Sunday, March 11, 2007

খুঁজিতে খুঁজিতে জনম যায়..


কাকে ভালবাসি ?

কাকে ভালবাসি ? মানুষটিকে নাকী তার গুণাবলীকে?
কে বড়? তার গূণ নাকি তার দোষ? নাকি সবকিছুর ঊপরে
সেই ভালোবাসার মানুষ?

কঠিন প্রশ্ন।

আজ প্রিয়া'র সাথে কথা হচ্ছিল। টি ৩ তে চায়ের আড্ডায় গুরুগম্ভীর আলোচনা! মগজের গোড়ায় ধোঁয়া না দিলে আলোচনা জমে? তো দেওয়া হোক ধোঁয়া! কখনো দিইনি? তাতে কী! সবকিছুই তো জীবনে কখনো প্রথমবার হয়! তো ধোঁয়ায়, পটভর্তি দার্জিলিং চা আর চীজ স্যান্ডউইচের সাথে যা আলোচনা হল, তা এই ;-

প্রথম দর্শনেই কারো প্রেমে পড়ে গেলাম এমনটি সচরাচর হয় না। যদিও বা হয়, সেই প্রেম-ভালবাসা কতখানি খাঁটি বা পোক্ত, সেই বিষয়ে সন্দেহ থেকে যায়। একটা মানুষকে ধীরে ধীরে জানা, নিজের অজান্তেই এক আনুভুতির জন্ম। খানিকটা মোহ, খানিকটা মমতা, খানিকটা আকর্ষণ, কিছু দ্বিধা, আর নিজের ভেতরের তাগিদে জন্ম নেয় ভালবাসা। প্রথম দেখাতেই কোন আকর্ষণ না জন্মালেও ধীরে ধীরে মানুষটিকে জানার পরে জন্ম নিতেও পারে গভীর ভালবাসা।

গ্লাসের অর্ধেক খালি নাকী অর্ধেক ভরা? আমরা সাধারণ মানুষেরা তো অর্ধেক খালি গ্লাসই দেখতে পাই। কেউ দেখিয়ে দিলে যদিও বা অর্ধেক ভর্তি গ্লাস খণিকের তরে দেখি, কিছু পরেই আবার দেখি অর্ধেক গ্লাস খালি। এ এক অদ্ভুত যন্ত্রণা। ভালবাসা যখন জন্মায় তখন দোষ-ত্রুটি বোধ হয় সেভাবে চোখে পড়ে না। তাহলে বোধ হয়
প্রেমই জন্মাত না। কিন্তু পরে যখন ত্রুটিগুলো চোখে বাজতে শুরু করে, তার মানে কী এই, যে প্রেম ফুরিয়ে গেল? নাকি ভালবাসার মানুষের কোন ত্রুটিই দেখতে চাই না বলে সেগুলো বেশি কষ্ট দেয়? এমন কী হতে পারে যে তার সমস্ত ভুলগুলোকে ওভারলুক করে গেলাম? মনে রাখলাম শুধু তার গূণ?


প্রিয়া বলে, যাকে ছেড়ে বাঁচা যায় না তার দোষ-ত্রুটি দেখতে নেই, ধরতে নেই। মনে রাখতে হয় শুধু ভাল ভাল কথা। যা দেখে প্রেমে পড়েছিলাম, মুগ্ধ হয়েছিলাম, ভালবেসেছিলাম। আমার মনে হয়, ভালো যে বাসে, সে তার নিজগূণেই ভালোবাসে। ভালো কজনে বাসতে পারে? ভালোবাসতে পারা খোদার দেয়া এক গূণ, এক ঐশ্বর্য। প্রিয়া আরো বলে, যে ভালোবাসতে পারে সে ব্লেসড। আশীর্বাদধণ্য। কজনে পারে? প্রেম প্রেম খেলা অনেকেই খেলে, আসল প্রেমের দেখা কয়জনা পায়! খুঁজিতে খুঁজিতে জনম যায়। ক্লান্তি আসে। মুক্তির পথ এক একজন এক এক রকমের খুঁজে নেয়।  প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। জল দিতে হয়। সার দিতে হয়। দিতে হয় ভালবাসার ওম, মমতার ছায়া।
 
মাঝরাতে প্রচুর ভারী ভারী কথা হয়ে গেল, এইবার ঘুমাইতে
যাই..



