একদম ফাঁকা..
ঠিক যেমম ফাঁকা ছিল টানা সতেরোটা বছর..

আচ্ছা, সতেরো বছর কাকে বলে তুমি কী জানো?

কোনো ভাবনা নেই..
চিন্তা নেই..
একদম ফাঁকা ..
খালি..
শূণ্য..
অভ্যেসসশত দৈনন্দিন কাজ সব করে যাই একের পর এক, সেই আগের মতো।
যখন আমি অবসাদের ওষুধ খেয়ে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ফাঁকা মাথায় শুধু অভ্যেসবশে করে যেতাম একের পর খুঁটিনাটি সব কাজ, সংসারের কাজ। হাত চলত হাতের মতো, পা চলতো পায়ের মতো, আমার কোনো ইচ্ছে-অনিচ্ছের ধার তারা ধারতো না। আসলে কোনো ইচ্ছে-অনিচ্ছে তো অনুভবও করতাম না।
'মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি কোন মিস্তরী বানাইয়াছে/ একখান চাবি মাইরা দিসে ছাইড়া জনম ভইরা চলতে আছে..' তো আমাকেও সেই চাবিই চালিয়ে নিয়ে যেত, আমাকে ভাবতেও হতো না, এরপর কী করব, কেন করব, কী করা দরকার.. আমি শুধু করে যেতাম..সকালে, দুপুরে আর রাত্তিরে ওষুধ খেতাম আর আমার হাত-পা-শরীর চলত, আমিই শুধু চলতাম না, একটা জায়গায় থমকে ছিলাম, আটকে ছিলাম, আমার শৈশবে, আমার ছেলেবেলায়..

গতকাল আবার সেই রকম একটা দিন গেল, কাল ঈদ ছিল, রোজার ঈদ। প্রতি ঈদে আমার খুব সকালে ঘুম ভেঙে যায়, আপনা থেকেই, কালও ভেঙেছিল, আপনা থেকেই। প্রতি ঈদে আমি ভোর ভোর উঠে ঘর গোছাই, বিছানা-বালিশের কভার বদলাই, ধোপার বাড়ি থেকে সদ্য কেচে আসা কড়কড়ে ইস্তিরি করা
পর্দার ভাঁজ ভেঙে টানিয়ে দিই দরজা-জানালায়, সব কটা দরজায় সামনে পেতে দিই নতুন পাপোষ, কালও দিয়েছি, নিতান্তই অভ্যেসবশে, আমার কোনো হাত ছিল না এই কাজগুলোতে। কালকেও কী আমি আটকে গেছিলাম আমার ছেলেবেলায়?

না। কালকে আমি আটকে গেছিলাম ঝড়ের পরের নিস্তব্ধতায়, জলোচ্ছাসে সব ভেসে যাওয়া গ্রাম দেখেছ তুমি? কিছুই থাকে না যেখানে? তুমি কী দেখেছ কখনো ঘর-বাড়ি, ক্ষেত-খামার, পোষা গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, হাঁড়ি-বাসন, খড়ের গাদা আর জমানো গোবর সব, সব যখন ভেসে যায় আর পড়ে থাকে শুধু থকথকে কাদা? পা দিলে যেখানে ডুবে কোথাও হাঁটু তো কোথাও কোমর অব্দি? সেই কাদার মধ্যে এখানে ওখানে আধখানা ডুবে থাকে মরে পড়ে থাকা গাভীন গাই, সদ্য ডিম থেকে বেরিয়ে আসা মুরগীর ছানা আর ইতি-উতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গেরস্থালী আর দু'চোখের গহীনে বসত করা সীমাহীন স্বপ্ন? যেখানে কোনো রঙ নেই, ধূসর ছাড়া, এমনকি সাদা-কালোও নেই, দেখেছ কখনো?

আমি কাল সেই বিরান হয়ে যাওয়া জনপদে একলা বসেছিলাম.. বসে আছি..

থমকে ছিলাম, আটকে ছিলাম..

আটকে আছি..

