Thursday, November 29, 2007

যে চিঠি কখনও পাঠানো হয়নি ডাকে

এমুপরী,
দেখলে তো,এ' ক'দিন কেমন কেটে গেল? সবেতেই অগ্রাধিকার তোমার টিভি সিরিয়ালের। তোমার গুটিসুটি মারা চেহারাটা বেশ দেখতে পাচ্ছি, না গো তুমি কেবল বাংলাদেশ হয়ে কিভাবে থাকবে? বেশ তো পশ্চিমবঙ্গের নকশা হয়ে যাচ্ছ।



বাহ , বাহ বেশ উটপাখি মার্কা চেহারা দাঁড়াল একটা!


হলদিরামসের অমন নিয়ন ধাঁধানো দোকানে তুমি বসে। হুস হাস বেরিয়ে যায় সব গাড়ি। কিছু আলো ছিটিয়ে যায় শোরুমের মধ্যে।


একুশে ডিসেম্বর


এই প্রথম আমি কোন দীর্ঘ যাত্রায় বই ছাড়া। গল্পের বই। এমন একা ঘরে ভনভনাচ্ছে টিভি। আমি বালিশ লেপ ও মোবাইলে। আসলে সবই তো পালটে যাওয়ার গল্প। দীর্ঘদিন যাত্রায়, প্রবাসকালে চিঠি লিখি না এখন। আগে প্রতি যাত্রায়, গুছিয়ে নিয়ে যেতাম আমার লেখার প্যাডগুলি। যার একপিঠে আঁকিবুকি কাটা। রং বেরং। শীতের পোষাকে পিকনিক, চিড়িয়াখানা। সেই রংটানা কাগজে, হাবিজাবি লেখ, তারপর এলোমেলো করে দাও দাও তোমার জীবনলিপি। 2,5,7 পাঠিয়ে দাও একে, 3,8,1 ওকে। বেশ মজা। কিছু দেখি আর দেখতে পাই না। মৌসুমীর গান।


তোমার সাথে অনেকক্ষণ স্কুলের কথা বল্লাম, কাল রাতে। অনেকক্ষণ। স্কুল জীবন কি শেষ হয়, অত তারহাতাড়ি। আস্তে আস্তে আকাশ ছেয়ে যাচ্ছে কৃষণচুড়ায়। জানো, সবচেয়ে মজার দিন সরস্বতী পুজোর সময়। বাঁধনছাড়া উল্লাস। বিশেষত পার্শস্ত স্কুল, বালিকা বানিমন্দির। বিশাল লম্বা টিচার্সরুম জুড়ে আর্ট একজিবিশন। সেখানে আমার ছবি আছে ছরহিয়ে। আমি মাঝে মাঝে ঘুরে বেড়াই। লক্ষ্য করি জনতার চোখ মুখ। তেজপাতার মত ভেসে বেড়ানো নারীদের। নিচের তলায় সায়েন্স একজিবিশন। সুতরাং কর্তাত্তি মারতে সেখানেও আমি । তখন তো নেহাতই নাবালক। ক্লাস এইট। পাশের নদী দিয়ে নৌকা যায়। কিন্তু গান ভেসে আসে না। বাঈজীরা যায় না, যেমনটা দেখেছি টেলিভিশনের পর্দায়। সুতরাং, ওপারে তুমি শ্যাম এপারে আমি, মাঝে নদী বহে রে। আরও টেলিভিশনটা সাদা কালো হওয়ায়, নদীর প্রস্থ যেন বেশি বেশি ঠেকে। উলটো দিকের বেনচে বসে ঝিনুকদি সোজা একটা তেষ্ট টিউব আমার গায়ে ঢেলে দিল।সাদা জামায় ফুটে উঠছে তীব্র ম্যাজেন্টা রং। ইস। আজ আর বাড়ি যাওয়া হয়ে গেল। ওদিকে দ6রবনের হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দংশন করছে শরীর জুড়ে। ঝিনুকদি হেসেই চলেছে। আমি তাকাতে পারছি না। লাল, স্কুল ইউনিফর্ম স্কার্টের তলা দিয়ে দীর্ঘ সাদা পা। সুতরাং আমার মাথা নিচু। সেই পায়ে আটকে গেল স্কুল জীবন, স্কুলের বাইরে নৌকার বেহিসেবি চলাচল। বাঈজি না যাওয়ার আপসোস।


বাইশে ডিসেম্বর-


কোচবিহারযে খাতাটায় লিখছি, চোখে পড়ল তার সর্বশেষ লাইনটি: This is a machine maid product তা দেখে আমার কেনইবা মন খারাপ হবে। হল। তবু হল। প্রতি বাংলা সিনেমাতেই যে দেখতে পাব, ঋণ স্ব ীকারে, ষ্টেটসম্যান পত্রিকা, ঘটাং ঘট, ঘটাং ঘট, ঘট ঘটাং করে বেরিয়ে আসছে সংবাদপত্রগুলি। তখন বিশেষতই মধ্যরাত। মানুষ অচেতন, মানুষের ষড়যন্ত্রে মেশিনগুলি উৎপন্ন করে চলেছে একরাশ নিউজপেপার প্রজাতি। পুরুলিয়ার বলরামপুরের সেই গালা শ্রমিকদের। বৃদ্ধ বাবা পাশে বসে, বালকটি গালা সেঁকে সামনের লম্ফতে আর অল্প অল্প ফুঁয়ে তৈরী করতে চায় উপরিতলের কারুকার্য। বৃদ্ধ বাবা মাথা নাড়িয়ে চলেছেন মেশিনের মত, হচ্ছে না, হচ্ছে না, ভেঙ্গেঁ ফেল ভেঙ্গেঁ ফেল, বেশ মজার না। সংক্রমণ কখন যে কিভাবে ঘটে। বেশ তো, গুড়িয়ে গেল সেন্টমেরী টাওয়ারদ্্বয়। মানুষ তো মিছরির ডেলা। যত পার গুড়াও, গলে গেলে তবেই তো মিষ্টি!


বাইশে ডিসেম্বর দুই হাজার পাঁচ

No comments:

Post a Comment