Saturday, June 02, 2012

আনো রে গুয়া-পান কাটিয়া খাই..

ফ্রিজে একটা পান পড়ে আছে বেশ কিছুদিন ধরে। সাজা পান। মিষ্টি পাতা, ভেজা সুপুরি, চমন বাহার, অল্প মৌরী, আর সামান্য ঝিরিকাটা সুপুরি। টুকরো খবরের কাগজে মোড়া, পলিথিনের ছোট্ট পাউচে ঢোকানো। কতদিন আগেকার পান? হবে হয়ত সাত-আটদিন বা তারও আগে-পরের। মনে নেই। মনে করার চেষ্টাও নেই অবশ্য। সবকিছুই মনে রাখতে এমন তো কোনো কথা নেই..পানটা পড়ে আছে কারণ খেতে ভুলে গেছি। মনেও পড়েনি পান খাওয়ার কথা। পান যে আছে, এটাও মাথায় ছিল না, অথচ খাব বলে বেশ অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে যত্ন নিয়ে সাজিয়ে আনা পান..

এখন, কী একটা বার করতে গিয়ে পানটা চোখে পড়ল। পানটা চোখে পড়ামাত্র কত যে ছবি অদৃশ্য এক আয়নায় ফুটে উঠল.. কিছু ছবি পুরনো, সময়ের ধুলো জমে জমেও যা একটুও ঝাপসা বা আবছা নয় আর কিছু সদ্য-নতুন, একেবারে টাটকা। নতুনেরা বরং থাক মনের তাকে,পুরনো হোক, জমুক কিছু ধুলো, সময়ের, বয়সের। ধুলোর আস্তরণ যখন পুরু হবে, ভেতরের পাতাগুলো হবে হলদে, তখন না হয় নামিয়ে আনব তাক থেকে, পালকের বুরুশ দিয়ে ধুলো সরিয়ে খুলব একটা একটা করে পাতা..আমার নাড়াচাড়া তো পুরনো নিয়েই..

বেশ কিছুকাল হবে বোধ হয়,  মাঝে সাঝে পান খেতে শুরু করি, ঠিক কবে সে আর মনে পড়ে না। আমাদের বাড়িতে আম্মা পান খায় না, দাদি খেত, বড়ফুফু, মেজফুফুরা খায়। যদ্দিন দাদির দাঁত ছিল সরু-মিহি করে কাটা সুপুরি, চুন-খয়ের দিয়ে পান সেজে খেত। পেতলের পানের বাটা ছিল দাদির। বড়ফুফু যখন বাপের বাড়ি আসত, বড় কৌটো ভর্তি করে দাদির জন্যে সুপুরি কেটে রেখে যেত। কি ভীষণ মিহি করে সুপুরি কাটত বড়ফুফু! গোটা গোটা সুপুরি রাতভর জলে ভিজিয়ে রাখা হত, কাটার সময় যেন গুড়ো গুড়ো না হয়ে যায়। পান মুখে দিয়ে বারান্দায় গুছিয়ে বসত সুপুরি কাটার জন্যে। গল্প করার জন্যে একে একে অনেকেই জুটে যেত, যে বসত, তাকেই পাশে রাখা দাদির বাটা থেকে এক খিলি পান সেজে দিত ফুফু, এমনিতে যে পান খায় না, সেও খেত সেই সময়। পানের খিলি মুখে নিয়ে যে বসত সেও একসময় হাঁক দিত, কই গো, আরেকখান ছরতা দ্যাও দেহি। এক সময় দেখা যেত, আট-দশজনায় বসে সুপুরি কাটছে। পাশেরজন কেমন কাটছে সেদিকে খেয়াল থাকত সকলেরই, নিজের কাটা সুপুরি যেন মোটা না হয়ে যায়। সমস্ত সুপুরি কাটা হয়ে গেলে বেতের ডালায় করে রোদে শুকিয়ে নিয়ে কৌটোয় ভরে রাখা। এখন চলবে কয়েকমাস এই সুপুরি দিয়ে, বড়ফুফু আরেকবার বাপের বাড়ি বেড়াতে আসা অব্দি..

