Friday, March 09, 2007

ওই তো সামনে দানিয়ুব..


এক ভাঙা দেওয়ালের সামনে শুভ্র রাত্রিবাস গায়ে দাঁড়িয়ে তিন নারী, নিজেদের মধ্যে ইশারাইয় কথা বলে, চপল হাসিতে গড়িয়ে পড়ে এ ওর গায়ে। শুভ্র স্বচ্ছ রাত্রিবাসের ভেতর পরিষ্কার দৃষ্টিগোচর হয় কারুকাজ করা সাদা অন্তর্বাস। ওরা দাঁড়িয়ে আছে তার বাংলোর সামনে। ওদের দৃষ্টি নিবদ্ধ তার বাংলোর দিকে, তার দিকে।


এক ঘরের ভেতরে সে , বসে আছে বিছানায়। শুভ্র রাত্রিবাস গায়ে দাঁড়িয়ে তিন নারী তার ঘরে। দুজন দরজায় দাঁড়িয়ে তামাশায় মগ্ন। তৃতীয়জন তার পাশে, তার কাছে। হাতে হাত। চোখে চোখ। উশখুশ সে।  উদ্বিগ্ন দুচোখ বারে বারে দেখতে চায় দরজার এপাশে কে কী করছে। কিছু একটা খুঁজছে। কাউকে খুঁজছে, আমাকে কী?


সেলফোন হাতে নিয়ে ছবি দেখার চেষ্টা করি। তুমি নাকি অনেক ছবি তুলেছ। হঠাৎ বুঝতে পারি এই ফোনটা আমার অচেনা! এক অদ্ভুত শ্যাওলা সবুজ সেলফোন হাতে নিয়ে আমি তার কাজ-কর্ম বোঝার চেষ্টা করি। শুধাই তোমাকে, এই ফোন? তুমি কাচুমাচু, যেন সামনে দাঁড়িয়ে ছড়ি হাতে দিদিমণি, বললে, এর ফ্রেশিয়াটা বদলী করেছি! আহত দুচোখ আমার তোমার পরেই নিবদ্ধ। নীরব প্রশ্নের ঊত্তরে তুমি বলে  ওঠো, ওই ফোনটা আমার পছন্দ ছিল না!


আমি শুনতে পাই, আমার ভাল লাগে না। আমার ভাল লাগে না। ওখানে আমার ভাল লাগে না। আমি পিছোতে থাকি। আমার পেছনে খোলা দরজা। পিছু হেঁটে আমি পেরিয়ে যাই বাগান। তোমার দরজায় স্থির দুচোখ আমার। তুমি কী বেরিয়ে আসবে? আমাকে ডাকবে কী তুমি? আমি মুখ ঘুরিয়ে দৌড়ে পেরিয়ে যাই পাহাড়ী রাস্তা, দ্রুত নেমে যাই ঢাল বেয়ে। হুমড়ি খেয়ে পড়ি আবার উঠে দৌড়াই। ওই তো সামনে দানিয়ুব। ওপারে আলোকিত শহর, এপারে পাহাড়চুড়ার বাংলোয় তুমি আর শুভ্র-স্বচ্ছ রাত্রিবাসে তিন নারী..

No comments:

Post a Comment