ইন্দোদাদার পরণকথার দেশ আর এক ঝিল পদ্ম...
বিদ্যাসাগর
সেতুর উড়ালপুলময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য, অজস্র ভাঙা কাঁচের টুকরোর উপর দিয়ে,
উড়ালপুলের চড়াই উৎরাই ভেঙে ইত্যাদি ইত্যাদি করে চার কিমি হাঁটলে তবেই পৌঁছানো যায়
এক বিলাসবহুল উদ্যানে। সেই উদ্যানের ভিতরে কোথাও
পথ বকুল বিছানো, যে পথে সে গিয়াছে চলে.. কোথাও নাম না জানা ফুলে চাপা
পড়ে যাওয়া সরু পিচরাস্তা তো কোথাও শুকনো পাতার মোটা গালিচা পাতা। যে পথে চলতে গিয়ে মনে পড়বেই শুকনো পাতার
নুপুরের কথা। নাম না জানা সব পাখির ডাক শুদ্ধ
করে দেয় কান, মন আর মস্তিস্ককে। ধবল বক এখানে
শুধুই মাছের আশে ধ্যানমগ্ন হয়ে জলের ধারে দাঁড়িয়ে থাকে না, তারা হেঁটে-চলে বেড়ায় গাছতলায়, মাঠে। গাছেদের থেকে রঙ নিয়ে ঝিলের জল এখানে
গাঢ় সবুজ। সবজেটে এই জলের আয়নায় প্রাচীন
গাছেদের প্রতিবিম্ব। মোরা আর জনমে হংস মিথুন ছিলাম… না... এই ঝিলে কোনো হংস মিথুন নেই। ...
এই
জলে, এই নি:ঝুম ধোয়া ধোঁয়া ভোরে এঁকে-বেঁকে এগিয়ে যাওয়া ঝিলের জলে থরে থরে ফুটে আছে
সব পদ্ম। লাল সাদা। দেখে কেমন ঘোর লেগে যায়। ওদিকে গুরুচণ্ডালীতে
ইন্দোদাদার পরণকথার দেশ আর এদিকে এক ঝিল পদ্ম।
০২
মনে পড়ে, মন পড়ে থাকে শালুক পদ্মের ফাঁকে ফাঁকে..
হাওড়ের
মাঝখান দিয়ে সদ্য হওয়া এক পিচরাস্তা, যে রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে পথে পড়বে দু খানা
নদী, যারা এখান দিয়ে, সেখান দিয়ে, মাঠ পেরিয়ে, বিল ছাড়িয়ে এগিয়ে গিয়ে মিশেছে মেঘনায়।
শুকনো মরশুমের শুকিয়ে থাকা বিলের ইতি উতি জমে থাকা জলে রাজহাঁসের দল। সাদা, ছাই
ছাই রঙা সব হাঁসের দল চড়ে বেড়াচ্ছে রাজকীয় মেজাজে। ছানা হাঁস, মা হাঁস, বাবা
হাঁসেদের সঙ্গে তাদের পাড়া-পড়শী আর আত্মীয় স্বজনেরা। খুঁটে খুঁটে খায় সব শামুক, চুনো মাছ। কেউ বা গলা
উঁচিয়ে রাজার মতই এদিকে ওদিকে সেদিকে চোখ চালিয়ে দেখে তাদের রাজত্ব। বর্ষার জল
নেমে যাওয়ার পরে বেরিয়ে এসেছে সব ফসলী জমি। সদ্য বোনা কচি ধানগাছেদের রঙ নরম আর
মোলায়েম এক সবুজ। কোথাও এখনও কিছুই লাগানো হয়নি, জমি শুধু চষে তৈরি করে রাখা। দূরে দূরে গ্রাম দেখা যায়, গাছ-গাছালীতে ঢাকা ছায়া সুনিবিড় সব গ্রাম। সন্ধে হলে যেখানে এখনও লম্ফ বা হ্যারিকেনের আলো জ্বলে। সেই সব গ্রামে এই দুই হাজার এগারোতেও বিজলীবাতি নামে কোনোকিছুর অস্তিত্ব নেই। বিলের