একটি স্বপ্নের ভ্রুণ সাথে নিয়ে অবিরাম শুধু বয়ে যাচ্ছিল গোলাপী রঙের রক্ত ..

আর তারপর থেকে বয়েই যাচ্ছে আমাকে ক্রমশ রক্তশূণ্য করতে করতে...

Monday, September 21, 2009

তুমি এলে না বলে..


আজ আমাদের ঈদ নয়

আজ ইদ। কাল সন্ধেবেলায় ছাদের উপর থেকে চাঁদও দেখলাম। বহু বছর পরে। প্রতিবারেই তো সেই রাত এগারোটার পরে মসজিদ থেকে বলে দেওয়া হয়, অমুক জায়গায় চাঁদ দেখা গেছে, অতএব কাল ঈদ! মসজিদে মসজিদে তার বহু আগেই যদিও সারা হয়ে গিয়ে থাকে তারাবির নামাজ। কিন্তু কাল চাঁদ দেখা গেল আর আমিও দেখলাম। ঝকঝকে আকাশে একফালি চাঁদ। ঈদের চাঁদ। লোডশেডিংএর নীরবতায় দূরের মসজিদ থেকে মাইকের আওয়াজে ভেসে এল পরদিনের নামাজের সময়। বারে বারেই.. কোথাও কোনো শব্দ নেই.. এমন দিনে এমন নীরবতায় আধখানা শেষ হওয়া চারতলা বাড়িটিতে বাড়ির কারিগরেরা গান ধরল। কী আশ্চর্য, ওরা ঈদের গান গাইছে..কথাগুলো ঠিক বুঝতে পারি না, আঞ্চলিক টান, কিন্তু ইদের চাঁদ কথাটা বারে বারে ঘুরে ঘুরে আসে গানের মধ্যে। আহারে.. বছরকার দিনটিতেও ওরা বুঝি বাড়ি যেতে পারল না..
আজ আমাদের ঈদ নয়..
তুমি এলে না বলে.. 
তুমি এলে তবে ঈদ হবে..

বাবুটা তবু রেড রোডের জামাতে গেল আর ভিজে কাক হয়ে বাড়ি ফিরল।
আমি তবু খানিকটা সেমুই রাঁধলাম বাবু নামাজ সেরে ফিরে খাবে বলে। কিন্তু সক্কলে তো আজ ঈদ করছে.. ভাইয়া তাই ফোন করে জানতে চায় কী রান্না করেছি.. আব্বা বলে, সকলেই আছে তুমি শুধু নেই.. এই সেদিন বাড়ি থেকে ঘুরে আসা সত্বেও আম্মা জানতে চায়, কবে বাড়ি আইবা? আমি বিছানার দিকে তাকাই, ওতে পাতা আছে কালোর উপর কাঁথার ফোঁড়ের নকশী চাদরখানি, আমার মায়ের দেয়া। ওতে আমার মায়ের হাতের ছোঁয়া যেন এখনো লেগে.. প্রতি শাবান মাসের এক তারিখে ওটা আমি আমার বিছানায় পাতি, আজও পেতেছি, আমার মা আজ ইদ করছে বলে.. আমার চোখ ভিজে আসে শুধু-মুদুই.. ফোনের ওপাশ থেকে শুনতে পাই পিচ্চিগুলোর কলকলানি। ছোট্ট অপুটার ও ও আমি এখান থেকেই শুনতে পাই। ফোনের ওধারে..
বেলা এগারোটা বাজতে বাজতেই মুখ ভার হয় আকাশের আর নামে অঝোর ধারা সাথে গুরু গুরু, দ্রিমি দ্রিমি.. এমন বৃষ্টিময় দুপুরে আমি বাথরুমের খুপরি জানালায়, কিচেন কাউন্টারে জল ঢেলে দিই ইচ্ছেমতন। এমনি দিনে ন্যাতা দিয়ে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতে হয়, জল ঢাললে সোজা গিয়ে পড়বে তিনতলা-দোতলার সব চৌখুপরিতে, আর একতলা থেকে তিনতলার সব নারীকন্ঠে একযোগে অভিশাপ বর্ষিত হতে থাকবে চারতলার বাসিন্দা মুসলমানটির উপরে। তুমুল বৃষ্টিতে আজ কারোর কোনো চেঁচামেচির সুযোগ নেই, আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে


