Tuesday, July 29, 2008

সে এক বৃষ্টিদিনের কথা


অনেক অনেক দিন পরে ভদ্রলোক একটু বাইরে গেলেন দিন চারেকের জন্যে। তিস্তা নামক কিছু একটা টেলি-প্রোগ্রামের টাইটেল শ্যুট করতে, নর্থ বেঙ্গল। নর্থ বেঙ্গল শুনলেই যদিও আমিও লাফিয়ে উঠছি আজকাল কিন্তু ইউনিটের সাথে যাওয়াটা পোষাবে না বলে কিছু না বলেই ব্যাগ-ফ্যাগ গুছিয়ে ভদ্রলোককে রওয়ানা করে দিই। এই বর্ষায় সাধারনত কোন পাগলেও নর্থ বেঙ্গল যায় না তাও আবার শ্যুটিংএর জন্যে কিন্তু এই লোকগুলো কখন যে কি করে তা এরা নিজেরাও বোধ হয় জানে না। আজ সারাদিন সে মালবাজারের একমাত্র হোটেলটিতে বন্দি, প্রচন্ড বৃষ্টিতে শ্যুট তো দূর অস্ত বাইরে বেরুনোর জো নেই। সেটা অবশ্য আমি ওকে যাওয়ার আগেই বলেছিলাম, কাজ কদ্দূর হবে না হবে জানি না, তবে তুমি বিশ্রাম পাবে কয়েকদিন!

ওর সাথে আমার প্রথম যেদিন দেখা হয়েছিল সেদিনও নাকি সে সকালবেলায় নর্থ বেঙ্গল থেকেই ফিরেছিল, আর সেও এই জুলাই মাসই ছিল! অবশ্য সেটা জুলাইয়ের প্রথম দিকের কথা। সেদিনও সারাদিন কলকাতায় অঝোর বৃষ্টি। কলকাতার হাঁটুজল ভেঙে আমি কোনমতে পৌঁছেছিলাম সল্টলেকে, সেখানে তখন কোমর জল। একটা আড্ডার আয়োজন ছিল, কিছু মজলিশী আড্ডাবাজের। এক বন্ধুর কল্যাণে আমিও নিমন্ত্রিত ছিলাম। আড্ডা তখন শেষের পথে, ভদ্রলোক ঘরে ঢুকলেন ভিজে কাক হয়ে, হাতে একখানি ভাঁজ করা ছাতা, যার থেকে তখনও জল ঝরছে। তার চেহারা-সুরত দেখে দু-এক পিস ফিচেল তার নাম দিয়েছিল চেঙ্গিস খান। বলা বাহুল্য, আমিও সেই ফিচেলদের একজন। ব্যাঙ্গালোর থেকে আমাদের ছোট্ ভুত তাকে ফোন করে করে ঘুম থেকে তুলে পাঠিয়েছিল সেই আড্ডায়।

নামটা আমার পড়া ছিল মজলিশের পাতায়, লেখার মাথা-মুন্ডু কিছু খুঁজে পেতাম না বলে পড়ার চেষ্টাও করতাম না। আগ্রহভরে দেখছিলাম, দেখলাম, আমাদের মতই কথা বলে তো! কোন মানেবইএর দরকার নেই। দু এক কথার পরেই খেদ প্রকাশ করলেন, এইরকম বৃষ্টিদিনের আড্ডায় ইলিশ বিরিয়ানি নেই, সুরা নেই, এসব কী!! ফেরার পথে একটা ট্যাক্সিতে গাদাগাদি করে ছ'জন । একজন একজন করে নেমে যাবে রাস্তায়।

দিন পনের বাদে ঠিক ও‌ইরকমই ছোট করে একটা আড্ডার ব্যবস্থা আমার বাড়িতে, সে বোধ হয় মাঝ জুলাইয়ে। আমার কি মনে হল, তাকেও ডাকি , এলে আসবে! কিন্তু ফোন্নং নেই তো! ছোট ভুত আমার হয়ে তাকে দাওয়াৎ দিল, বলল, কাল আপুর বাড়িতে পৌঁছে যাও, আর এই নাও ফোন্নং! তো আগের দিন রাতেই ফোন এল। এই কয়েকদিন নাকি প্রবল খোঁজ চলেছে এই নম্বরের, কিন্তু কেউ দেয়নি!

পরদিন সকাল থেকেও বেশ কয়েক দফা ফোন এল। তিনি এলেন সকলের শেষে। তাকে দেখামাত্রই ফিচেলদের মুখ টিপে হাসাহাসি, গা টেপাটেপি। বুঝেছিল কিনা কে জানে তবে আমল যে দেয়নি সে ঠিক। সেদিনও আবার সেই একই অনুযোগ, সুরা নেই? ওফ!! তবে সুরাপানের নেমনতন্ন তার একটা ছিল সেদিন রাতেই তাই ভদ্রলোক খাওয়া একটু চেখে দেখলেন শুধু।

তারপর? তারপর আবার কি। তার আর পর নেই।

যাগ্গে...

আমি আজকে দুম করে এইসবই বা কেন লিখছি কে জানে!

আসলে মালবাজারের হোটেলঘর থেকে ফোন করে আজকে বেশ খানিকটা স্মৃতিচারণ হল। আমাদের সাধারনত যা হয় না।

1 comment:

  1. আবারো পড়লাম দিদি, ছবিতে কাকে দেখা যাচ্ছে ? আমাদের প্রিয় শ্যাজাদিকেই যে!!! কিছু নিয়ে বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে। জানিনে কেন !

    ReplyDelete