মাঝে বাথানে বাস করা রাখাল গরু-ছাগলের দলকে বিলে ছেড়ে দিয়ে শুয়ে-বসে অলস সময় কাটায়
ছায়া খুঁজে নিয়ে। বিলে ঘুরে বেড়ানো বেশিরভাগ হাঁসেদের ঠিকানা ওইসব বাথান। শুনশান
হাওড়। নতুন এই রাস্তায় গাড়ি চলে সারাদিনে হাতে গুনে কয়েকটা। মাঝে মধ্যে হুস হাস
শব্দে হাওড়ের এখানে সেখানে ঝিমুতে থাকা পাখা-পাখালীদের উড়িয়ে দিয়ে যায় মোটর বাইক। হাঁসেরা
ঘাঁড় বেঁকিয়ে তাকিয়ে থাকে শব্দের উৎসের দিকে।
বোধ
হয় বছরখানেক হয়েছে ইঁট বিছিয়ে বছরের পর বছর পড়ে থাকা এই সড়ক পাকা হয়েছে, মেঘনার এই
ছোট আর সরু দুই শাখানদী, বর্ষায় যাকে দেখলে মনে হয়- কূল নাই কিনার নাই অথৈ দইরার
পানি…
সেই ছোট্ট ছোট্ট দুই নদীর উপর কবে থেকে যেন সেতু বানাবে বলে খাম্বা গেড়ে রেখেছিল।
বহু বছর পর এই সেদিন সত্যি সত্যিই সেতু হয়েছে,
গুদারা ঘাটের গুদারা গুলো গেছে অন্য কোনো নদীতে, যেখানে এখনও সেতু হয়নি।
গুদারাঘাটের পাশেই ঘাট, ইঞ্জিনের নৌকোরা সব এখনও আছে, সকাল বিকেল তারা সওয়ারী তুলে
নিয়ে যায় কাছে দূরের সব গাঁয়ে, গঞ্জে, যেসব জায়গায় যেতে এখনও বাহন বলতে শুধু
নৌকাকেই বোঝায়। এই রাস্তার শেষে আছে এক গ্রাম, যেখানে আমার মামার বাড়ি। একসময় আম্মা
বাপের বাড়ি যেত শুধুমাত্র বর্ষাকালেই। নৌকায় চেপে। এই রাস্তায় রিকশা বা বেবি ট্যাক্সিতেও যাওয়া যেত,
কিন্তু সময় অনেক বেশি লাগত, আর যাত্রাও ছিল কষ্টকর, বর্ষাকালে ছইওয়ালা নৌকায় লোকে
এমনিও বেড়াতে যেত তো আম্মা যেত বাপের বাড়ি।
এবার
বাড়ি গিয়ে মামার বাড়ি একনজর দেখে আসার সাধ হওয়াতে আমরা দুই বোন রওয়ানা দিলাম
সিএনজিতে, নতুন রাস্তা দিয়ে, নতুন হওয়া সেতুর উপর দিয়ে। বিষন্ন মুখে আম্মা বলল, কই
যাইবা, ছাড়া বাড়ি ছাড়া ঘর… বাবলী, আমার বোন বলল,
চল না আপা, লংঘন নদী দিয়ে নৌকা করে আমরা বেড়িয়ে আসব আম্মার নানির বাড়ি পর্যন্ত,
ডাকবাংলার সামনে বসে চিপস আর চানাচুর খাব কোকাকোলার সঙ্গে! নদীর পাড়ে বসে
চিপস- চানাচুর- কোকাকোলা খাওয়াটা লোভনীয় অফার হলেও মামার বাড়ি থেকে একবার এমনি এমনি
ঘুরে আসাটা অনেক, অনেক বেশি আকর্ষনীয়…
০৩
আমারে
ছাড়িয়া রে বন্ধু কই গেলা রে…
শূণ্য
এক বাড়ি। উঠোনের উত্তরে আর দক্ষিণের ভিটেয় তালাবন্ধ সব শূণ্য ঘর। দক্ষিণের ভিটের
এই লম্বাটে হাফ ইঁটের দেওয়ালের উপর টিনের ঘরটা আমার মেজমামার। আমার মেজর মামার।
একাত্তরে মামার পোস্টিং ছিল পেশোয়ারে। পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে নিজের ভূমে এসে
