Saturday, May 05, 2007

নেশার মাধুরী


পরশু সন্ধ্যেয় আড্ডা দেওয়ার জন্যে এক বন্ধুর অফিসে জন্যে হাজির ছিলাম আমি আর সুমেরু। খানিকটা পান ভোজন হবে, আড্ডাও হবে। দেশে ফিরে আসার পর সুমেরুর সেদিন প্রথম বাড়ি থেকে বেরুনো। অফিসে আড্ডা এজন্যে, সন্ধ্যের পরে ওটা আর অফিস থাকে না, আড্ডাঘর হয়ে যায়। কখনও একা কখনো বন্ধু সহযোগে পান ভোজন চলে।

আমি একটু দেরী করেই পৌঁছে দেখি ওরা দুজনে প্রায় দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে, মদ্য ও খাদ্য আনতে যাবে বলে। অফিসে আর কেউ নেই তাই আমার জন্যে অপেক্ষা। আমি ঢোকা মাত্র সুমেরু বলে ওঠে, শুভ আজকাল সাপের ছোবল নিচ্ছে! আমার অবিশ্বাস করার কোন কারণ ছিল না। শুভকে আমি যে পরিমাণে মদ খেতে দেখি, হতেই পারে একটা সময়ে মদে আর নেশা হয় না কিংবা বোর হয়ে গিয়ে নতুন নেশার খোঁজ করা। শুভ একটা ছোট্ট বেতের মুখ ঢাকা চুবড়ি নিয়ে এলো আমার দিকে, বললো, তুমি নেবে নাকি? সুমেরুও নিয়েছে! আমি এবারে বেশ অবিশ্বাসের দৃষ্টিতেই সুমেরুর দিকে তাকালাম, সুমেরু তখন খ্যাক খ্যাক করে হাসছে। মুখ ঢাকা চুবড়ি হাতে নিয়ে শুভ তখন এগিয়ে এসেছে, সাপটাকে নাকি আমার সাথে আলাপ করিয়ে দেবে। আমি রিতিমত চেঁচাতে শুরু করেছি তখন, খুলো না শুভ খুলো না ওটা।

শুভ বলছে, আরে, সুমেরু নিল তো! খুব ভাল সাপ, কিচ্ছু করবে না, একবার দেখে রাখ, তাইলে তোমায় ও চিনে রাখবে নইলে ও যদি চুবড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে তাইলে কামড়ে দিতে পারে তো! আমার বারণ অগ্রাহ্য করে শুভ সাপের চুবড়ি খুলে ধরেছে একেবারে আমার মুখের সামনে, ও মাগোওওওওও বলে প্রচন্ড চেঁচিয়ে উঠেছি, আর সাথে থরথর কাঁপুনি। চুবড়ির ভেতর থেকে মুখ বাড়িয়েছে ছোট্ট এক সাপ, ছোট্টা ফণা বের করে তাকিয়ে আছে একেবারে আমার মুখের সামনে, যেন জায়গা খুঁজছে, কোথায় দেবে ছোবল!

চেঁচানো শুনে শুভ ঝটপট চুবড়ি বন্ধ করেছে, মুখে অভিযোগ, তুমি অত ভয় পেলে কেন? ও কী কামড়ে দিত নাকি! আর সুমেরু তো বেশ পছন্দ করেছে সাপের বিষ, কী হবে? আমি অবিশ্বাসে তাকাই সুমেরুর দিকে, বলি, সুমেরু কখখনো সাপের ছোবল নিতে পারে না। ও সাপকে খুব ভয় পায়! শুভ ততক্ষণে সাপকে আবার তার জায়গায় রেখে হাতে বাজারের থলে নিয়ে মদের দোকানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছে, যেতে যেতে বলে গেল, ও কিন্তু খুব ভাল সাপ! তুমি কী সত্যি ভয় পেলে না ভয়ের ভাব দেখালে?

No comments:

Post a Comment