আমরা, ছোটরা দাদির মুখের চিবুনো পান খেতাম। অনেকক্ষণ ধরে চিবিয়ে চিবিয়ে পান খেত না দাদি। খানিকক্ষন চিবিয়ে রসটা খেয়ে নিয়ে পানটা হাতে নিয়ে আওয়াজ দিত, পান কেডা খাইবি আয় বলে। ততক্ষণে পানের রসে টুকটুকে লাল হয়ে যেত দাদির দুই ঠোঁট আর ঠোঁটের কষ। একটা দুটো হাত সঙ্গে সঙ্গেই এগিয়ে যেত সেই চিবুনো পান খাওয়ার জন্যে। সকালের নাশ্‌তা বা দুপুরের খাওয়া বা বিকেলের চায়ের পরে আব্বা যখন বারান্দায় দাদির বেতের সোফার পাশে দ্বিতীয় সোফাখানিতে গিয়ে বসত, তখন একখিলি করে পান এগিয়ে দিত দাদি। মায়ের পাশে বসে গল্প করতে করতে পান চিবুতো আব্বা..

একটা সময় এল, যখন দাদি আর সাজা পান চিবিয়ে খেতে পারে না। হামানদিস্তায় থেঁতো করে নিত। মজাটা হল, আব্বার তো দাঁত ছিল কিন্তু আব্বাও নিজের পান হামানদিস্তাতেই দিয়ে দিত, ছেঁচা পান দুজনে মিলে ভাগ করে খেত। দাদি নেই, এখন আর আব্বা পান খায় না কিন্তু মাঝে মধ্যেই দাদির পেতলের পানের বাটা আর সেই হামানদিস্তার খোঁজ করে। বলে, বাটা আর হামানদিস্তাখান থাকলে পান খাওন যাইত! যেন অন্য কোনো বাটা-হামানদিস্তায় থেঁতো করা পান খাওয়ারই যোগ্য নয়..

আজ সকালে আব্বার সঙ্গে কথা হল। অনেকদিন পরে কথা হল আব্বার সঙ্গে। আজকাল আমি বেশি ফোন করি না আব্বাকে। ফোন করলেই জানতে চাইবে কেমন আছি, কী বৃত্তান্ত। অসুখের কাহিনী বলে আব্বার চিন্তা বাড়াতে চাই না কিন্তু ভাল আছি বলে কাটিয়ে দিতে চাইলেও আব্বা ঠিক ধরে ফ্যালে তাই ফোনই করি না এখন আর। বোন জানায় আম্মা নাকি অসুস্থ। খানিক এটা সেটা গল্প করে আব্বা বলে, বাড়ি চলে এস মাস কতকের জন্যে, আমার কাছে এসে থাক, চাঙ্গা হইয়া যাইবা, এখন তো ব্যারাইম্যা মুরগির মতন ঝিমাইতাছ। বলি, আব্বা, কয়েক মাসের জন্যে চলে গেলে আমার পোলায় কী করবে? প্রায় রেগে গিয়েই আব্বা বলে, পোলায় বড় হইসে না? তুমি আইয়া পড়। বোঝানোর চেষ্টায় ক্ষ্যামা দিই, বলি, হ, মিষ্টি আইয়া ফেরত গেলে পরে দেখি যাইতে পারি কিনা..

বেশিদিন হয়নি বাড়ি থেকে ঘুরে এসেছি কিন্তু আব্বার এই বাড়ি যেতে বলার বেশ আগে থেকেই মন বড় অস্থির হয়ে আছে, কয়েকমাস না হোক, কিছুদিনের জন্যে অন্তত যেতে পারলে সত্যিই ভাল হত.. সবকিছু, সমস্তকিছু থেকে দূরে, অনেকটা দূরে, বাপ আর মায়ের কাছে, বারান্দায় আব্বার হাতলওয়ালা চেয়ারের পাশে মোড়ায় বসে পানের বাটা আর হামানদিস্তা নিয়ে আব্বার আর নিজের জন্যেও পান থেঁতো করে খেতে খেতে গল্প করলে হয়ত এই অ-সুখও সেরে যেত..


