Friday, June 29, 2007

এক লেখকের কথা



রাগ ইমনের প্রেমের জন্যে পাগলামী পোষ্টটি পড়ে আমারও এক ঘটনা মনে পড়ে গেল। মনে পড়ে গেল বললে ভুল হবে। ভুলে গেলে সেটা মনে পড়ার প্রশ্ন আসে। এ এমন এক ঘটনা যা ভুলে যাওয়ার চান্স ভুল করেও নেই। শোন তবে বলি।


এক দেশে এক শাহজাদী ছিল। আর আরও কেউ একজন ছিল ছিল। তবে সে কোন রাজকুমার নয়। সে শিল্পী।।সে লেখক।। আর বেশ খানিকটা পাগল।। যাই হোক। তো সেই পাগল মানুষটা আমাদের এই শাহজাদীর প্রেমে পড়ে। শাহজাদীও পড়ে। তবে সে শাহজাদী তো! তার অনেক চিন্তা। ভাবনা। নানাবিধ সমস্যা প্রেমে পড়ার। তাই সে পাগলকে খুব একটা আমলে দেয় না। আবার মাঝে মাঝে একটু দেয়ও।


তো একদিন এই পাগলে শাহজাদীরে মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখাতে নিয়ে গেছে। ফিরতে অবধারিত বেশ রাত। ও হ্যাঁ বলতে ভুলে গেছি, শাহজাদী থাকে এক শহরে আর সে থাকে অন্য শহরে। মাঝে এক নদী। এই কূলে আমি আর ঐ কূলে তুমি কেস। তো সিনেমা দেখিয়ে ফেরার পথে পাগলের একটু বেশি প্রেম পায়। নদী পেরুতে পেরুতে পূর্ণিমার রাতে ( পূর্ণিমা ছিল কী? যাগ্গে, কি যায় আসে! ) সে চুমু খেতে যায় শাহজাদীকে। শাহজাদী যায় ক্ষেপে। কী! সাথে সারথী আছে, যে কিনা শাহজাদীর বাহন চালায় তার সামনেই চুমু খাওয়া?! শাহজাদী সত্যিই ক্ষেপে যায়। সিনেমা দেখা, রাত করে মহলে ফেরা তবুও মানা যায় তাই বলে চুমু? না! শাহজাদী মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে বসে। মুখে কোন কথা নেই। লেখক মানুষটার কোন প্লটে এই সিন যায় না। সে আবার স্যরি ট্যরিও বলতে পারে না আর শাহজাদীরও শোনার মুড নেই। তো মহলের সামনে এসে শাহজাদী বিনা বাক্যব্যয়ে নেমে এগিয়ে যায় মহলের দিকে। লেখক বেচারা খানিকক্ষণ চরম বেচারা মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকে। শাহজাদী আবার ফিরে ঝাঁঝিয়ে আসে, দাঁড়িয়ে কেন? বাড়ি যাও! লেখক বাড়ির পথে রওয়ানা হয়। কিন্তু বাড়ি যায় না। নদীর পারে, উড়ালপুলের তলায় তলায় ঘুরে বড়ায় অনেকক্ষণ। 
অবশেষে ফিরে যায় কিন্তু নিজের বাড়ি নয় , এক বন্ধুর বাড়িতে। চলে সুরাপান। পাগল মাথা আরো পেগলে যায়। উঠে হাঁটা দেয় রাত দুটোর সময়। সে শাহজাদীর বাড়ি আসবে। রাস্টায় কোন বাহন খুঁজে পায় না সে। তো কী হয়েছে? হন্ঠন হন্ঠন করে তার শহরের শেষ মাথায় নদীর পারে এসে দাঁড়ায় লেখক। পুলের উপর কী উঠতে দেবে সরকারি রক্ষিবাহিনী? কেউ কোথাও নেই। হাঁটতে থাকে সে। পুল, উড়ালপুল মিলিয়ে সাড়ে চার কিলোমিটার তার সাথে আরো কয়েক কিলোমিটার হাঁটে সে। রাত্রিকে দেখে সকাল হতে। নতুন সূর্যকে দেখে অন্ধকারের বুক চিরে জেগে উঠতে পূবাকাশে। সে হাঁটে। এক শহর থেকে অন্য শহরে। একসময় পৌঁছেও যায় শাহজাদীর মহলের সামনে। চারদেওয়ালের ভেতর শাহজাদী কি ঘুমে অচেতন, মগ্ন কি কোন সুখস্বপ্নে।


টুং টাং শব্দে জানান দেয় মুঠোফোন, সংক্ষিপ্ত বার্তা এলো। শাহজাদী জানতে পারে, তার মহলের নিচে পরিখার ধারে লেখক এসে বসে আছে ভোর হতে। ছুটে যায় শাহজাদী, কেউ দেখে ফেলেনি তো লেখককে! দ্বাররক্ষকেরা ধরে পিট্টি দেয় নাই তো!