যুদ্ধ করতে আদেশ দিয়েছিল সেনাবাহিনি। যুদ্ধে যেতে অস্বীকার করে চাকরী ছেড়ে দিয়ে
দেশে ফিরতে চাওয়ায় মামা বন্দী হয় সেখানকার জেলে। যুদ্ধ শেষ হয়। দেশ স্বাধীন হয়।
মামার কোনো খবর আসে না। আত্মীয়-স্বজনেরা মামিকে বলে বিধবার বেশ- সাদা কাপড় পরতে। শোকে-দুঃখে মাথা খারাপ হয়ে যাওয়া মামি আমার দৌড়ে বাড়ির
বাইরে বেরিয়ে যেত, রাস্তায় চলে যেত সাদা কাপড় দেখলে, পরনের কাপড় পড়ে থাকত পেছনে,
মামি দৌড়াত রাস্তায়। তিয়াত্তরের শেষের দিকে, যখন মামিও বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল
যে মামা আর নেই, মরে গেছে, মিশে গেছে পাকিস্তানের মাটিতেই সেই সময় একদিন মামা ফিরে
আসে। ছ’ফুট লম্বা সাজোয়ান মামা আমার প্রায় পঙ্গু আর কুঁজো অবস্থায় ফেরে। মামার
হাতে পায়ে একটাও নখ নেই, সমস্ত উপড়ে নিয়েছে খান সেনারা। সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারত না
মামা আমার। বছরখানেক বাড়িতে থেকে মামা আবার চাকরীতে ফিরে যায়। এবার বাংলাদেশ
সেনাবাহিনি। শারীরিক অক্ষমতার কারণে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ডেস্কে বসে কাজ করতেন
মেজর আকরাম হোসেন। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটত মামা। নানান রকম অসুখ বাসা বেঁধেছিল
শরীরে। একদিন রাতে বুকে ব্যথা শুরু হয়, হাসপাতালেও নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিজের
শরীরের সঙ্গে যুদ্ধে আর পেরে ওঠেনি মামা আমার। থেমে যায় ধুকপুকুনি। হাসপাতালের
মাটি চাপড়ানোর শব্দ জানান দেয়, মামা আর নেই…
নিয়ামুল,
মেজমামার ছেলে। সিলেটের এক চা বাগানে চাকরী করে। বাগানেই থাকে। অকালেই বুড়িয়ে যাওয়া সাদা চুলের সামসুন্নাহার, আমার মামার বড় আদরের নাহার সেখানেই থাকে ছেলে আর
ছেলেবৌয়ের সঙ্গে। এক নাতি আর এক নাতনি মামির। ঈদে-চান্দে তারা সবাই বাড়ি আসে, তালা
খোলে ঘরের, মামি তার ছেলের বৌকে নিয়ে ঘর-দোর-উঠোন সাফ সুতরো করে, দু-চারদিন থাকে
তারা বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজন আসে এবাড়ি-ওবাড়ি থেকে। মামি তাদের সঙ্গে গল্প করে,
যুদ্ধের গল্প, ‘তাইন’এর গল্প। নিয়ামুলের ছুটি ফুরোয়, ঘরদোর তালাবন্ধ করে তারা চলে
যায় সিলেটের কোনো এক চা বাগানে। আবার একবছরের জন্য…
০৪
আমার
সোনার ময়না পাখি, কোন দ্যাশেতে উইড়া গেলা রে, দিয়া মোরে ফাঁকি..