ছবি-গুগল হইতে

Friday, May 11, 2012

যন্ত্রণার দিনগুলিতে..

বেশ কিছুদিন বাড়ি থেকে বেরুইনি। বাইরের পৃথিবী বলতে এক জানালা আকাশ, চিলতে বারান্দার ওধারের বাতাসে তালপাতাদের দোল খাওয়া, দক্ষিণের জানালার ওধারে একতলা বাড়িটির ছাদে নাইটি পরা কিশোরী মেয়েটির যখন তখন ঘোরা ফেরা, খানিক দূরের তিনতলা বাড়িটির উপর এক ছাদ ভর্তি পায়রা। অতিথি বলতে মাঝে মধ্যে রান্নাঘরের একপাটি খোলা জানালা দিয়ে খাবারের খোঁজ বা জলতেষ্টায় ঢুকে পড়া একটা কাক। কদাচিৎ একটা টুনটুনির ত্বরিৎ এঘর ওঘর ওড়াওড়ি আর তারপর আবার পালিয়ে যাওয়া। 

তিনখানা পুকুরের মাঝেরখানি বুজিয়ে যেদিন থেকে চারতলা বাড়িটা উঠতে শুরু করল, সেদিন, ঠিক সেদিন থেকেই বন্ধ হয়ে গেল আমার পশ্চিমের জানালাখানি। বন্ধ জানালার ওপাশে হারিয়ে গেছে আমার অলস দুপুরে পানকৌড়িদের খেলা, দূর দূরান্ত থেকে উড়ে আসা সব পাখিদের কিচির মিচির, নাম না জানা কিন্তু ভীষণ পরিচিত সেই ঝাঁকড়া গাছটা, যাতে বছরের নির্দিষ্ট একটা সময়ে ছোট ছোট ফিকে কমলা রঙা ফুল ফুটে ঢেকে দিত সব পাতাদের, কত, কত্ত সব পাখিদের অস্থায়ী বসত ছিল সেই গাছটা। অপেক্ষার জেগে থাকা গহীন রাতগুলোতে টিমটিমে হলদে রাতবাতিতে ফিকে আঁধার জমা নিস্তরঙ্গ পুকুর, নৈঃশব্দকে ভেঙে দিয়ে পুকুরের ওধার থেকে ভেসে আসা টিভি বা রেডিওর আওয়াজ আর আরো, আরও কত কী..