০২
কখন তোমার আসবে টেলিফোন..
ফোন। আমার ফোনটা বছরে দু'বার বাজে। সারাদিন ধরে বাজে। এসএমএসের পর এসএমএস আসে সারাদিন ধরে, বছরে দু'বার। এমনি সময়েও বাজে তবে সেগুলো বেশির ভাগই হয় কোনো বীমা কোম্পানীর নয় কোনো ক্রেডিট কার্ডের নয় এয়ারটেলের। আর এসএমএস গুলো এমনি দিনে পাঠায় এয়ারটেল বা পাড়ার ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের নানান অফার দিয়ে। কিন্তু বছরে দু'বার আমার ফোন বাজে আর সারাদিন ধরে বাজে। এসএমএস আসে আর সারাদিন ধরে আসে। আমার জন্মদিনে আর ঈদের দিনে। ভোর ভোর ফোনের ওধারের গলা শুনে চিনতে পারি না, ওটা রূপক'দার গলা। কখনো তো কথা হয় না, চিনব কী করে! সেই বাংলালাইভের বাংলা আড্ডার আলাপ। বছরে দু-একবার দেখা হয়ে যায় কোনো কমন বন্ধুর বাড়ির বৈঠকখানায়। তোর নাকি জ্বর হয়েছে? কী যে করিস, বছরকার দিনে অসুখ বাঁধিয়ে বসে! আমার বুকের ভেতরটায় কেমন চিনচিন করে ওঠে.. ফোনে একের পর এক উৎকন্ঠিত আওয়াজ সব.. শুভেচ্ছায় শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে অর্কুটের পাতা, উপচে ওঠে মোবাইলের ইনবক্স.. বেশির ভাগ নম্বরই চিনতে পারি না, চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনখানির সাথে চুরি গেছে সব নম্বরগুলিও। প্রতি ঈদের মত আজও এসএমএস আসে সিডনি থেকে, ইন্দ্রাণী, আমার আই-মশাই। যে কখনোই আমাকে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলে না, ঈদে বা জন্মদিনে। আমার চোখ বুজে আসে। ঝুম মেরে বসে থাকি। নাহ.. আসে না সেই ফোনটি.. কতো কত্তো কাজ..

০৩

কন্টিনিউয়েশন অফ বিশ্বকর্মা পুজো

সেদিন হঠাৎ করেই হাজির হয়েছিলাম শাশ্বতদের বিশ্বকর্মা পুজোয়। খেয়াল ছিল না, যে ওদের পুজো আছে, খাওয়া-দাওয়ার ব্যপার আছে। শুভেন্দু'দা রিতিমত টেনে টুনে বসিয়ে দেন দুপুরের খাওয়ায়, বিকেল পাঁচটায়।ইলিশ মাছ, মুন্না'র দোকানের খাসি আর চাটনি। পুজোর আনন্দে লুকিয়ে পাঁইট গিলে নেওয়া প্রবীরবাবুর আতিথেয়তার আতিশয্যে খাসির ঝোলে আমার জামা-কাপড় একশা। পরদিন শুভেন্দু'দার ফোন, ইলিশের মাথাগুলোর তো একটা গতি করতে হবে, চলে আসুন দুপুরবেলা, সন্ধেটাও এখানেই কাটাবেন। ইলিশের মাথার গতি করতে গিয়ে চলে আসে আরো কয়েক পিস ইলিশ মাছ আর সাথে কচু শাক। উড়ে বামুন জানে না কী করে রাঁধতে হয় কচুর শাক। দশ আঁটি কচু শাক কোটা-বাছা আর রান্না করতে হয় শুভেন্দু'দাকেই। ইলিশের মাথা দিয়ে বিশ্বকর্মা পুজোর কন্টিনিউয়েশনে নেমন্তন্ন পায় আরো দশ-বারো জন। আবারো লাঞ্চ বিকেল পাঁচটায়। আধপচা লিভার পুরোটা না পচে যায় সেই ভয়ে এক হপ্তা শুভজিত সুরাবিহীন। এলজোলামের ঘুম। সন্ধ্যেয় স্বপন'দার ট্রিট, ব্লেন্ডার্স প্রাইড। একটা এসএমএস। কাল তোমাকে হলে দেখতে চাই..! অপরিচিত নম্বর। কে হতে পারে? আরে হ্যাঁ, কাল অনুশ্রীদির গান আছে না বিড়লা অ্যাকাডেমি মঞ্চে? সেখানকারই কেউ? মোবাইল হারিয়ে এই এক যন্ত্রণা হয়েছে, কে ফোন করছে, কে এসএমএস করছে কিস্যু বোঝা যায় না। আসে জোশি, সাথে কাটোয়া কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক নন্দিতা। বেচারী নন্দিতা, জোশি তার একটা ফিল্মে নন্দিতাকে অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিতে রাজী হয়েছে, নন্দিতা ধোঁয়া ফোকা ছেড়ে দেবে এই শর্তে! ব্লেন্ডার্স প্রাইড, শুভেন্দু'দা আর এক গোল টেবিল ভর্তি ধোঁয়ার মাঝখানে চুপচাপ বসে থাকে ব্লেন্ডার্সের গ্লাস হাতে নিয়ে। 

