Sunday, December 14, 2008

আজ ঈদ...

খিদিরপুরের কোরবানির পশুর বাজার এই প্রথম দেখলাম৷ বিদ্যাসাগর সেতুর যে উড়ালপুলটা হেষ্টিংসএ গিয়ে নেমেছে সেই উড়ালপুলের নিচে বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে বাজার৷ দিনেরবেলায় লোকজন খুব একটা থাকে না৷ ব্রীজের তলা আর দুপাশের মাঠমত জায়গাটি জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাজার৷ বেলা যত পড়তে থাকে বাজার তত জমতে থাকে৷ দিনের কাজ সেরে মানুষ আসে কোরবানির পশু কিনতে৷ ঈদের আগে গতকাল শেষ বাজার বলে কাল দুপুর থেকেই বাজারে বেশ ভীড়৷ বেশ কিছু নারীমুখও দেখলাম বাজারে৷ পরনের কাপড় আর পরার ধরন দেখে মনে হল বিহার বা ইউপির গ্রাম থেকে এসেছে৷ পশু আগলে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে মনে হল পশু বিক্রি করতেই আসা৷ কিংবা আরও দূরের কোন গ্রাম থেকে নিজের পোষা প্রাণীটি নিয়ে কলকাতার এই হাটে এসেছে ভাল মূল্য পাওয়া যাবে বলে৷ কোরবানির পশুর হাটে নারী বিক্রেতা৷ বেশ নতুন লাগল৷ হয়ত প্রতিবারেই আসে, আমার চোখে পড়েনি৷


রাস্তায় প্রায় জ্যাম লাগিয়ে দিয়ে কিনে আনা গরু নিয়ে লোকজন হেঁটে যাচ্ছে, এক একটি গরুর সাথে তিন-চারজন করে মানুষ৷ রাস্তার নিয়মকানুন জানে না বলে গরুগুলি মাঝে মাঝেই ধার ছেড়ে চলন্ত গাড়ির ফাঁক গলে রাস্তার মাঝে চলে যাচ্ছে দড়ি ধরে রাখা মানুষটির হাত ছাড়িয়ে৷ যার হাতে দড়ি সে কিছুতেই সামলাতে পারছে না তাগড়া গরুটিকে৷ গরুর পেছনে সেও ছুটছে রাস্তার মাঝ দিয়ে, চলন্ত গাড়ির ফাঁক গলে গলে৷ বাধ্য হয়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ছে, চলন্ত বাস থেকে মানুষের খিস্তি উড়ে যাচ্ছে গরু আর রশি ধরে থেকে হঠাত্ হওয়া রাখালের উদ্দেশ্যে৷ ভিড়ে ঠাসা বাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে চিড়ে চ্যাপ্টা হতে হতে আমি দেখছিলাম গরু হাতে মানুষের শোভাযাত্রা৷ পেছনে গায়ের পরে যিনি গা ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি সমানে কটুক্তি করে যাচ্ছিলেন গরুখোর মানুষগুলোর উদ্দেশ্যে, মুসলমানদের উদ্দেশ্যে৷ রাস্তার ধারে ধারে লাঠি হাতে দাঁড়ানো পুলিশ, সোমবারের ব্যস্ত রাস্তা আর পরবের আগের দিনকার শেষবেলার ব্যস্ততা সবই যেন বলছে, কাল ঈদ, কোরবানির ঈদ৷


আমি যেখানে থাকি সেখানে ঈদ বলে কিছু বোঝা যায় না৷ ভোরবেলা থেকেই রোজকার মত শুরু হয়েছে পাশের বাড়ির ঝগড়া৷ একতলা বাড়িটির ছাদে নাইটি পরা মেয়েটির মোবাইল কানে ঘুরে বেড়ানো, দোতলার সঞ্জীববাবুর স্ত্রী লেখার চিত্কার তার ছেলের উদ্দেশ্যে, বন্দোপাধ্যায়দের বাড়ির সদ্য জন্মানো শিশুকন্যাটির কান্নার শব্দ সবই আর পাঁচটা দিনের মত৷ ফ্ল্যাটের দরজায় দরজায় একের পর এক কলিংঅবেল, প্রথমে কাগজওয়ালা তারপর দুধওয়ালা তারপর স্যুইপার৷ চলতেই থাকে একের পর এক
... ভোরবেলাকার এই শব্দকল্পে কিছুদিন ধরে শুধু যোগ হয়েছে মিষ্টার বাসুর বাড়ির সিডিতে চলা উচ্চাঙ্গ সগীতের সুর৷ কিন্তু আজ ঈদ৷ সেটা জানান দিতে নতুন শব্দ যোগ হয়, এসএমএসের শব্দ৷ ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠান শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার৷ গান করেন৷ আমার সাথে আলাপ হয়েছিল দোহার-এর গান শুনতে গিয়ে, সেদিন তিনিও গান করেছিলেন কালিকাপ্রসাদের সাথে৷ ঈদে, বিজয়ায়, দীপাবলীতে একটি করে বার্তা আসে তাঁর কাছ থেকে৷ আজও এসেছে, খুব ভোরে৷ আমি যখন হাল্কা শীতে গুটিসুটি মেরে উঠি উঠি করছিলাম তখনই মেসেজটা আসে৷ এরপর একের পর এক মেসেজ আসে, কেউ এই কলকাতা থেকে আর কেউ বহু বহু দূর থেকে ঈদ মুবারক জানায়৷ না : উঠেই পড়ি৷ আজ ঈদ ...



[বেশ বড় করে কোরবানীর ঈদ নিয়ে লিখব বলে গুরুচন্ডালী-র টইপত্তর বিভাগে লেখাটি শুরু করেছিলাম কিন্তু খানিকটা লেখার পরেই উঠে পড়ে ব্যস্ত হয়ে যাই দৈনন্দিন কাজ-কর্মে। আপাতত অন্য একটা লেখায় ব্যস্ত আছি, সেটি শেষ হলে এর বাকিটুকু লেখার ইচ্ছে...]