শীত তখন আসি আসি করছে। লেখকের মুখে চোখে ক্লান্তির ছাপ। রাত্রি জাগরণের। বহুদূর হেঁটে আসার। শাহজাদীর কী একটু মায়া হয়?!


এর পরে কি হইসিলো এখন আর মনে পড়ে না। শাহজাদী অবশ্য বলেছিল আমিই ভুলে গেছি।

আমি মেলা থেকে কোন বাঁশি কিনে আনিনি


এ'বছর মকর সংক্রান্তিতে পুরুলিয়ায় গেছিলাম। মেলা দেখতে। প্রচুর মেলা বসে সেখানে। মূলত সাঁওতালদের। একদিনে দুটো মেলাই দেখা সম্ভব হয়েছিল। মাঠাবূরু'র মেলা আর জয়দেব'এর মেলা। পশ্চিমবঙ্গ আর ঝাড়খন্ডের সীমানায় জয়দেবের মন্দির। পাহাড়ের উপর মন্দির, নিচে মোটামুটি সমভূমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এই মেলা।


জয়দেবের মেলায় সকাল সকাল পোঁছে গেছিলাম, মেলা তখন সবে জমছে। পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে উঁচু নিচু রাস্তা একে বেকে চলে গেছে পাহাড়ের দিকে। সুবর্ণরেখা নদীও ঢুকে পড়েছে পাহাড়ের বুক চিরে স্বচ্ছ ঠান্ডা জল নিয়ে, খানিকটা যেন ঝর্ণার মত দেখতে। জানুয়ারীর শীতে নদী বেশ শীর্ণ, রোগা ভোগা। দূরে দেখা যায় রাঁচি জামশেদপুর মহাসড়ক।


মেলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে কলসী নিয়ে খানিক দূরে দূরে বসে আছে কয়েকজন। কারও কলসীতে তাড়ি তো কারও কলসীতে খেজুরের রস। এক গ্লাস খেজুরের রস নিয়ে খেতে পারলাম না, প্রচন্ড ঝাঁজ। রোদের আঁচে খেজুরের রসও তাড়ি হয়ে গেছে। রঙবেরঙএর জামা কাপড় পরা মানুষজন সব উত্তসবের মেজাজে আসছে, দলে দলে। মানুষগুলোকে দেখলেই বোঝা যায়, এরা প্রকৃতির সন্তান। কালো মুখগুলো আনন্দে ঝলোমলো। বাইরের লোককে এরা খুব একটা পাত্তা দেয় না। কোন অভিব্যাক্তিও ফোটে না মুখে। নিষ্প্রাণ দৃষ্টিতে তাকায় আবার সাথে সাথেই দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে মন দেয় নিজেদের দিকে।


কেউ কেউ স্নান করছে সুবর্ণরেখায়। গতরাতে স্নানের যোগ ছিল। মকরের স্নান। রাতে যারা ডুব দেয়নি, এই দিনের বেলাতেই খানিকটা হলেও পূণ্যার্জনের আশায় এই ডুব। পরনের কাপড়খানি জলে দাঁড়িয়েই পাল্টে নেওয়া আর পাথরের উপর বিছিয়ে শুকিয়ে নেওয়া। ছানা পোনাদের ধরে ধরে ঠান্ডা জলে ডুব দেওয়ানো। সে এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য।


নদীর তীর ধরে দূরে দেখা যায় রঙচঙে নাগরদোলা, আরও কিছু শহুরে খেলা ধুলোর আয়োজন। কয়েকটা অস্থায়ী ফটো ষ্টুডিওও বসেছে মেলায়। পরপর তিনখানি ষ্টুডিও। কাঠবোর্ডের দেওয়ালে রঙীন দৃশ্য আঁকা। যদিও কাওকে ছবি তোলাতে দেখিনি। টিনের কৌটোয় এক অদ্ভুত রঙ নিয়ে বসে থাকতে দেখলাম কয়েকজনকে। সাথে কাঠের ব্লক। নানা ডিজাইনের। ( যেগুলো দিয়ে কাপড়ে ডিজাইন করা হয়)। ব্লক বিক্রি করছে করছে ভেবে মূল্য জানতে চাইলে বুড়ো মানুষটা আমার হাতটি ধরে বসে দিলেন সামনে, আর টিনের কৌটোয় রাখা রংএ ব্লগুলো চুবিয়ে চুবিয়ে হাটে ছাপ দিতে লাগলেন, ছোটো বড় নানা ব্লক, নানা ডিজাইনের। হাতে ফুটে উঠল মেহেন্দির নকশা! আমি অন্য হাতটিও বাড়িয়ে দিলাম, আর হাতের উল্টো পিঠেও ছাপিয়ে নিলাম ঐ নকশা। বুড়ো লোকটি একটিও কথা না বলে মন দিয়ে নিজের শেষ করে মুখ তুলে তাকালেন আর বললেন, "দশ ট্যাকা দে।"