কম্পিউটারে মৌসুমী ভৌমিক, আমি শুনেছি সেদিন নাকি তুমি তুমি তুমি তুমি তোমরা সবাই মিলে সভা করেছিলে.. প্রথমে গুনগুন পরে গলা ছেড়ে গেয়ে ওঠে শমীকও। আমাদের সভা শেষ হলে মঈন ভাইয়ের গাড়ি পাঁক খেতে খেতে লোক নামায়, মন্দিরতলা, উল্টোডাঙা, রুবী, নাকতলা। তারপর পার্ক সার্কাসের গ্যারাজ।
মাঝরাতে ফোনে শুভজিত। ক্লান্ত, বিষন্ন আওয়াজ। রিনিকে একটা ফোন করবে প্লিজ! রিনি আমার ফোন আজকাল আর ধরে না.. আমি চুপ করে থাকি লোডশেডিংএর অন্ধকারে.. শুভ'র হাতটা ধরে..কষ্টের রং নাকি নীল.. এখনও কী শুভ নীল হয়ে আছে..

Wednesday, September 09, 2009

মোর ঘুমো ঘোরে গেলে মনোহর..

টিউবর্গ ও ড্রিংক ইন্ডিয়া

তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে ক'দিন। ক'দিন হলো? দু-তিন হবে বোধ হয়। হুঁ। পরশুর আগের দিন মানে তরশু দুপুর থেকে হু হু বাতাস। ঠান্ডা। শিরশিরে। তারপর বোধ হয় রাত থেকে শুরু হল। পরদিন ভোররাতে সে চলে যাবে। চেষ্টা করেও তাড়াতাড়ি ঘুমুনো গেল না। ড্রিংক ইন্ডিয়া, টিউবর্গ আর শুভজিত। এগারোটা বেজে গেলে আমাদের গেটে তালা পড়ে যায় মাসুদ-কাঁকনের বাড়ির মত। এখানে কোনো সাগর নেই, যার বাড়িতে এমন সব রাতে গিয়ে বডি ফেলে দেওয়া যায় তাই জানলা দিয়ে উঁকি দিতেই হয় একতলার ফ্ল্যাটে। বৌদি মোবাইল ফোনে কাজের মেয়ের প্রেমের ঝামেলা মেটাচ্ছিলেন। রাত বারোটায়। সহৃদয়া বৌদি চাবি দিলে গেট খুলে চারতলার বাসস্থানে। টিউবর্গের ঝিমুনিতে বইভর্তি স্যুটকেস-ব্যাগ খালি করে খালি স্যুটকেসে খালি ব্যাগ ভরে দেওয়া হয়।