০২
ফেরেশ্‌তা আসিয়া যখন জিজ্ঞাসা করিবে..
সেদিন সন্ধেবেলা শুয়ে শুয়ে হঠাৎ করে চোখের সমুখে কবর দেখতে পেলাম। পরিচিত এক কবরস্থান, বাঁশের ঝাঁড় আর সদ্য খোড়া এক কবর। সদ্য কাটা বাঁশ, নতুন কিনে আনা যেন তেন করে বোনা চাটাই আর এক চিরকালীন শয্যা। প্রচণ্ড ভয় পেলাম, বেশ জোরে, অজান্তেই বলে উঠলাম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহহু.. স্বপ্ন নয়, জেগেই ছিলাম। পিঠে ব্যথা নিয়ে সারাদিন শুয়ে থাকতে হলে ভর সন্ধ্যেয় কারই বা ঘুম পাবে! উঠে দাঁড়াতে গিয়ে আবারও শুয়ে পড়ি, বাবুকে ডাকি, মনেই থাকে না যে, বাবু নেই বাড়িতে। বেশ অনেকক্ষণ ধরে থাকে সঙ্গে সেই কবর। দাদির কথা মনে পড়ে, কত কথাই না বলত দাদি আমার এই কবর নিয়ে। রোজ ভোরবেলায় ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বেরিয়ে প্রথমেই যেত পাড়া পেরিয়ে পূবের পুকুরের দখিণপাড়ের কবরস্থানে, ক্ষণিক দাঁড়িয়ে থাকত পারিবারিক এই কবরস্থানের সমুখে, ধীরপায়ে হেঁটে বাড়ির দিকে ফিরত ঘুম ভাঙা বসতির মধ্যে দিয়ে। রোজ কেন কবরস্থানে যায় জানতে চাইলে বলত, ‘আসল বাড়িডা একবার কইরা দেইখ্যা আয়ি রোজ!’ অন্ধকার এক চিপা ঘর, তাতে আলো জ্বালবে শুধু তোমার কর্ম। স্বজনেরা যখন কবরে শুইয়ে দিয়ে ফিরে আসবে তখন ফেরেশ্‌তা এসে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, কৃতকর্মের হিসেব নেবে। ঈমানদার নেক্‌ বান্দাকে ফেরেশতারা সঙ্গ দেবে, আলোকিত আর সুখকর করে রাখবে কবরকে, নইলে সর্প আর বিচ্ছুতে ভরা শাস্তিময় চির অন্ধকার..

সন্ধে হয়েছে অনেকক্ষণ, কিন্তু আলো জ্বালা হয়নি। মাগরেবের আজানের আগেই তো সুইচ টিপে আলো জ্বালিয়ে দিতে হয়, অথচ আমার গোটা বাড়ি অন্ধকার। আলো বলতে শুধু ছিটকে আসা উড়ালপুলের মৃত, হলদে রাতবাতির কিছুটা আভা আর এবাড়ি ওবাড়ির জ্বলে ওঠা সন্ধেবাতির রেশ- যাতে আমার ঘরের আঁধার খানিকটা ফিকে..শব্দ বলতে কারও একটা দেরিতে দেওয়া সন্‌ঝা-র শাঁখ..

০৩
কুচো কুচো করে কাটো বিরক্তি সব
দুপুরবেলায় বিরক্তি পেয়ে বসে। বিরক্তিটা নিজের উপর, এই শরীর খারাপের উপর, এই শুয়ে থাকার উপর এবং এই যন্ত্রণার উপর তো বটেই। একটা সময় বিরক্তিটা রাগে গড়ায়, অসহ্য রাগ হয়। দু’দিন ধরে বাবু একটা ওষুধ খুঁজে বেড়াচ্ছে, পাওয়া যাচ্ছে না সেটা কোথাও। আগেরদিন ধর্মতলা আর পিজি হাসপাতালের আশে-পাশের প্রায় সবকটা ওষুধের দোকান খুঁজে যন্ত্রণাহারক বস্তুটি না পেয়ে সে ডাক্তারবাবুকে ফোন করে অন্য কোনো ওষুধের নাম বলে দিতে বললে তিনি বলেন, আমার পেশেন্টের এই ওষুধটাই লাগবে। দুটো জায়গার নাম বলে দিয়ে বললেন, সেখানেও যদি না পাওয়া যায় তখন যেন আরেকবার ফোন করে, তারপর তিনি অন্য ওষুধ বলবেন! পরদিন দুপুরের রোদ খানিকটা পড়লে বাচ্চা আমার আবার বেরোয় ওষুধের খোঁজে। 