উঠোনের অন্যদিকের
দেওয়ালের উপর টিনের চালের বড় ঘরখানি বড়মামার। একটা ঘরের ভিতর তিনখানি ঘর, গ্রিল দেওয়া
বারান্দার ওধারে একটা ছোট উঠোন, উঠোন পেরিয়ে আরেকটা ছোট দালান, তাতেও তিনখানি ঘর,একটা
গ্রিল দেওয়া বারান্দা। সবকটা ঘর তালাবন্ধ। এই ছোট উঠোনের ধারে ধারে বড় বড় সব গাছ, প্রাচীন
আর বৃদ্ধ। নীরবে সব দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। উঠোনে সিমেন্টের বাঁধানো একখানি
বড় গামলা, এক সময় এই বাড়ির গরু বাঁধা থাকত এই গামলার ধারে। এখন সেই গামলার গায়ে শ্যাওলা, গামলা শূণ্য আর শুকনো। উঠোনের ধারে একটা শূণ্য ভিটে পড়ে আছে, আমি জানি, একসময় ওখানে গোয়াল
ঘর ছিল।
বড় মামার মেজছেলে,
বছর সাতেক বয়েস ছিল তার, বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে গিয়ে মারা গিয়েছিল। ঠিক সাত বছর
পর মামার একমাত্র মেয়ে, তারও বয়েস ওই বছর সাতই ছিল, ছোট্ট কলসিটি হাতে নিয়ে কলতলায়
গিয়েছিল খাওয়ার জল আনতে। অনেকক্ষণ ধরে ফিরছে না দেখে মামি দৌড়ে গিয়ে পুকুরপাড়ে দাঁড়ায়,
নিথর শান্ত জল পুকুরের। এদিক ওদিক কোনোদিকে না তাকিয়ে মামি সোজা নেমে যায় পুকুরে। বাড়ির
অন্যেরা তখন রীতাকে এদিক ওদিক খুঁজছে। মামারও বোধ হয় মনে কু ডেকেছিল, সঙ্গে সঙ্গেই
জাল নিয়ে পুকুরে নেমে পড়ে। বেশিক্ষণ লাগেনি মেয়ের নিথর দেহ তুলে আনতে। ঠিক সাত বছর আগে এভাবেই
তুলেছিল ছেলের লাশ। মামি পাগলের মত শরীরের উত্তাপ দিয়ে ছেলের শরীরের প্রাণ ফিরিয়ে আনার
চেষ্টা করেছিল। গোটা শরীরে ছাই মাখিয়ে দিয়েছিল শরীর গরম হবে বলে.. মেয়েকে মাটি দিয়ে মামা এসে
দেখে বড়ছেলের হাত ধরে মামি হেঁটে রওয়ানা দিয়েছে চল্লিশ মাইল দূরের বাপের বাড়ি যাবে
বলে।
মামার সরকারি
চাকরী ছিল পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে। গ্রামের লোক, আত্মীয়-স্বজন সবাই বলল, ফ্যামিলি প্ল্যানিং
এর চাকরি করে বলে এভাবে নিজের ছেলে-মেয়ে সব মরে যাচ্ছে। চাকরী ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শও
এল অনেক। বছরখানেক মামি বাপের বাড়িতেই ছিল, তারপর শহরে চলে যায়, মামার চাকরির জায়গায়।
সেই যে গেল, মামি আর ফেরেনি এই বাড়িতে। এখন, মাঝে-মধ্যে বাড়িতে আসে দু-চারদিনের জন্য,
ঈদে বা এমনি দিনে। মামা অবসর নিয়েছে অনেকদিন, বড়ছেলে-বৌ আর দুই নাতনিকে নিয়ে তারা সকলেই
শহরবাসী।
বাড়ির সীমানার
দর্মার বেড়া ভেঙে পড়ে গেছে অনেককাল। শ্যাওলায় ঢাকা স্যাতসেতে উঠোনে বড় বড় লাল-কাল পিঁপড়ের
দল ঘুরে বেড়ায় নির্বিঘ্নে, নিশ্চিন্তে। বাড়ির পাহারাদার, একসময় যে এই বাড়ির জমি-জিরেত
