Saturday, May 17, 2008

মে মাসের ষোল তারিখ; আসে আর চলে যায় ..


মে মাসের ষোল তারিখটা আসে আর চলে যায়... আসার আগে, অনেক আগে থেকেই আমি অপেক্ষায় থাকি... অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হলেও কেটেই যায়। ষোল তারিখটাও তেমনি এসেই যায়... যে কারণে এই দিনটি বিশেষ একটা দিন, যার জন্যে এই দিনটা বিশেষ একটা দিন, তাকে ছাড়াই এই দিনটা আসে আর চলে যায়...

একটা একটা দিন গুনে শেষ পর্যন্ত আবার এসেছে ষোলই মে। একটু আগে ফোনে জানলাম আজকে নাকি নাইট শিফটেও কাজ হবে। রাগ হয়। রোজই তো এই চলছে। বোধ হয় টানা দু মাস.. দিন তারিখ আমার খুব একটা মনে থাকে না। আজকেও সারাদিনই ভেবেছি আজ শুক্রবার। সন্ধেবেলায় কার সাথে যেন কথা বলতে গিয়ে ভুলটা ভাঙল। আজ তো সারাদিনই বৃহষ্পতিবার ছিল! কম-বেশি দু'মাস ধরে ও'র একদিনও অফ নেই। মাঝে মাঝেই ডে-নাইট করে পরদিন সকালের রোদ মাথায় করে শরীরটাকে টেনে হিচড়ে সে এসে ঘরে ঢোকে আর দড়াম করে শুয়ে পড়ে ঘন্টা দুই পরের অ্যালার্ম সেলফোনে সেট করতে বলে। অ্যালার্ম বাজে... জোর করে নিজেকে টেনে তুলে সে বেরিয়ে যায়...

সকালবেলা বেরুনোর আগে অবশ্য বলেছিল এর মাঝে একদিন ডে-নাইট করতে হবে, শনি, রবি দু'দিনই টেলিকাষ্ট আছে। আমি শুনেছি কিন্তু মাথায় আরো কি কি যেন ঘুরছিল কাজেই ফাঁক গলে আজকের দুই শিফটের কাজের কথাটা বেরিয়ে যায়। দুপুরে বেরিয়ে গিয়ে অনেকটা সময় লাগিয়ে টুকটাক এটা সেটা কিনি। বিশেষ কিছু নয়। কিছু দরকারি জিনিস। সে নিজের জন্যে কোন দরকারি জিনিসও পারতপক্ষে কেনে না। এই দিনটায় আমি তাই সেই জিনিসগুলো‌ই কিনি। আজকেও কিনলাম। বাড়ি এসে একটা কেকও বানালাম।। আমার কেক বানানোর দোড় ও‌ই পর্যন্তই...
সাধারণ একটা চকোলেট কেক..

আমি যতই অপেক্ষা করে থাকি না কেন এই দিনে সে সারাদিন আমার কাছে থাকবে... আমরা কোথাও একটা বেড়াতে যাব... কোন একটা নাটক দেখব বা কোথাও একটা গান শুনতে যাব... কিন্তু হয়ে ওঠে না। ওর ঠিক কোথাও না কোথাও একটা কাজ পড়ে যায় আর তাও কলকাতার বাইরে... যেমন গতবছর এই দিনে ও ছিল হাজারীবাগে। আমার মন খারাপ হয়... ভাল লাগে না... চুপচাপ থাকি... দিনটা কেটে যায়...

এবছর সে এখানেই আছে কিন্তু প্রবল ব্যস্ত। সকালে উঠেই বেরিয়ে যাবে আর ফিরবে সেই মাঝরাত পার করে। রাত দুটো বা তিনটেয়...



যেভাবেই কাটুক আর যত ব্যস্তই থাকো জন্মদিনটা তোমার ভাল কাটুক কারুবাসনা...

4 comments:

  1. চকোলেট কেক খেতে আমার বেশি ভাল লাগেনা তেতো স্বাদের জন্য।তবুও দিও একটু খেতে আমায়।দেবে তো?
    জীবনযুদ্ধ যে বড়ই কঠিন।রণাঙ্গন সামলে ব্যক্তিগত জীবন সামলানো যেন আরো কঠিন হয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে।মাঝে মাঝে তো আমার মনেহয় সব ছেড়ে দিয়ে সন্ন্যাসী বনে যাই।জংগলে গিয়ে বসে থাকি।

    ReplyDelete
  2. লেখার হাত আছে, আর সেই সাথে আছে অনুভূতিপ্রবণ একটি মন একথা স্বীকার করতে আমি সামান্যতম দ্বিধাবোধ করছি না।
    সুপাঠ্য লেখা সবাই লিখতে পারে না। আপনার সেই ক্ষমতা আছে, দয়া করে একে নষ্ট করবেন না।

    ReplyDelete
  3. ধন্যবাদ অগ্নি। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    আপনার ব্লগ ঘুরে এলাম এক পাঁক। একটু সময় নিয়ে না গেলে পড়া সম্ভব না। সময় করে পড়ব।

    ReplyDelete
  4. toxoid_toxaemia,

    চকোলেট কেক আমারো যে খুব পছন্দ তা নয় কিন্তু কেক যেহেতু অন্য কিছু বানাতে পারি না তাই চকোলেট কেকই সই!


    জঙ্গলে চলে গেলেই কি সব সমস্যার সমাধান? মোটেও তা নয়। সত্যিকারের জঙ্গলে গিয়েছ কখনো? গিয়ে দেখ, ওখানে মানুষ কি অবস্থায় আছে! আর সন্ন্যেসিই? ভাই, ভুলেও ওই কাজটি করতে যেও না যেন। আমরা সাধারণ মানুষ, জীবনযুদ্ধটা কোনমতে চালিয়ে যেতে পারলেই আমাদের মুক্তি!!

    ReplyDelete