বিরক্তিটা ততক্ষণে মেজাজ খারাপে পরিণত। এতদিন- বলা ভাল, এত মাস ধরে ওষুধ খেয়েই যাচ্ছি, কি লাভ হচ্ছে তাতে? কি হবে আর যদি না খাই? ঠিক করে ফেলি, আজ থেকে আর ওষুধ খাব না। বাবুকে ফোন করে বলি, ওষুধ কিনতে হবে না, তুমি ফিরে এসো। ছেলে অবাক হয়, কেন! আরে তুমি ঘাবড়াচ্ছ কেন, আমি ওষুধ না নিয়ে আজ ফিরবই না। বললাম,  কী লাভ হচ্ছে এত ওষুধ খেয়ে খেয়ে, আমি আর ওষুধ খাব না, আজ থেকে সব ওষুধ বন্ধ। বাবু বলে, হ্যাঁ, এখন আমার দু’মাস ছুটি, তুমি সেই ছুটির বারোটা বাজিয়ে আমাকে ভালমতন ভোগানোর প্ল্যান করেছ তো? চুপচাপ শুয়ে থাকো! 

আবার ফোন। এবার উমা। প্রসঙ্গও অন্য। কি হবে আমি যদি এখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাসস্টপে যাই আর তারপর বাস ধরে কোথাও একটা যাই? যেখানে ইচ্ছে, সেখানে? ক্ষণিক চুপ থেকে সে বলে, কীই আর হবে, কিস্‌সু হবে না, বেরিয়েই পড় ইচ্ছে হলে, তবে বাসে উঠিস না, একটা গাড়ি ডাক, যেখানে যেতে ইচ্ছে করছে ঘুরে আয়, নাহয় আমার বাড়ি চলে আয়। গাড়ি! যেন সে চালকসমেত দাঁড়িয়েই আছে আমার দোরগোড়ায়, ডাকলাম আর চলে এল!  আবার খানিক চুপ থেকে উমা গল্প করতে শুরু করল, নানান গল্প। ভোর চারটেয় ঘুম থেকে উঠে যে ব্যক্তি নিত্য কাজ সেরে সাড়ে ছটায় স্কুলে ঢুকে সই করে, সে যদি শেষ দুপুরের বিশ্রামের সময় ফোন ধরে ওসুস্থ বন্ধুকে স্কুলের অন্য টিচারদের গল্প শোনায়, তখন বুঝে নিতে হয়, ফালতু রাগ করছি, কোনো অর্থ নেই এর..

০৪
মেঘের কোলে রোদ আজও হেসে যায়
দিন কতক আগে ইন্দ্রাণী, আমার আই-মশাই একটা ছোট্ট চিঠি লিখেছিল, তাতে লিখেছিল কতকাল তোমার লেখা পড়িনি বলো তো.. সত্যিই তো, কতকাল কিছু, কিচ্ছুটি লিখিনি। আই-মশাইয়ের কথা মনে পড়ার কারণ, পঁচিশে বৈশাখে তার একটা পুরনো লেখা আবার করে সামনে আসা, সেদিন নয়, সেদিন সেই লেখা বসে পড়তেই পারিনি, গতকাল শুয়ে শুয়েই লেখাটা পড়লাম। শুরুতেই সে লিখেছে, তার নাকি একটা ভিখিরির ঝুলি আছে, যেখান থেকে এই লেখাখানি সে আবার বার করেছে। আই-মশাই গো, ওরকম একটি ঝুলি যদি আমার থাকত, যেখান থেকে খুব বেশি নয়, ওইরকম দু-একটা লেখা অন্তত বেরুবে.

পঁচিশে বৈশাখ নিয়ে লেখা-র পাতা অনেকদূর এগিয়ে গেছে, বেশ কয়েক পাতা পিছিয়ে গিয়ে পড়তে হয়, পড়তে পড়তে আমি নিজেও চলে যাই ছেলেবেলার রবীন্দ্রনাথ-এর কাছে। কত কি, কত কী যে মনে পড়ে.. পড়ার শুরুতে মনে হয়েছিল, আমার এরকম কোনো পঁচিশে বৈশাখ বা ছেলেবেলার রবীন্দ্রনাথ নেই, থাকলে আই-মশাইয়ের মত না হোক, যেটুকু পারি, যেভাবে আমার কাছে আসে, সেভাবেই নাহয় লিখতাম! পড়া শেষ হয়, ভাবনা চলতেই থাকে, স্মৃতিরা কাছে আসে গুটি গুটি পায়ে, দেখতে পাই, নেই- কে বলেছে, আমারও তো আছে শৈশব আর কৈশোরে রবীন্দ্রনাথ! জীবনে প্রথমবার যেদিন স্কুলে যাই, প্রথমবার মাঠে দাঁড়িয়ে যখন জাতীয় সঙ্গীত গাই তখন থেকে, সেই মুহুর্ত থেকেই তো রবীন্দ্রনাথ..