Friday, March 09, 2007

ওই তো সামনে দানিয়ুব..


এক ভাঙা দেওয়ালের সামনে শুভ্র রাত্রিবাস গায়ে দাঁড়িয়ে তিন নারী, নিজেদের মধ্যে ইশারাইয় কথা বলে, চপল হাসিতে গড়িয়ে পড়ে এ ওর গায়ে। শুভ্র স্বচ্ছ রাত্রিবাসের ভেতর পরিষ্কার দৃষ্টিগোচর হয় কারুকাজ করা সাদা অন্তর্বাস। ওরা দাঁড়িয়ে আছে তার বাংলোর সামনে। ওদের দৃষ্টি নিবদ্ধ তার বাংলোর দিকে, তার দিকে।


এক ঘরের ভেতরে সে , বসে আছে বিছানায়। শুভ্র রাত্রিবাস গায়ে দাঁড়িয়ে তিন নারী তার ঘরে। দুজন দরজায় দাঁড়িয়ে তামাশায় মগ্ন। তৃতীয়জন তার পাশে, তার কাছে। হাতে হাত। চোখে চোখ। উশখুশ সে।  উদ্বিগ্ন দুচোখ বারে বারে দেখতে চায় দরজার এপাশে কে কী করছে। কিছু একটা খুঁজছে। কাউকে খুঁজছে, আমাকে কী?


সেলফোন হাতে নিয়ে ছবি দেখার চেষ্টা করি। তুমি নাকি অনেক ছবি তুলেছ। হঠাৎ বুঝতে পারি এই ফোনটা আমার অচেনা! এক অদ্ভুত শ্যাওলা সবুজ সেলফোন হাতে নিয়ে আমি তার কাজ-কর্ম বোঝার চেষ্টা করি। শুধাই তোমাকে, এই ফোন? তুমি কাচুমাচু, যেন সামনে দাঁড়িয়ে ছড়ি হাতে দিদিমণি, বললে, এর ফ্রেশিয়াটা বদলী করেছি! আহত দুচোখ আমার তোমার পরেই নিবদ্ধ। নীরব প্রশ্নের ঊত্তরে তুমি বলে  ওঠো, ওই ফোনটা আমার পছন্দ ছিল না!


আমি শুনতে পাই, আমার ভাল লাগে না। আমার ভাল লাগে না। ওখানে আমার ভাল লাগে না। আমি পিছোতে থাকি। আমার পেছনে খোলা দরজা। পিছু হেঁটে আমি পেরিয়ে যাই বাগান। তোমার দরজায় স্থির দুচোখ আমার। তুমি কী বেরিয়ে আসবে? আমাকে ডাকবে কী তুমি? আমি মুখ ঘুরিয়ে দৌড়ে পেরিয়ে যাই পাহাড়ী রাস্তা, দ্রুত নেমে যাই ঢাল বেয়ে। হুমড়ি খেয়ে পড়ি আবার উঠে দৌড়াই। ওই তো সামনে দানিয়ুব। ওপারে আলোকিত শহর, এপারে পাহাড়চুড়ার বাংলোয় তুমি আর শুভ্র-স্বচ্ছ রাত্রিবাসে তিন নারী..

Tuesday, March 06, 2007

কেন চেয়ে আছো গো মা মুখপানে

কেন চেয়ে আছ, গো মা, মুখপানে।
এরা চাহে না তোমারে চাহে না যে, আপন মায়েরে নাহি জানে।
এরা তোমায় কিছু দেবে না, দেবে না- মিথ্যা কহে শুধু কত কী ভানে।।
তুমি তো দিতেছ, মা, যা আছে তোমারি- স্বর্ণশস্য তব, জাহ্নবীবারি,
জ্ঞান ধর্ম কত পূণ্যকাহিনী।
এরা কি দেবে তোরে।
কিছু না, কিছু না।
মিথ্যা কবে শুধু হীনপরানে।।
মনের বেদনা রাখো, মা, মনে।
নয়নাবারি নিবারো নয়নে।
মুখ লুকাও, মা, ধূলিশয়নে- ভুলে থাকো যত হীন সন্তানে।
শূণ্য-পানে চেয়ে প্রহর গণি গণি দেখো কাটে কিনা দীর্ঘ রজনী।
দুঃখ জানায়ে কী হবে জননী, নির্মম চেতনাহীন পাষাণে।।