 ০২
রিয়্যালিটি/ রিয়্যালিটি
স্টার প্লাসে সাচ কা সামনা- সত্যের মুখোমুখি। ছ'টা সত্যি কথা বললে এক লাখ টাকা পুরষ্কার। এগারোটা সত্যি কথা, পাঁচ লাখ। পনেরোটা সত্যি, দশ লাখ। এভাবেই বেড়ে যেতে থাকে পুরষ্কারের অংক। আপনি একুশ খানি সত্যি কথা বলে ফেলুন, পেয়ে যাবেন এক কোটি টাকা। একটা মিথ্যে- খেল খতম। সত্যি-মিথ্যে কে ধরবে আর কী করে? নো চিন্তা। পলিগ্রাফ মেশিন কী করতে আছে? প্রশ্ন গুলো কেমন? আপনি কী আপনার স্ত্রী-পার্টনারকে সত্যি সত্যি ভালবাসেন? না বললে পলিগ্রাফ খচে যাবে আর হ্যাঁ বললে বউ। তবে রিয়্যালিটি শো বলে কথা। আপনি বলতে বাধ্য হবেন যে আপনি আপনার বউ-পার্টনারকে সত্যি সত্যিই ভালবাসেন না। হ্যাঁ। পলিগ্রাফ মেশিন আপনার সত্যি-মিথ্যের ফরমান জারী করলে আপনি ক্ল্যারিফাই করতে পারেন, যে আপনি ভালবাসেন না বাট কেয়ার করেন! গুড.. তাতে বউ খচে খচুক, আপনি এগিয়ে যাচ্ছেন এক কোটি টাকার দিকে। অতএব এগিয়ে চলুন পরবর্তী প্রশ্নের দিকে, আপনি কী অন্তর্জালে কাউকে আপনার নগ্ন ছবি পাঠিয়েছিলেন? আপনি আর স্বীকার করতে পারলেন না, অমনি জিতে যাওয়া দশ লাখ টাকা চলে গেল শূ্ন্যতে, একটা মিথ্যের দৌলতে। মন্দ নয়... 
শো'য়ের প্রশ্নকর্তা রাজীব খান্ডেলওয়াল। চেনেন নিশ্চয়ই, সেই যে আমীর সিনেমার নায়ক। 'সাচ কা সামনা' মানে এই সত্যি-মিথ্যের খেলাটিতে গেলে কেমন হয়? রাজীব শো'টা হোস্ট করছে :-)



 ০৩
মোর ঘুমো ঘোরে গেলে মনোহর...

ঘুমিয়েছিলাম গভীর নিদ্রায়,
অচেতন প্রায়.. তুমি চলে গেলে,
যাবে বলেই এসেছিলে, 
তবু চলে গেছ এ যেন বিশ্বাস হতে চায় না.. 
কবে থেকে ঘুমোচ্ছিলাম যেন? 
মনে পড়ে না... 
রক্তক্ষরণ হয়, 
গোলাপী রঙের রক্ত.. 
তুমি দেখেছ কখনো গোলাপী রঙের রক্ত? 
বয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই..
ঘুম ভে‌ঙে যায়, 
ক্ষরণ থামে না...

বুকের ধুকপুকুনি জানান দেয় হৃদপিন্ড নামক একটি বস্তু আছে ভেতরে
আর সে এমন জোরে ঢাক বাজায় যে পুজোর ঢাকে আগাম কাঠি পড়ল বলে ভ্রম হয়.. 
শিরায় উপশিরায় আছড়ে আছড়ে পড়ে নার্গিস..
থরথর কাঁপে আঙুলগুলি,
উজাড় হয়ে যায় বনকে বন,
মরে পড়ে থাকে এক জঙ্গল সুন্দরী গাছ..
কবে থেকে যেন বাংলাদেশের নাম হয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তান। রাজাকার। মুসলমান। দেশভাগ, হিন্দু-মুসলমান, পিতৃপুরুষের ছেড়ে আসা ঘরবাড়ি আর অপরিসীম ঘৃণা সব এসে বসত করে ওল্ড মঙ্ক গোল্ড রিজার্ভে। রাত গভীর হয়। পুলিশের কোয়ার্টারে এসে ট্যাক্সি থামে। ডাল রান্নায় কোনো নতুনত্ব নেই। সব একই রকম। মুগ-মুশুর-মটর সবই এক। পাল্টে পাল্টে যায় শুধু বন্দর। এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে এগিয়ে যায় জাহাজ। নতুন গঞ্জ, নতুন মানুষ, আর সবুজে সবুজ.. সওদাগরের নাও গিয়ে ভেড়ে জামাতীদের দেশে..