আরেকটু লিখব হয়ত..

Thursday, April 26, 2012

সব চরিত্র কাল্পনিক

মাঝে মাঝে একটা ঘর দেখি দেখতে পাই। ঘর না, আসলে বাড়ি। পুরনো বাড়ি। পুরনো সেই বাড়ি। যেখানে জন্মান্তরে বসত ছিল আমার। বাড়িটা কেমন যেন পালটে পালটে যায়, ঘরগুলোও, এভাবে কখনও বাড়ি-ঘর পালটে পালটে যায়? কি জানি.. পালটে যায় দেওয়াল এমনকি পালটে যায় মানুষগুলোও। আমি মাঝে মাঝে যাই সেই বাড়িতে, যেমন আজ এসেছি।  কেন যে যাই নিজেও জানি না কিন্তু যাই, না গিয়ে পারি না বলেই যেন যাই সেখানে, জন্মান্তরে যেখানে বসত ছিল আমার। সেখানে এখন বাস করে অন্য মানবী, বাতাসে অন্য শিশুর কলতান। সেই মানবী বসে আনাজ কোটে, কেরোসিনের স্টোভে রান্না করে। এই স্টোভটা আমার চেনা। এর প্রতিটা সলতে আমার পরিচিত। চেনা এই আঙিনা, অচেনা শুধু ওই মানবী আর ওই শিশুটি। 

একটি পুরুষ আসে, একে আমি চিনি না। হঠাৎ করে সব কেমন অচেনা হয়ে যায়। ভয় লাগতে শুরু করে। বাড়ির দেওয়ালটাও হঠাৎই বদলে যায়। একটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা আঙিনা হয়ে যায় দেওয়াল ঘেরা ছোট্ট সেই উঠোন, যেখানে এক অপরিচিত নারী বসে আনাজ কোটে, রান্না করে আমার চেনা স্টোভে। আমার ভীষণ ভয় লাগে, আমি পালাতে চাই। জোরে হাঁটতে যাই, পারি না। প্রচণ্ড ভারী লাগে পা দুটো। দৌড়ুতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ি। অচেনা সেই পুরুষটি এসে আমার হাত ধরে, ফলাকাটা এক ছুরি দিয়ে চিরে চিরে দেয় আমার দুই হাত, কনুই অব্দি, কনুইয়ের উপরেও চিরে দিতে থাকে একের পর এক। খুব গভীর নয় সেই সব ক্ষত, যেন ছুরি দিয়ে সে নকশা কাটে আমার হাতে, রক্তের রেখায় ফুটে ওঠে রঙ। আমি কাঁদতে থাকি, যেতে দাও, আমাকে যেতে দাও -বলে অনুনয় করি, সে আমার হাত ছাড়ে না। রক্তের রেখা আমার দুই হাতে, অদ্ভুতভাবে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে থাকে সেই চেরা জায়গাগুলোর উপরেই, গড়িয়ে নামে না। নির্বিকার চিত্তে সেই অপরিচিত নারী আনাজ কোটে, শিশুটিকে ডাকে। আমি তাকে বলি, আমাকে ছেড়ে দিতে বলো, আমার ভয় করছে, আমি বাড়ি যাব। সে হাসে, বলে, বাড়ি? তোমাকে তো ও বাড়ি যেতে দেবে না, একবার পালিয়ে গেছ, আর তোমাকে পালাতে দেবে না ও।

