Sunday, April 15, 2007

এক ছোট্ট আলাপ জিকোর সাথে


কলকাতায় ফেরার আগের দিন দুপুরবেলায় চলমান দূরভাষে এক অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন। কে হতে পারে ভাবতে ভাবতে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো, ......বৌদি কথা বলছেন কী? বৌদি শুনে প্রথমে ভাবলাম রঙ নাম্বার কিন্তু পরক্ষণেই খেয়াল হল, বৌদির আগে যে নামটি ইনি উচ্চারন করেছেন সেটি আমারই! কে বলছেন জানতে চাইলে জবাব এলো, আমি জিকো বলছি। সাথে সাথেই চিনতে পারলাম, ইনি ইশতিয়াক জিকো! আরও বললেন, আমাকে দাদা মেল করে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে বলেছেন!

এই 'জিকো' নামটির সাথে আমার পরিচয় অর্কুটের সুত্রে। আমার বরের স্ক্র্যাপবইয়ে জিকোর স্ক্র্যাপ দেখেছি বেশ কিছু। আর ওকেও দেখেছি জিকোর স্ক্র্যাপের উত্তর দিতে মহা উৎসাহে! আমার তিনি স হজে কারও ভক্ত হন না। কথা হয়তো সবার সাথেই বলেন, কিন্তু সেগুলো শুধু বলতে হয় বলেই বলা। কাজেই তিনি যখন কারও সাথে মহা উৎসাহে কথা বলেন, ভক্ত হন, আমার সমীহ জাগে সেই মানুষটির সম্পর্কে। জিকোর সম্পর্কেও তাই হয়েছিল। আমি ব হুবার জিকোর প্রোফাইলে গেছি, ওর স্ক্র্যাপ পড়েছি, ওর ব্লগও পড়েছি কিন্তু কখনও কথা হয়নি জিকোর সাথে। সেই জিকোর ফোন পেয়ে আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই রোমাঞ্চিত!

জিকো জানালো, আমার বর মেল করে কিছু ডিভিডি ও অডিওর খোঁজ চায়, যেগুলো আমি খুঁজে পাইনি। আমি পরদিনই চলে আসছি শুনে জিকো জানায়, সন্ধ্যের মধ্যে ও আমাকে ফোন করে জানাবে, কিছু পেল কীনা। বিকেলটা আমার ব্যস্ত কাটলো গোছগাছ করা আর বোনকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসায়। আমি জিকোর ফোনের অপেক্ষা করি। জিকো ফোন করে জানায়, ডিভিডি একদিনে খুঁজে পাওয়া গেল না তবে ময়মনসিংহগীতিকা একটা ওর কাছে আছে যেটা ও দিয়ে দিতে চায়। আমি নিজে গিয়ে ওটা নিয়ে আসতে পারবো না বলে জিকো আসে আমার বোনের বাসার সামনে। তখন পাওয়ার ছিলো না। শুধু মেন রোডে আলো জ্বলছে। অনধকার গলিতে ও কোথায় বাসা খুঁজে বেড়াবে ভেবে আমি ওকে মেন রোডেই অপেক্ষা করতে বলি। মোবাইল ফোনের আলোতে রাস্তা দেখে পৌঁছে যাই মেন রোডে আর দূর থেকে দেখেই কখনোও না দেখা জিকোকে চিনতে পারি।

স্ট্র ীট লাইটের আলোতে দাঁড়িয়ে জিকোর সাথে কথা বলি আধঘন্টারও বেশি। কথা হয় লেখালেখি নিয়ে, সিনেমা নিয়ে। আমি কি নিয়ে লিখতে পছন্দ করি, কার উৎসাহে এই লেখালেখি জানতে চায় জিকো। এবং উত্তরটাও জিকোই দেয়, নিশ্চয়ই দাদা! আমি হেসে ফেলি। খুব অল্প কথা হয় ওর সাথে কিন্তু ঐ অল্প সময়েই অনেক বিষয়ে কথা হয়। একটু একটু করে। যেন বুড়ি ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া।

আমি বেশ অবাক হই জিকোকে দেখে। ও যে একদম পুচকে একটা ছেলে এ আমার ধারণাই ছিলো না। আর মজার ব্যপার হল, জিকোকে দেখে, ওর সাথে কথা বলে আমার সমীহ নয়, বন্ধুত্ব নয়, বড়বোন সুলভ এক অনুভূতি হল!! খুব আপসোস হল, আগে কেন ওর সাথে দেখা হয়নি ভেবে। বলেও ফেললাম সেকথা। জিকো বললো, পরেরবার দেখা হবে! বারে বারেই জিকো বলছিলো, আরেকটা দিন সময় পেলে ও ঠিক খুঁজে বের করতে পারত আমার বরের দেওয়া লিষ্টের অন্তত কিছু সিনেমা-গান। রাত প্রায় সাড়ে নটায় আমি বিদায় নিলাম জিকোর কাছ থেকে। ওরও অবশ্যই দেরী হচ্ছিল। এত দূর থেকে এই রাতেরবেলা সে ছুটে এসেছে নিজের সংগ্রহের এক বই দিতে এক অজানা-অচেনা (?) বন্ধুর স্ত্র ীকে। আমার বারে বারেই মনে হচ্ছিল এ শুধু আমার দেশের মানুষই পারে!


ঐ ছোট্ট এক দেখা - আলাপ এখনও পর্যন্ত আমার মন জুড়ে আছে।

এবার দেশে গিয়ে অনেক বন্ধুপ্রাপ্তি হয়েছে। এই ব্লগের সুত্রে। যাদের প্রত্যেকের কথাই একে একে লেখার ইচ্ছে রইল।


ধন্যবাদ কনফুকে।

No comments:

Post a Comment