Wednesday, November 07, 2007

এসো মা লক্ষ্মী...

আজ কোজাগরী পূর্ণিমা। মা লক্ষ্মীর আরাধনা চলছে বাড়িতে বাড়িতে, দোকানে-বাজারে... জানলার বাইরে অন্ধকার আকাশ মাঝে মাঝেই আলোকিত হয়ে উঠছে নি:শব্দ আলোর ফুলঝুরিতে...অনেকদূর অব্দি উঠে যাচ্ছে ছুঁড়ে দেওয়া বাজি, ঝুরঝুরে আলো যেন ঝরে ঝরে পড়ছে আর ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে অন্ধকার আকাশে...


টুনিবাল্বগুলো ঝিকমিক ঝিকমিক জ্বলছে নিভছে জানালায়, বাড়ির বারান্দায়।। আনন্দ আনন্দ।। সবাই মেতেছে আনন্দে। উত্সবে। এমনও সন্ধ্যায় এত আনন্দ দেখেও কোথাও যেন মেঘ জমে। কালো হয় আকাশ। প্রশ্ন জাগে মনে, লক্ষী মানে কী? সে কী ধনলক্ষী না কন্যালক্ষী? কন্যাসন্তানকেও নাকি লক্ষী বলে! তবেই কী ঠাকুর দেখতে আসা কোন এক জননী সকলের অলক্ষে প্যান্ডেলের পেছনের চেয়ারে পরিত্যাগ করেন তাঁর আড়াই মাসের কন্যালক্ষীকে?


'এসো মা লক্ষ্মী বলে আদর করে বধূবরণ হলো' নাজমা জামানের গানের লাইন মনে পড়ে। এভাবেই একদিন মা লক্ষী বধূ হয়ে ঘরে এসেছিল এক মেয়ে। ধরা যাক তার নাম অনামিকা। স্নেহময় পিতার আদরের কন্যালক্ষ্মী অনামিকা আরেকজনের ঘরের লক্ষী হয়ে যায়। ধুমধামের সাথে বধূবরণও হয়। ঘরের লক্ষী অনামিকাকে কুক্ষিগত করে ধনলক্ষীর আরাধনায় ব্যস্ত হয় অনামিকার স্বামী। দেবী লক্ষীর কৃপায় ধনবান স্বামী আরো ধনবান হয়। ঘরের লক্ষী অনামিকা তখন শুধুই ভোগের বস্তু। যেন সেভিংস অ্যাকাউন্টে রাখা ধনলক্ষী, যখন খুশি বের করলেই হল।


এই ভোগের অবধারিত ফলস্বরূপ অনামিকা গর্ভবতী হয়। সন্তান সম্ভাবনায় অনামিকা নিজের অতীত বর্তমান ভুলে যায়। ডুব দেয় অনাগত দিন-সন্তানের অপেক্ষায়। মনের কোণে গোপনে লালন করে স্বপ্নএকটি কন্যালক্ষীর! অনামিকার স্বামীর আকাঙ্খা পুত্রের। অবাধ্য অনামিকা জেনে শুনেই স্বামীর বিপরীত আকাঙ্খা করে। পিত্রালয়ে অনামিকা জন্ম দেয় কন্যালক্ষীর। রুষ্ঠ হয় অনামিকার স্বামী। কোন খোঁজ নেয় না সে ঘরের লক্ষী আর কন্যালক্ষীর। স্বজন- সুজনে পরামর্শ দেয়, কন্যা তো ঘরের লক্ষী! নারাজ কেন হও/ আবার পুত্র হইবে এইবার কন্যা মানিয়া লও! মানিয়া লিতে লইতেও কাটিয়া যায় মাস কয়। অবশেষে মানিয়া না লইয়া গত্যন্তর নাই বিধায় সে শ্বশুরালয়ে যায় মাস ছয় পর। দর্শন করে কন্যার মুখ। প্রথমবার। মাস ছয় পর।

No comments:

Post a Comment