দেখাশোনা করত, সন্ধেবেলায় এসে বারবাড়িতে, ভেতরের বড় উঠোনে আর পেছনের ছোট উঠোনে আলো
জ্বেলে দিয়ে যায়, নিজে বসে থাকে বারবাড়ির বৈঠকঘরে, রেডিও শোনে, পাড়ার দু-একজন আসে, গল্পগাছা
হয়, এশার আজান হলে সবাই যে যার বাড়ি চলে যায়, পাহারাদার শুধু থেকে যায় বারবাড়ির এই
বৈঠকে।
০৫
পরিবর্তনের
হাত ধরে মানুষ এখন প্রবল রবীন্দ্রভক্ত। নদীর
এপারে, আমার বাড়ির আশে পাশের সবকটি কালীপুজার মন্ডপে উত্তাল আইটেম সঙ-এর বদলে মাইকে বাজছে রবীন্দ্রনাথের গান। বিকেল
থেকে মাঝরাত্তির অব্দি। নো নাচনা। নো হিন্দি গানা। ঘুম না আসা রাতে মাইক থামতে কানে আসে বাঁশীর
সুর। দোতলার ডাক্তারদাদা বাজাচ্ছেন। শুনশান
রাত, কালীপুজোর আগের রাতে কোনো বাজি পটকা
কিসসু নেই। বাঁশী বাজে গহীন রাত অব্দি। মাঝে
মধ্যে বোধ হয় হাতবদলও হয়েছে বাঁশী, হবু ডাক্তার ওংকার। সামনে বসে কখনও শোনা হয়নি এই বাঁশী। একটু
গভীর রাতের দিকে জানলার ধারে বসলে প্রায়শই কানে
আসে বাঁশীর সুর। কখনও বা সন্ধেবেলায় বা হঠাৎ কোনো দুপুরবেলাতেও বাঁশী শোনা যায়। বড়
মিঠে বাজান ডাক্তারদাদা…
০৬
উদ্যানে
সকালের বেড়ানো শেষে গেটের বাইরে এসে বাচ্চা’র চায়ের দোকানে চা খেয়ে দাম দিতে গিয়ে
যে দশ টাকার নোটটি হাতে এল, তাতে কেউ একজন নীল কালিতে লিখে রেখেছেন মিট মি
এট- পরের অংশটুকু আবার হয়ত অন্য কেউ একজন
কেটে দিয়েছেন। এমনভাবে কাটা যে পড়ার উপায় নেই। নোট প্রসঙ্গে মনে পড়ল দিন কতক আগে
আমি একখানা পাঁচশত টাকার নকল নোটের মালিক হয়েছি। কোথা থেকে, কিভাবে আমার হাতে এসে
পড়ল সে ঠিকঠাক মনে নেই। অবশ্য মনে আর ঠিকঠাক কোন জিনিসটা থাকে আমার! মন তো বেভুল
হয়ে পথ হারিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছে বিগত দুই জনম আগে। বলছিলাম নকল পাঁচশতি নোটখানার
কথা। সম্ভাব্য যেই জায়গা থেকে নোটখানি এসেছে সেখানে গেল নোটখানি। কিন্তু তিনি খুব
সঙ্গত কারণেই মালিকানা অস্বীকার করলেন। ফলত: আমি একখানা পাঁচশত টাকার নকল নোটের
চিরকালীন মালিক হলাম। টাকা-পয়সা যতই খরচ করি, সর্বস্ব খরচ করে ফেলি না কেন, এই
নোটখানি কমসে কম আমার কাছে থাকবেই থাকবে। সেই কৌন বনেগা কড়োরপতিতে অমিতাভ বচ্চন
বলেন না? কম সে কম আজ আপ ইহাসে -----রুপাইয়া লেকর হি জায়েঙ্গে। ঠিক সেই রকম!
ছোট
সাদা বাস দেখা যায়, গুমটি থেকে বেরিয়ে গুটি গুটি এগিয়ে আসছে, আমিও এগোই, ঘরে ফেরার
সময় হল…
------
কালীপুজোর সময়কার লেখা, আরও খানিকটা লেখার ছিল, আছে বলে খসড়ার খাতায় ছিল। আজ তুলে দিলাম, পরে কখনও বসব আবার এটা নিয়ে..