অদ্ভুত কায়দার সব জুয়ার আসর চোখে পড়ল। টাকার পরিমান কোথাও দশ টাকার বেশি নয়। ১টাকা, দু টাকা, পাঁচ টাকা আর সর্বোচ্চ দশ টাকা। এই দুপুরবেলায় খুব একটা ভিড় নেই কোন পসারির কাছেই। শহুরে কায়দায় জায়গা ঘিরে নিয়ে ফুচকা চটপটিওয়ালাদের বরং বিক্রি বেশি। হেথায়, হোথায় দাঁড়িয়ে আছে বেলুনওয়ালা আর বাঁশিওয়ালা। রঙীন সব বাঁশি। বাঁশের বাঁশি। আমার খুব মন চাইছিল একটা বাঁশি কিনি, কিন্তু কিনলাম না! রুদ্রাক্ষের এক মালা কিনব ভেবে হাতে নিয়েও রেখে দিলাম! কেন কে জানে কিছুই কিনতে ইচ্ছে করল না...


বিশাল এলাকা জুড়ে মেলা। মেলায় খাবার বলতে , ছোলা ভাজা, মটরভাজা, চটপটি, ফুচকা আর সিঙাড়া। কোথাও বা মিষ্টি। খাজা, গজা। এই মিষ্টিগুলো আসলে ভোগ। পাহাড়ের উপর জয়দেবের মন্দিরে যারা পুজো দিতে যান, এই বিশালাকারের খাজাগুলো কিনে নিয়ে যান। একএকখানা খাজার সাইজ মাঝারি আকারের ভাতের থালার মত। দুখানি খাজা ওঠে এক কিলোতে। শালপাতায় করে নিয়ে গিয়ে পুজো দিয়ে আসা আর তারপর সেই প্রসাদী খাজা বাড়ি নিয়ে যাওয়া। চড়াই উত্তরাই ভেঙে পাহাড় অব্দি পৌঁছানোর দেখা গেল চওড়া একধাপ সিঁড়ি, সোজা উঠে গেছে মন্দিরে। আমাদের গন্তব্য মন্দির ছিল না , সিঁড়ি অবদি গিয়েই ফেরার পথ ধরলাম।


ফেরার পথে খানিক বসা সুবর্ণরেখার ধারে, পাথরে। বরফঠান্ডা জলে মুখ হাত ধোওয়া। গরম গরম বাদামভাজা কিনে খাওয়া। স্বপ্নের মত সেই পাহাড়ি রাস্তা, লালমাটির উঁচু নিচু রাস্তা দিয়ে প্রকৃতির কোল ছেড়ে ফিরে আসা তথাকথিত সভ্যতার দিকে।

এইসব দিন ও রাত



আজকাল প্রায়ই তার রাত করে বাড়ি ফেরা। কোন কোন দিন প্রায় ভোরে , কোন দিন বা মাঝরাত্রি পার করে...




এডিটরুমের শীতলতায় কাটছাট ছাটকাট... সকাল থেকে রাত, কখনো বা মাঝরাত কখনো বা পরদিন সকাল অব্দি...


টেবলে ঠান্ডা হয় বারে বারে গরম করা খাবার, বাসি হয়। অবশেষে ভোররাতে তারা স্থান পায় রেফ্রিজারেটরে। শুকিয়ে রং হারায় হিমসাগর, চিমসে হয়। শুকায় পলিব্যাগে মুড়ে রাখা মুজাফফরপুরের লিচুরাও...


এই গরমেও আমার ঘরের পর্দারা থাকে টানা। বাইরের গরম বাতাস, ততধিক গরম ফ্যানের বাতাসে এদিক ওদিক ওড়ে তারা। আমি চমকে চমকে উঠি, ভয় পাই। জল খাই। ঘড়ি দেখি। দেশ থেকে পাঠানো প্রিয় মানুষের সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানতে পারি, আমার সাথে জ্বীন আছে... যে নাকি আমাকে ছেঁড়ে কোথাও যায় না... যাবে না... সেজন্যেই কি আমি এমন চমকে চমকে উঠি? মনে হয় কে যেন আছে... ঐ জামডালে... কোকিলকন্ঠে তবে কি সেই ডাকে? কে জানে...