বাঁশের বেড়ার ওধারে কার যেন সাড়া পাই, তাকিয়ে দেখি ভীষণ চেনা দুটো মানুষ। ভারী, প্রায় অচল হয়ে যাওয়া পায়ে দৌড়ুনোর চেষ্টা করি, পারি না, তাও একসময় পৌঁছেই যাই বাঁশের গেটের কাছে, যেখানটায় গেটের বাইরে  আমার ভীষণ চেনা মানুষ দুটো দাঁড়িয়ে আছে। আবার হুট করে সব পালটে যায়।  সামনে সেই দেওয়াল! পুরনো বাড়ির পুরনো সেই দেওয়াল, মাঝখানে সদর দরজা। পুরনো কাঠের নড়বড়ে সেই সদর দরজায় শেকল তোলা, পেছন ফিরে তাকাই, ওই অচেনা মানুষটাকে হঠাৎ করেই চিনতে পারি, এ যে ভীষণ চেনা এক মুখ! শেকল নামিয়ে আধভাঙা নড়বড়ে দরজা পেরিয়ে আবার তাকাই পেছন ফিরে, পেছনে যারা আছে, তারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। শিশুটি একই ভাবে খেলে বেড়ায় আঙিনা জুড়ে, বটিতে আনাজ কোটে এক অপরচিত নারী, পাশে রাখা স্টোভে রান্না হয়, ঘরের দরজা পেরিয়ে যে সিঁড়ি তাতে বসে এক অচেনা মানুষ, যাকে আমি কোনোদিন দেখিনি, যাকে আমি চিনি না..

Monday, April 23, 2012

Family looks for cancer funds

Family looks for cancer funds
- Nine-year-old boy advised stem cell transplant after relapse
Shrotrik Dasgupta, 9, can probably count the days he has been well and fit to go to school or play with friends in the last three years since he was diagnosed with blood cancer.
But Shrotrik kept his chin up through the painful treatment from January 2009 to December 2011 and even managed to secure 85 per cent marks in his Class III final examinations despite being irregular at school. Just when things had started looking up for Shrotrik and his family, residents of Dum Dum, the symptoms of his ailment returned and doctors diagnosed a relapse of acute lymphoblastic leukemia (ALL) in late February this year.
“ALL is a form cancer, where the white blood cells turn malignant and overproduce in the bone marrow so that the normal cells get crowded out. These WBCs then spread to other organs,” said Revathy Raj, paediatric haematologist at Apollo Hospital, Chennai, who is treating the boy. “There was a 70 per cent chance that Shrotrik would be absolutely cured after the three years of treatment. But unfortunately he turned out to be among the 30 per cent who have a relapse.”
Doctors advised stem cell transplantation as the only cure but there was no match in the family. The search had to be taken abroad and three matched donors were finally located in the US, but this would send the cost of treatment spiralling.
The boy’s grandfather, Bhabotosh Bhattacharjee, has already spent Rs 16 lakh on his treatment with some contribution from his mother Sanchita, a teacher of Taki SL Girls’ High School, and father Saibal, an LIC agent. Drained of all resources, procuring another Rs 50 lakh is proving a Herculean task for the family.
Desperate, Sanchita joined Facebook last month and posted an appeal (http://www.facebook.com/profile.php?id=100003698598310). The response has been encouraging — Rs 7 lakh has already been collected and Rs 3 lakh more has been promised. Of this, Rs 1 lakh came from St. Stephen’s School, Dum Dum, where Shrotrik studies.
“The chemotherapy is over (the final dose was administered on January 6) and now is the time for the stem cell transplant if we can afford it. Doctors are advising us against any delay but our hands are tied,” said the boy’s mother, who is with him in Chennai.
“The procedure is best done as early as possible as Shrotrik is once more in remission but the problem will resurface. There is an immediate need for Rs 50 lakh, including Rs 5 lakh for the stem cells and Rs 10 lakh for medication. There is also the possibility of life-threatening fungal infection and anti-fungal agents are expensive,” the doctor said.