দিল আফরোজ রেবা তবুও গান গেয়েই যান, 
বন্ধুয়া গেল কুন বা দ্যাশে/
কান্দো বসি মুই পাগল ব্যাশে/
ডাকে কাগা্য ঐ জালের বাতাক্‌ বসে/ 
ওরে মনোতে মোর লাগিল ধাগা/ 
কন্টে যাইয়া সোনা পড়িল্‌ বান্ধা/
আসিয়াও ক্যানো আর না ক্যানে আইসে/ 
ওরে নিয়া গেছে সোনা মুখের হাসি/ 
হাউশের শিঙ্গার মোর হইল রে বাসি..


০৪
এমনও ঘনঘোর বরিষায়
দু'দিন নাকি তিনদিনের বৃষ্টি? তুমুল বৃষ্টিকে সাথে নিয়ে আমি বেরোই আমার লম্বা ডাঁটির বাদামী ছাতাখানি নিয়ে। বাড়ি থেকে বেরোতেই বোঝা গেল, আজকেই তো হেঁটে বেড়ানোর দিন.. সদ্য জ্বর থেকে উঠে আর ছাতা বন্ধ করতে সাহস হয় না, জিনসের পা উঠে যায় যতটা ওঠানো যায়, চটিজোড়া হাতে নিয়ে আমি হাঁটুজল ভেঙে ভেঙে এগিয়ে যাই ফ্লাইওভারের পাশ দিয়ে। গোটা শহর ভেসে গেছে এই দুই নাকি তিনদিনের বৃষ্টিতে? এমন বৃষ্টিদিনেও রাস্তায় লোক কম নেই, আপিস ফেরতা সব নারী-পুরুষেরা গোটানো প্যান্ট আর হাঁটুর উপর তুলে ধরা শাড়ি নিয়ে দৌঁড়ান বাসের পেছনে পেছনে। একখানি ট্যাক্সির পেছনে ছোটেন ডজনখানেক মানুষ। হুঁশ করে ট্যক্সিরা বেরিয়ে যায় কারো দিকে না তাকিয়ে। এক্সাইডের মোড় থেকে হাঁটুজল ভেঙে ভেঙে এলগিনের মোড়, গরম গরম পেঁয়াজি ভাজা খাই দোকানীর পলিথিনের তলায় দাঁড়িয়ে। স্যান্ডেল ছিঁড়ে যায় মীনাক্ষীর। এমন দিনে এর থেকে ভাল আর কীই বা হতে পারত! আমরা হাঁটি ফোরামের দিকে। জল ভেঙে ভেঙে। ঠান্ডা লাগে, কাঁপুনি আসে, কিন্তু এমন দিন কী বারে বারে আসে? মাথার উপর অঝোর বর্ষা নিয়ে লম্বা ডাঁটির বাদামী ছাতা আর চটিজোড়া হাতে নিয়ে হাঁটতেই থাকি, এলগিন পেরিয়ে ল্যান্সডাউন, মিন্টোপার্ক তারপর আবার এক্সাইড..

শেয়ারের ট্যাক্সি,
বিদ্যাসাগর সেতু,
ভেসে যাওয়া উড়ালপুলের নীচের রাস্তা.. 
বাড়ি.. 
আদা আর গোলমরিচ দেওয়া গরম গরম চা..
দিল আফরোজ রেবা.. 
আর বহু বহুদিন পর এই ব্লগ ব্লগানি..