মাঝে মাঝে ঐ মাঝরাতেও চাতক দৃষ্টিতে আকাশে খোঁজার চেষ্টা করি মেঘ , কোথাও কি সে জমলো? এক টুকরো? নাহ...নীরব নিস্তব্ধ রাত... কেউ কোথাও নেই... মাঝে মাঝে শুনশান নীরবতা ভেঙে শুধু কুকুরেরা ডাকে, দলবদ্ধভাবে...


প্রেশার কুকারের তীব্র সিটি জানান দেয়, সেদ্ধ হয়ে গেছে মুশুর ডাল। পেছনের পুকুরে জলকেলি করে তিনটি হাঁস। একটা হাঁস একটু দূরে চলে যায় সাঁতার কেটে। জলেই মিলিত হয় অপর দুটি। বারে বারেই ডুব দেয় জলে, পাখনা নাড়িয়ে নাড়িয়ে ঝেড়ে ফেলে মিলনের চিহ্ন, জল... ফিরে আসে অন্যটি, একসাথে আবার তারা খেলা করে... গামছপরা দুটি লোক দড়ি দিয়ে বেধে ফ্যালে জলের সমস্ত আগাছা, কচুরিপানা আর গাঢ় জমে থাকা শ্যাওলা, দেখা দেয় পরিস্কার টলটলে জল। এবারে কি তবে এই পুকুরটাও বুজিয়ে ফেলা হবে? পাশেই চলে ইমারত তৈরীর প্রস্তুতি, বড় ছাঁকনিতে অবিরাম ছাঁকা হয় বালি, সেই বালিতে মিশে যায় শ্রমিকের ঘাম, জমিমালিকের স্বপ্ন। শ্রমিক মেয়েটি কোমরে হিল্লোল তুলে এগোয় ইটের বোঝা মাথায় নিয়ে। কাজ থেমে যায় শ্রমিক পুরুষদের... সবকটি চোখ আটকে যায় ডুরে শাড়ি পরা ঐ কালো মেয়েটির দেহভঙ্গীমায়...


আমি আজকাল একটু স্বাস্থ্য সচেতন হয়েছি। খুঁজে পেতে কিনে আনি ওট, সুগারফ্রী চিনি। খাই না দুধ চা। লিকার চায়ে একটুশখানি সুগারফ্রী। দুধে ডোবা কর্নফ্লেক্স আমার ব্রেকফাস্ট, মাছের ঝোল, সেদ্ধ আনাজ বড়জোর চিকেন ষ্টু। নো রেডমিট! ব্যায়ামাগারে গিয়ে হাঁটি, যাতে নাকি মানুষে হাঁটে না, মেশিনই মানুষকে নিয়ে হাঁটে! উত্তাল মিউজিক চলে। কান ফাটানো শব্দে। বাজনার তালে তালে শীত্কার করে নারী। জোরে, ক্রমশ আরও জোরে...


বাড়তেই থাকে সেই কানফাটানো আওয়াজ। আমার চোখ স্থির সামনে রাখা প্লাজমা টিভিতে। আমি হাঁটতে থাকি নাকি আমাকে নিয়ে হাঁটে মেশিন! রিমোট হাতে আমি শুধু পাল্টাতে থাকি চ্যানেল। ব্যাথার ওষুধ শরীরে জল ধরে রাখে... এই সব ব্যাথা বেদনাদের সাথে আমার বড় ভাব। পরকীয়া প্রেম। লুকিয়ে থাকে অভ্যন্তরে। কেউ দেখতে পায় না। শুধু আমি জানি, তারা আছে। এখানে ওখানে, শরীরের আনাচে কানাচে... ফোনের ওধারে ডাক্তার বন্ধু চিন্তিত হয়, বাড়লো কি ইউরিক অ্যাসিড? থাইরয়েড যেন অবিলম্বে চেক করি...




ভালো লাগে না...


এইসব কিছুই ভালো লাগে না... জৈষ্ঠের এই দমচাপা গরমে মানুষ তো মানুষ ক্লান্ত কুকুরেরাও। রাস্তায় খানিকটা জমা জলে গা ডুবিয়ে পাশাপাশি পড়ে থাকে তিনটি কুকুর, চুপচাপ, শান্ত। সবুজ জামগুলো সব কালচে হয়ে উঠেছে, আর ক'টা দিন। ব্যাস। লোক এসে গাছ ঝাঁকিয়ে পেড়ে নিয়ে যাবে সব জাম। গাছমালিকের কিছু নগদ প্রাপ্তিযোগ। গাছভর্তি তালও বোধ হয় বিক্রিই হয়ে গেল! আর জামরুলও। বাগানের মাঝে টানানো ঐ দোলনা আর নিস্তব্ধ দুপুরে কিশোরী মেয়েটির দোল খাওয়া শুধু উসকে দিয়ে যায় কিছু স্মৃতি...