Sunday, February 10, 2008

এ আমার লাইব্রেরী!

প্রবাসে থাকা এক বন্ধু ছুটি কাটাতে বাড়ি এসেছিলেন বইমেলার সময় ধরে। বইমেলা না হওয়াতে এদিক ওদিক ঘুরে ঘুরে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে দেখা করে, টুকটাক কাজকর্ম করে সময় কাটাচ্ছেন। আজকে আমার সাথে দেখা করতে এসে আমাকে দিয়ে গেলেন তিনখানা বই। আশাপূর্ণা দেবীর ট্রিলজি- প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা আর বকুলকথা। বইগুলো দেখেই একমুখ হাসি আমার। সুবর্ণলতা বইটি আমার আছে, সেটা পড়ে বকুল কথা পড়ার সাধও হয়েছিল কিন্তু পরে আর কেনা হয়নি কাজেই পড়াও হয়নি। আজ অনেকদিন পরে যেন একটি ইচ্ছেপূরণ হল...


ইদানিং বেশ বই উপহার পাচ্ছি। হাশেম খান নিজের লেখা বই দিয়ে গেলেন, ঢাকায় গিয়ে পেলাম ইমরুল হাসানের বই। সদ্য পরিচিত কাজল শাহনেওয়াজ দিলেন তাঁর গল্প সংকলন, আর কবিতার বইও। ছোটবোন দিল সৈয়দ মুজতবা আলি'র শবনম।


সেই কোন ছেলেবেলায় কেউ একজন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আমি তোকে একটা বিশাল লাইব্রেরি বানিয়ে দেব! অনেক অনেক বই থাকবে সেখানে, সব তোর! আমি তখন ভাবতেও পারতাম না, গোটা একটা লাইব্রেরি আমার? সত্যি! তখন যে আমার গল্পের বই পড়বার অনুমতি ছিল না, লুকিয়ে বই পড়তাম আর ধরা পড়লেই বকুনি। মনখারাপ করে বসে থাকলেই আকছারই পেতাম ও‌ই প্রতিশ্রুতি, তোকে আমি একটা গোটা লাইব্রেরি দেব! আমি বিভোর হয়ে যেতাম সেই লাইব্রেরি র স্বপ্নে...


ছেলেবেলা কখন যেন চুপটি করে চলে গেছে না জানিয়েই। সে একা যায়নি, সাথে করে নিয়ে গেছে অনেক কিছুই। অজান্তেই কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সেই মানুষটাও। হারিয়েছে দশ বছরের এক মেয়েকে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতিও। স্মৃতিতে ধুলোর চাদর বিছিয়েছে সময় আর একসময় পুরোপুরি ঢাকাও পড়েছে কবে যেন। আজ আবার মনে পড়ে গেল...


কলেজ ষ্ট্রিট খুব একটা দূরে না হলেও যাওয়া হয়ে ওঠে না বই কেনার জন্যে। বইমেলা ঘুরে ঘুরে লিষ্টি মিলিয়ে মিলিয়ে তাই বই কিনি। দুই হাত নুয়ে আসে ভারে, প্লাষ্টিক কেটে কেটে বসে হাতে। ভিড়ের বাসে ঠেলে ঠুলে জায়গা করি নিজের, বইয়ের। ক'দিন শুধুই বই ঘেঁটে দিন কাটানো। পড়া হয় না তারপরেও সব বই। ভিড় বাড়ে বইয়ের তাকে। এক সারিকে পিছনে ফেলে সামনে বাড়ে আরেক সারি। এখন আমার ছেলেবেলা হলে বলতাম, এ আমার লাইব্রেরী!


বই দিয়েছে সুমেরুও। হারিয়ে যাওয়া নকশী কাঁথার মাঠ আবার খুঁজে বের করেছে সে, এনে দিয়েছে আমায়। আমি সেই নকশী কাঁথায় হাত বুলাই শুধু... মন ভরে যায়, উদাসও হই... মন কেমন করে ওঠে... আবার তাকে রেখে দেই আমার নকশী কাঁথার মাঠকে... ওর আলমারী ভরা সব বইও এখন আমার কাছে... আকারে বড় হয়েছে আমার লাইব্রেরী। ছেলেবেলা এখন আর নেই তাই পড়া হয়ে ওঠে না সব বই। দিন গুলি কখন যেন ছোট হয়ে গেছে আর সময় টুক করে ঢুকে পড়েছে কম্পিউটারে। আমি তারে খুঁজে বেড়াই স্ক্রিনে, ধুলো জমে আমার লাইব্রেরিতে...

3 comments:

  1. nijer ekta library thaka se onno bisoy..ekebare alada matra jibone..

    ReplyDelete
  2. ঠিক বলেছ।

    এ এক অন্য অনুভূতি। একদমই অন্য রকম।

    ReplyDelete
  3. Anonymous2:05 PM

    তোমার লাইব্রেরী আরো লাই পাক।

    কল্লোলদা সেদিন লিখেছিল, আজ আবার মহীনের সেই গানটা মনে পড়ে গেল।

    --
    কারুবাসনা

    ReplyDelete